নৌকা ভ্রমন রচনা

ভূমিকাঃ
“বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি।
দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু,
কত-না অজানা জীব কত-না অপরিচিত তরু।
রয়ে গেল অগােচরে।”
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

মানুষ হিসেবে অজানা কে জানার জন্য আমাদের আগ্রহ অনেক, অনন্ত উৎকণ্ঠা।আর সেই অভাব পূরণ করার জন্য আমরা ভ্রমণ করি। তাই অজানাকে জানার জন্য পৃথিবীর দুয়ার খুলে বেরিয়ে পড়ি বিভিন্ন যায়গা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। ভ্রমণ করে আমরা লাভ করতে চাই প্রকৃত আনন্দ।ভ্রমন যে আমাদের শুধু আনন্দ দেয় তা কিন্ত না।ভ্রমনের ফলে আমাদের জ্ঞানের পরিধিও বৃদ্ধি পায়।প্রতিদিনের জীবনে নানান ঝামেলা ঝঞ্জাট ইত্যাদি লেগেই আছে। আমরা এরকম একভাবে প্রতিদিনের নিয়ম মাফিক কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।আর তখনই আমাদের দেহ মন চায় একটু প্রশান্তি যা একমাত্র ভ্রমণের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আমাদের দেশ নদীনালা খাল বিলে পরিপূর্ন। বাংলাদেশকে বলা হয় নদী মাতৃক দেশ তাই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নৌকা ভ্রমণের কোন জুরি নেই।

ভ্রমণের কারণ : জীবনের এক ঘেয়েমী দূর করার জন্য মানুষ আনন্দ বিনােদনের জন্য ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। বাস্তব জ্ঞান লাভ করার একটি প্রধান মাধ্যম হলো ভ্রমণ। ভ্রমণ থেকে অর্জিত জ্ঞান আমাদের জীবনে স্থায়ী হয়। তাই মানুষ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে ভ্রমণে যায়।

Read More >>  বিদ্যা অমূল্য ধন ভাবসম্প্রসারণ

নৌকা ভ্রমনের অনূভুতি: আশ্বিন মাস, আবহাওয়া বেশ ভাল ছিল। তখন নদীও খুব শান্ত। স্কুলে ও পূজার বন্ধ পড়েছে।আমরা নৌকা যোগে মুন্সীগঞ্জ যাবার জন্য একটি নৌকা ভাড়া করলাম। নৌকাটি তেমন বড় নয় কিন্তু খুবই সুন্দর ছিল। নৌকায় ছিল দুই জন মাঝি। আমরা ঠিক করলাম রবিবার সকাল ৮.৩০ মিনিটে কালিগঞ্জ ঘাট হতে মুন্সিগঞ্জের পথে যাত্রা করবাে।

নৌকা ভ্রমনের বৰ্ণনা : আমাদের নির্ধারিত দিনে সকাল ৮.৩০ মিনিটের সময় আমরা নৌকাযােগে কালিগঞ্জ ঘাট হতে মুন্সীগঞ্জের পথে যাত্রা শুরু করলাম। আমি ক্যামেরা সঙ্গে নিলাম। আমাদের সঙ্গে রান্নার সরঞ্জামাদিও নিলাম। মাঝিরা নৌকার পাল তুলে দিল। আমরা নদীর ধারের দৃশ্যগুলাে উপভােগ করতে লাগলাম।মাঝিরা ভাটিয়ালী গান গাইতে লাগল। ছােট ছােট ছেলে মেয়েরা নদীর ঘাটে গােসল করছিল। জেলেরা নদীতে মাছ ধরছিল। বধূরা কলসি কাঁধে বাড়ি ফিরছিল এ সমস্ত দৃশ্যগুলাে আমি ক্যামেরায় বন্দী করলাম।মাঝিরা ভাটিয়ালি গান ধরলো।

আমরা সকলে মনের অজান্তেই তাদের গান আর নদীর সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে গেলাম। এদিকে বেলা দুপুর হয়ে আসছে।সবাই রান্নার কাজে লেগে গেল। নৌকা মুন্সিগঞ্জ ঘাটে এসে পৌছলাে। সবাই নদীতে গােসল সেরে নিলাম। তারপর মাঝিরা সহ একত্রে বসে খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই নৌকার মধ্যে একটু বিশ্রাম নিলাম। বিকাল ৪ টার দিকে আমরা মুন্সিগঞ্জের ভিতরে গেলাম ঘুরে দেখার জন্যে। মুন্সিগঞ্জের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আমরা খুবই আনন্দ পেলাম। অবশেষে নৌকায় ফিরে এলাম।

Read More >>  অধ্যবসায় রচনা

আবার আমরা কালিগঞ্জের উদ্দেশ্যে নৌকা ছাড়লাম।এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসতে শুরু করেছে। নদীর মাঝে মাঝিরা নৌকায় মাছ ধরার ব্যাস্ত। নদীর ভিতর অনেক দূরে নৌকায় হারিকেনের টিপ টিপ আলো চোখে পড়ছে।আবার মাঝে মধ্যে মাঝিদের গান ভেসে আসছে কানে।অবশেষে আমরা আমাদের আনন্দময় নৌকা ভ্রমণ শেষ করে রাত্রে কালিগঞ্জ ঘাটে পৌছালাম।আমরা মাঝিদের ভাড়া দিয়ে সবার জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এভাবে আমরা আমাদের আনন্দময় নৌকা ভ্রমণটি শেষ করলাম।

শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে নৌকা ভ্রমণ :আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ তাই বিনোদন এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য নৌকা ভ্রমণ হলো একটি আদর্শ উপায়। নৌকা ভ্রমণ শিক্ষার একটি অঙ্গ।নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা আমাদের এই সুন্দর দেশের প্রকৃতিক সৌন্দর্য গুলো অবলোকন করতে পারি।এছাড়াও নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে নানা এলাকা ও সেখানকার মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায়।আমাদের দেশে রয়েছে বিভিন্ন শ্রেনীর ও পেশার মানুষ।এদের মধ্যে অন্যতম হলো জেলে।যারা সারাদিন নদীর বুকে ভেসে বেড়ায় মাছ ধরার লক্ষে।আর এদের জীবন যাপন সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করা সম্ভব নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে।এছাড়াও পৃথিবীর অনেক বিচিত্র স্থান আছে, যা বই পড়ে জানা যায় না।বিশেষ করে নদী ও তার তীরবর্তী এলাকা। নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা তা সহজে জানতে পারি।

Read More >>  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রচনা

উপসংহার : বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নৌকা ভ্রমণ আমাদের দেশের ঐতিহ্য। নৌকা ভ্রমণে আমাদের মনে প্রশান্তি আসে। অন্যান্য ভ্রমণের তুলনায় নৌকা ভ্রমণ অনেক বেশি আনন্দদায়ক।মাথার উপরে সুবিশাল আকাশ চারিদিকে অথৈজল ফুরফুরে বাতাস এ যেন এক অন্য জগতে পদার্পণ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.