আযানের দোয়া

আযানের দোয়া : দৈনিক পাঁচবেলা ডাক এসে থাকে আল্লাহ এর ঘর সেই মসজিদ থেকে। যাকে আমরা আযান বলি। সেনাবাহিনীতে বিউগল পড়লে যেমন কাজে যাওয়া বাঞ্চনীয় তেমনি আযান দিলেও নামাজে যাওয়া সবার জন্য ফরজ। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই একজনকে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ এর সুযোগ করে দেয়।আযানের দোয়া
তবে আযান দেয়ার সময় এবং আযান দেয়ার পর, মোটকথা নামাজে যাওয়ার আগে আযান এর জন্য আমাদের উপর কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। Read more:>> ঘুমানোর দোয়া

আযানের দোয়া

রাসুল(সঃ) এর সুন্নাহ যারা মানতে চান বা আল্লাহ এর আদেশ কড়াকড়িভাবে নিজের জীবনে প্রতিস্থাপন করতে চান তাদের জন্য এগুলো মেনে চলা অতীব প্রয়োজনীয়।

১. আযানের পরে যে দোয়া পড়তে হয়:

ছোট ছোট কিছু আমল করেই আপনি নাযাতের রাস্তা পেয়ে যেতে পারেন কেননা রাসুল(সঃ) এর একটি হাদিস এসেছে এমন যে, ‘ ইবাদতে একনিষ্ঠ হলে ব্যক্তির অল্প আমলই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’
আযানের পরে দোয়া পড়া রাসুল(সঃ) এর একটি সুন্নত। অথচ আজ তা অজানা। রাসুল(সঃ) মুয়াজ্জিনের আযান শেষে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ার জন্য বলেছেন,

Read More >>  ইসলামিক বাণী ও উক্তি

« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺪَّﻋْﻮَﺓِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻤَﺔِ، ﺁﺕِ ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﺍﻟْﻮَﺳِﻴﻠَﺔَ
ﻭَﺍﻟْﻔَﻀِﻴﻠَﺔَ، ﻭَﺍﺑْﻌَﺜْﻪُ ﻣَﻘَﺎﻣَﺎً ﻣَﺤﻤُﻮﺩﺍً ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻭَﻋَﺪْﺗَﻪُ، ‏[ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺎ ﺗُﺨْﻠِﻒُ ﺍﻟْﻤِﻴﻌَﺎﺩَ ]».

বাংলা উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম
মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।

বাংলা অর্থ : “হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত
স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।”(বুখারী ১/২৫২,নং ৬১৪)

ফজিলতঃ রাসুল(সঃ) এর একটি হাদিসে তিনি নির্দেশ করেছেন,
আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে তোমরা নিজের জন্য দোয়া করবে। কেননা ঐ সময়ে দোয়া কবুল করা হয় ।” [তিরমিযী, নং ৩৫৯৪; আবূ দাউদ, নং ৫২৫; আহমাদ, নং ১২২০০;]

এছাড়াও ছোট ছোট এমন অনেক উপায় আমাদের অজানা। আযানের এর পরে দোয়া পড়াও ঠিক তেমনি হয়ে গিয়েছে।

Read More >>  স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা

হাদিসে বর্ণিত আছে যে,

হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি মুয়াজ্জিনের আজান শুনে বলবে-

وَ اَنَا اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ – وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ – وَ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ – رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا – وَ بِالْاِسْلَامِ دِيْنَا – وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلَا

উচ্চারণ : ওয়া আনা আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু, রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামি দিনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসুলান’ আল্লাহ তাআলা তার গোনাহ মাফ করে দেন।’ (তিরমিজি, মুসলিম, ইবনে মাজাহ)

২. আযানের উত্তর দেয়ার নিয়মঃ

আযানের উত্তর দেয়া অন্যতম একটি সুন্নাত। তবে আমাদের অনেকেই এর সম্পন্ধে জ্ঞাত নই। নিম্নোক্ত ব্যাখ্যাটি দেখলে আশা করি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বলবে।

فى الهندية: ويجب على السامعين عند الاذان الاجابة، وهى ان يقول مثل ما قال المؤذن الا فى قوله حى على الصلاة حى على الفلاح، فانه يقول مكان حى على الصلاة لا حول ولا قوة الا بالله العلى العظيم…… وكذا فى قول المؤذن الصلاة خير من (১/৫৮النوم لا يقول السامع مثله ولكن يقول صدقت وبررت، (الفتاوى الهندية-

Read More >>  নামাজ নিয়ে উক্তি

অথাৎ, যারা আযান শুনতে পাবে তাদের জন্য আযানের জবাব দেয়া অতীব জরুরী। মুয়াজ্জিন যেভাবে বললে শ্রবনকারীও তার মতই বলবে। তবে শুধুমাত্র হাইয়্যা আলাস সালাহ ( حَيَّ عَلَى الصَّلَاة) ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ (حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ ،) বলার ক্ষেত্রে জবাবে লা-হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম ( لا حول ولا قوة الا بالله العلى العظيم) বলবে। তেমনি ভাবে মুয়ায্যিন যখন الصلاة خير من النوم বলবে তখন ছাদাকতা ওয়া বারারতা ( صدقت وبرر) বলবে। (ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়্যা ১/৫৮)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *