গ্রীন হাউজ রচনা

গ্রীন হাউজ রচনা

গ্রীন হাউজ কি:
গ্রীন হাউজ বলতে বোঝায় কাচের ঘর। শীতপ্রধান দেশগুলোতেও শাকসবজি এবং ফলমূল চাষ করার জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় কাচের তৈরি এক ধরনের ঘর । সূর্যের আলোর সাহায্যে এই ঘরের ভেতরে চাষ করা হয় সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল। গ্রীনহাউজ ছোট আকারের বারান্দা থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প কারখানার সমান ও হতে পারে।

গ্রীনহাউজ কিভাবে কাজ করে:
কাজ বা প্লাস্টিকের তৈরি এই ঘরের ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে কিন্তু সূর্যের আলো থেকে উৎপন্ন তাপ ঘরের বাইরে বের হতে পারে না। এই তাপশক্তি কাচের প্লাস্টিকের দেওয়ালে গিয়ে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় ঘরের ভেতরে ফিরে আসে যার ফলে বাইরের পরিবেশের তুলনায় ঘরের ভেতরের পরিবেশ অনেকটা গরম থাকে। আর এই গরম পরিবেশে উৎপন্ন করা হয় গাছপালা এবং সবুজ শাক-সবজি। যেহেতু শীতপ্রধান দেশ গুলোর আবহাওয়া শাকসবজি জন্মানোর জন্য উপযোগী নয় তাই এই পদ্ধতি অবলম্বন করে উদ্ভিদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়।

গ্রীন হাউস ইফেক্ট কি:
বায়ুমন্ডলে উপস্থিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন এবং অন্যান্য কিছু গ্যাস বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন স্তর অতিক্রম করে এর উষ্ণতা বৃদ্ধি করতে থাকে। কিন্তু এই উৎপাদিত তাপ যখন ট্রপোস্ফিয়ার থেকে পুনরায় বায়ুমন্ডলে ফিরে যেতে চায় তখন বায়ুমণ্ডলের স্তর দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রীন হাউস ইফেক্ট।

গ্রীন হাউস ইফেক্ট এর কারন:
পৃথিবীতে আগত সূর্যরশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের দ্বারা প্রতিফলিত হয় কিন্তু এর বেশিরভাগই শোষিত হয় পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা। বিকিরিত ইনফ্রারেড এর কিছু রেডিয়েশন মহাশূন্যে চলে গেলেও জলীয়বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেন পৃথিবী দ্বারা শোষিত হতে থাকে এবং এটি পৃথিবীর সমস্ত দেশগুলিতে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ আরো বেশি উষ্ণ হয়ে পড়ে।

গ্রীন হাউস ইফেক্ট শব্দটির উৎস নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে মনে করা হয় যে ফরাসি গণিতবিদ জোসেফ ফুরিয়ার সর্বপ্রথম গ্রীন হাউস ইফেক্ট শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

গ্রীন হাউস গ্যাস গুলি নিচে বর্ণনা করা:
কার্বন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, কঠিন বর্জ্য, গাছ এবং অন্যান্য জৈব পদার্থের দহন ও নির্দিষ্ট রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। জীবাশ্ম জ্বালানি এবং কল কারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ মোট গ্রীনহাউজ গ্যাসের প্রায় 65 শতাংশ।

মিথেন:
কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন এবং পরিবহনের সময় মিথেন উৎপন্ন হয়। এছাড়াও পচা ডোবায় এবং জমিতে পড়ে থাকা জৈব বর্জ্য পদার্থের পচনের মাধ্যমে মিথেন বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীতে মিথেন নির্গমনের হার প্রায় 16 শতাংশ।

নাইট্রাস অক্সাইড:
কৃষি এবং কল কারখানার পণ্য উৎপাদনের সময় জীবাশ্ম জ্বালানি ও কঠিন বর্জ্য পদার্থ এর মাধ্যমে উৎপন্ন হয় নাইট্রাস অক্সাইড যার নির্গমনের হার প্রায় 6 শতাংশ।
এছাড়াও হাইড্রোক্লোরিক কার্বন, সালফার এবং নাইট্রোজেন ট্রাইক্লোরাইড তরল গ্রীনহাউস গ্যাস হিসেবে বায়ুমণ্ডলের নির্গত হয়ে থাকে।

গ্রীন হাউস ইফেক্ট এর ক্ষতিকর প্রভাব:
বিজ্ঞানীদের গবেষণা মতে যেভাবে পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে একবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে গড় তাপমাত্রা প্রায় 3 থেকে 4 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়ে যেতে পারে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি সারা পৃথিবীতে গ্লোবাল ওয়ার্মিং নামে পরিচিত যা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এবং বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মরু অঞ্চলের বরফ গলে পৃথিবীর নিচু অংশগুলো প্লাবিত হবে খুব অচিরেই।

উপসংহার:
সার্বিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে আমরা যদি পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ কমাতে পারি তাহলে পৃথিবীপৃষ্ঠের উষ্ণতা কমে যাবে। আর যেহেতু সবুজ উদ্ভিদ, গাছপালা কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, তাই আমাদের পৃথিবী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।

মুজিবনগর সরকার রচনা

মুজিবনগর সরকার রচনা

ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুজিব নগর সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে দেশ পরিচালনা যুদ্ধের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন ও বিদেশি রাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা আদায়ের জন্য। ১০ এপ্রিল এই মুজিব নগর সরকার সরকার গঠিত হয ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণার পর।এবং মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তারিখ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে। এই শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান করা হয়েছিল খুবই স্বল্প পরিসরে। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেশি বিদেশি ১২৭ জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মী। মুজিব নগর সরকারের শপথ ব্যাক্য পাঠ করেছিলে অধ্যাপক ইউসুফ আলী। মূলত মুজিব নগর সরকার গঠনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয় ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চ লাইট সংগঠিত হওয়ার পর থেকেই। ২৫ মার্চ কালো রাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান নেতা তাজউদ্দীন আহমেদ আত্ম রক্ষার জন্য নিজের বাসা পরিত্যাগ করেন। এবং এর পড়েই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কারন ও দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে অস্থায়ী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

মুজিব নগর সরকারের গঠন কাঠামো ও মন্ত্রী পরিষদ: মুজিব নগর সরকারের নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম অনুসারে। কারন শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। এই সরকারের প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলে তাজ উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়াও তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, তথ্য ও বেতার এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, অর্থনৈতিক বিষয়, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, সংস্থাপন ও প্রশাসন, শিক্ষা, স্থানীয় স্বায়ত্ত শাসন সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজ কল্যাণ সহ এ ছাড়াও যে সকল বিষয়ে মন্ত্রি পরিষদের দায়িত্ব অন্য কোন সদস্যকে দেওয়া হয়নি তার দায়িত্বে তিনি ছিলে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান তিনি এ সময়ে পাকিস্তানের কারা গারে বন্দী থাকার কারনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম-কে উপ-রাষ্ট্রপতি করা হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। অর্থ ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী, বাণিজ্য ও শিল্প এবং পরিবহন মন্ত্রী এম মনসুর আলী। এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন সরবরাহ এবং কৃষি মন্ত্রী নির্বাচিত হন। মুজিব নগর সরকার-কে মোট পনেরটি বিভাবে বা মন্ত্রণালয়ে ভাগ করা হয়।

মুজিব নগর সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য ও সূচনা : ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইটের রাতে যখন তাজউদ্দীন আহমেদ নিজ বাসভবন ত্যাগ করেন। এবং ৩০ মার্চ তারিখে তিনি পশ্চিম বঙ্গে পৌঁছান ফরিদপুর – কুষ্টিয়া পথে। এবং সেখান থেকে তিনি বিএসএফ এর কাছে মুক্তি যুদ্ধ এবং মুক্তি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের জন্য সাহায্য আবেদন করলে বিএসএফ প্রধান তাকে জানায় ভারত সরকারের অনুমতি ব্যাতিত কোন ভাবেই তাদের পক্ষে সাহায্য করা সম্ভব নয়। এ কারনে তিনি দিল্লি যান এবং ইন্দিরা গান্ধী ও তাজউদ্দীন আহমেদ – এর বৈঠক হয়। এক পর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন দেশের সরকার গঠন না হলে কোন দেশ থেকেই তারা প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কোন সহযোগিতা-ই পাবেন না। এ কারনে তিনি একটি অস্থায়ী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যার নাম দেওয়া হয় মুজিব নগর সরকার। মূলত এর থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, মুজিব নগর সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সহযোগীতা ও সমর্থন আদায় ও মুক্তিযুদ্ধ সঠিক ভাবে পরিচালনা ও নেতৃত্ব প্রদান।

যুদ্ধ কালিন সময়ে মুজিব নগর সরকারের ভূমিকা: মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময় মুজিব নগর সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারা স্বাধীনতা সংগ্রামকে গতিশীল করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এবং তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ ছিল বহির্বিশ্বের কাছে থেকে স্বীকৃতি আদায় করা। তবে আলাদা মন্ত্রণালয় হলেও প্রধান মন্ত্রী নিজেই সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করে এখানে। এরপরে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন খবরাখবর নিয়মিত প্রচার সহ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের গান ও অনুষ্ঠান নিয়মিত প্রচার করতে থাকে। যার ফলে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ।

উপসংহার: দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। তবে বিশ্বের অন্য কোন দেশ এতো কম সময় স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে নাই। এর থেকে এই একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা প্রনয়ণের মাধ্যমেই এত দ্রুত আমরা স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি। যার কর্নধার ছিলো মুজিব নগর সরকার এবং শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য নেতৃত্বের গুনাবলি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ রচনা

দুর্নীতি প্রতিরোধ রচনা

ভূমিকা : দূর্নীতি শব্দটা থেকেই আমরা বুঝতে পারি আসলে যেসকল কাজ মানুষের নীতি বহির্ভূত, তাকেই দূর্নীতি বলা হয়ে থাকে। এসকল কাজ আমাদের ব্যাক্তি, সমাজ, দেশ তথ্য ও সমগ্র বিশ্ববাসীর ক্ষতি সাধন করে। আমাদের বাংলাদেশের এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে দূর্নীতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় না। সমাজের উর্ধতন ব্যক্তিবর্গ হতে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত দূর্নীতি গ্রস্ত। এবং সবচাইতে দুঃখের বিষয় হলো এই যে যেসকল খাতে দূর্নীতি থাকা একান্তই কাম্য নয় সেখানেও দূর্নীতির করাল গ্রাস পড়েছে। যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা, থেকে শুরু করে মানুষের খাদ্যেও অধিক মুনাফার লোভে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। আমরা সকলেই জানি শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর এই মেরুদণ্ড ব্যাতিত কোন জাতিই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে না। কিন্তু এই শিক্ষা খাত ও বাদ যায়নি দুর্নীতি থেকে। বর্তমান সময় পরিক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে যায় প্রশ্নপত্র এর ফলে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে দূর্নীতিবাজ শিক্ষার্থীদের থেকে। আবার একসময় দেখা যায় এই দূর্নীতির মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের উচু পদে অধিষ্ঠিত হয়। এবং তারা দূর্নীতির সাথে লিপ্ত হয়ে যায়। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং জীবন বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন। এখানে দূর্নীতির ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারনেই এখনই সময় দেশের সকল খাতের দূর্নীতি রুখে দাঁড়ানোর। এবং দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলের সোচ্চার হবার। দূর্নীতি ছোট হোক বা বড় তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলেই এবং দূর্নীতির কুফল সম্পর্কে সকলকে জানানো গেলেই প্রকৃত স্বার্থ সিদ্ধী হবে।

দূর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের করনীয়: আমরা সকলেই জানি দূর্নীতি আমাদের কি কি ক্ষতি সাধন করে থাকে। এ কারনেই আমাদের সকলের উচিত দূর্নীতি প্রতিরোধে সকলের সোচ্চার হওয়া। আমরা অনেকেই আছি যারা দূর্নীতির কুফল সম্পর্কে ভাল ভাবে জানলেও এই দূর্নীতি প্রতিরোধে কোন সোচ্চার ভূমিকা পালন করা থেকে দূরে সরে যাই। এবং অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজে পরিস্কার থাকার চেষ্টা করি। এই ধরনের চিন্তা ধারা পরিবর্তনই পারে একটি দূর্নীতি মুক্ত সমাজ তথা দেশ আমাদের উপহার দিতে। আমাদের সকলের উচিত আমাদের সামনে কোন দূর্নীতি হলে তা রুখে দাড়ানো এবং তার প্রতিবাদ করা। তাহলে সমাজ থেকে দূর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।

দূর্নীতি প্রতিরোধ সরকারের ভূমিকা: একটি দেশকে সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব। এবং এই দায়িত্বের মধ্যে দূর্নীতি দমন ও একটি মূখ্য বিষয়। আর এ কারনেই দূর্নীতি প্রতিরোধে রয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই দুদকের কাজ হলো দেশে সংগঠিত হওয়া বিভিন্ন দূর্নীতি নিয়ে তল্লাশি করা এবং এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ব্যাবস্থা গড়ে তোলা। এবং আমাদের দেশে দুদক তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছে। তবুও দূর্নীতি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর একথায় দিলে গেলে বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “শর্ষের ভিতর ভূত” এটিই হবে সঠিক উত্তর। তবে কখনোই এই দোষারোপ সবার উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কারন খারাপের ভিড়ে ভালোর সংখ্যা আজও বেশি। কিন্তু হয়তো তা আমাদের চোখের আড়ালেই পড়ে যায়। এ ছাড়াও দূর্নীতি প্রতিরোধ রয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যারা নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছে তাদের দায়িত্ব। তবে এরা যদি সঠিক ভাবে কাজ করে যায় তবে অবশ্যই দূর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

দূর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ো তোলা: সমাজের প্রতি শিরা উপশিরায় দূর্নীতি ঢুকে পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যায়ের থেকে শুরু করে ছোট বড় সকল খাতে দূর্নীতির কালো থাবা ছেয়ে গেছে। তাই এই দূর্নীতির হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অবিলম্বে গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে এর মাত্র আরো অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে। যা এক সময় আমাদের সকলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। প্রতিটি ব্যাক্তি পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই সমাজ কে দূর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব।

দূর্নীতির কুফল: দূর্নীতি হচ্ছে মানব জাতির উন্নয়নের অন্তরায়। একটি দূর্নীতি গ্রস্ত জাতি কখনোই উন্নতি সাধন করতে পারে না। ধীরে ধীরে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে দূর্নীতির ফলে যেমন জাতি প্রকৃত শিক্ষা গ্রহন হতে বঞ্চিত হয় তেমনি চিকিৎসা ক্ষেত্রে দূর্নীতির ফলে মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। আর এ কারনেই দূর্নীতি দমন করা অতিব গুরুত্বপূর্ন।

উপসংহার: রাতের অন্ধকার পেরিয়ে যেমন সকাল বেলা সূর্যের উদয় ঘটে ঠিক তেমনি খারাপ সময় কাটিয়েও সুদিন আসবে। তবে তা কখনোই আপনা আপনি আসবে না। তাই এই জাতিকে দূর্নীতি মুক্ত করার জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে একটি দূর্নীতি মুক্ত সমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপহার দিতে!

বাংলাদেশের শিশু দিবস

বাংলাদেশের শিশু দিবস : আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আজকে যে শিশু সে আগামি দিন আমাদের দেশের হাল ধরবে। এবং দেশকে অগ্র-গতির দিকে নিয়ে যাবে। সকল শিশুদের সুষ্ঠু জীবন যাপন নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আর একারনেই শিশু দিবস পালন করা হয়। শুধু মাত্র বাংলাদেশ শিশু দিবস পালন করে তা কিন্তু নয়। বরং সারা বিশ্বে শিশু দিবস পালিত হয়ে থাকে।

কিন্ত অন্যান্য দিবসের তুলনায় এই দিবসটি একটু ভিন্নধর্মী। বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি বিভিন্ন তারিখে পালন বা উদযাপন করা হয়। বিশ্ব শিশু দিবস উদযাপন ২০ নভেম্বর এ করা হয়। ১লা জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উদযাপন করা হয়। ১৯২০ বিশ্বে সর্বপ্রথম শিশু দিবস পালন করা হয়। এবং এটি সর্ব প্রথম পালন করা শুরু করে তুরস্ক। শিশু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে UNESCO দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বহু নিস্পাপ ও ফুলের মত শিশুকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও বহু শিশু যুদ্ধে তাদের পিতা মাতাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে যায়। যার ফলে তাদের জীবন হয়ে পড়ে দূর্বিষহ এবং যন্ত্রণাদায়ক। তারা গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং একই সাথে তারা অন্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান সহ যাবতীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এ কারনে ইউনেস্কো তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। এবং তাদের ফান্ড হতে বিভিন্ন ভাবে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তখন তারা শিশুদের অধিকার আদায় করার লক্ষে একটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যা বর্তমান সময় শিশু দিবস নামে পরিচিত। বাংলাদেশের শিশু দিবস .

আমাদের বাংলাদেশেও শিশু দিবস পালন করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম তারিখ ১৭ মার্চ কে বাংলাদেশের শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দিনটি সাধারণ সরকারি ছুটির দিন করা হয়। বাংলাদেশের শিশু দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহন করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালে ১৭ই মার্চ তারিখকে জাতীয় শিশু দিবস পালনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের খুবই ভালবাসতেন আর এ কারনেই তার জন্মদিনকে শিশু দিবসে রুপান্তর করা হয়।

বাংলাদেশের শিশু দিবস পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রতি ভালবাসা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা সকলেই জানি আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে শিশুরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা বিভিন্ন ধরনের শিশু শ্রম মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। যার ফলে একটি শিশু তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি শিশুর স্বাভাবিক ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া করা, সহ প্রয়োজনীয় সকল অধিকার নিশ্চিত করাই শিশু দিবসের লক্ষ্য। বাংলাদেশের শিশু দিবস .

আমাদের বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও অশিক্ষিত এবং নিরক্ষর। এ কারনে আমাদের দেশের মানুষ একটি শিশুর মৌলিক অধিকার গুলো নিশ্চিত করা সম্পর্কে সচেতন নয় এবং এটি কতটা জরুরি সে সম্পর্কেও তারা সচেতন নয়। বিভিন্ন কুসংস্কারের কারনে শিশুদের সামগ্রিক ভাবে এগিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আজকের শিক্ষিত শিশুই পারে আমাদের দেশকে উন্নত করতে এবং একটি মানসম্মত জাতি উপহার দিতে।

বাংলাদেশর শিশুদের বর্তমান অবস্থা – বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র এ কারনে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পূরণ করা সরকারের পক্ষে কখনোই সম্ভব হয় না। একই ব্যাপার ঘটে শিশুদের ক্ষেত্রেও। যার ফলে আমাদের দেশে শিশু বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠতে পাড়ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় শিশুরা বিভিন্ন ধরনের শিশু শ্রম মূলক কাজের সাথে জড়িত। তাদের সঠিক মৌলিক অধিকার গুলো পূরন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিশু শিক্ষা গ্রহণ হতে বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন কারনে।

বাংলাদেশর শিশু দিবস পালনের মূল লক্ষ্য – আমরা আগেই জেনেছি আমাদের দেশে শিশুদের সকল অধিকার পরিপূর্ণ রুপে পূরন হয় না। এর কতগুলো কারন রয়েছে। এসকর কারন গুলোর মধ্যে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য কারন হলো দারিদ্রতা। এর ফলে শিশুদের সকল অধিকার পূরন করার প্রচেষ্টাও অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। জাতিসংঘ শিশুদের সকল মৌলিক অধিকার নিয়ে গবেষণা করার মাধ্যমে শিশু সনদ প্রকাশ করে। এই শিশু সনদে শিশুদের যাবতীয় প্রাপ্য অধিকার ও বিভিন্ন বিষয় গুলো তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো,

শিশুদের বয়স- জাতিসংঘের এই ধারা মোতাবেক ১৮ বছরের কম বয়সি সকল ছেলে অথবা মেয়েকে শিশু বলা হবে।

শিশুদের সকল অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া- একটি দেশের সকল নাগরিকদের শিশুদের অধিকার গুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হবে।

সকল ক্ষেত্রে শিশুদের স্বার্থ রক্ষা করা- আইনগত দিক থেকে যে কোন বিষয়ে শিশু স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। এবং আইনগত ভাবে শিশুদের অভিভাবক যারা রয়েছে তারা তাদের সকল দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছে কি না তা রাষ্ট্রীয় ভাবে তদারকি করা ইত্যাদি।

শিশু সনদের বাস্তবায়ন করা- শিশু সনদে যে সকল বিষয়ে বলা হয়েছে তা সঠিক ভাবে পালন করার জন্য রাষ্ট্রীয় ভাবে আইন প্রনয়ণ করা।

এসকল বিষয় গুলো সহ মোট ৩২ টি বিষয়ে কথা বলা হয়েছে শিশু সনদে। যেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলেই শিশু সনদ কার্যকর হবে। এবং প্রতিটি শিশু তার মৌলিক অধিকার আদায়ে সামর্থ্য হবে। আর বাংলাদেশের শিশু দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই শিশু সনদের বাস্তবায়ন ঘটানো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এই যে বাংলাদেশের মানুষ এখন পর্যন্ত শিশু দিবসে তাৎপর্য ও এর গুরত্ব বিষয়ে খুব কমই জানে। আমাদের দেশে শিশু দিবস শুধু মাত্র কাগজ কলমেই পালিত হচ্ছে। মানুষ জানে আজ শিশু দিবস এই পর্যন্তই শেষ। কিন্তু এই শিশু দিবস পালনের কারন এবং এটি আমাদের দেশে এর গুরুত্ব কতটুকু তা জানে না অনেকেই।

বাংলাদেশের শিশু দিবস কার্যকর করার উপায় – আমরা বাংলাদেশে শিশু দিবস পালনের কারন গুলো আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি কিন্তু এটি সম্পর্কে যেহেতু সাধারণ মানুষ বেশি জানেন না তাই এই করনে শিশু দিবস সফল হচ্ছে না। বিপরীতে শিশুরা বিভিন্ন লাঞ্ছনা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। অল্প বয়সেই ঝড়ে পড়ছে শিক্ষা জিবন হতে এবং দূর্বিষহ জীবনযাপন করছে তারা। শিশু দিবস ফলপ্রসূ করতে হলে সরকারের বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এবং সর্বসাধারণের মধ্যে শিশু সনদের মূল লক্ষ্য ও এটিতে কোন কোন বিষয় গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা প্রদান করতে হবে। কখনোই কাগজে কলমে শিশু দিবস পালনের মাধ্যমে শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়। একই সাথে সরকারের সাথে সাথে এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। যারা শিশু অধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায় করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। সেই সাথে সমাজের সকল সচেতন নাগরিকদেরও কাজ কাজ করতে হবে তবেই বাংলাদেশের শিশু দিবস পালনের মূল লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

তবে বহু প্রতিকূলতা থাকলেও তার ভিতর থেকেও আশার সূর্য উঁকি দেয়! বাংলাদেশের শিশু দিবসের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এবং শিশুদের জীবনমানের উন্নতি ঘটানের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একজোট হয়ে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন পথ শিশু এবং শিশু শ্রমিকদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তারা এসকল শিশুদের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশু দিবসের লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপদান করার প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে।

রচনা ৭ মার্চের ভাষণ

রচনা ৭ মার্চের ভাষণ

ভূমিকাঃ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার এক মহা- নায়ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেে জন্ম না হলে হয়ত আজো আমরা পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ থাকতাম। তিনি না জন্মগ্রহণ করলে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহন করতে পারতো না। মূলত বাঙ্গালির স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয় বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭১ সালে সংঘটিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। এবং এই মুক্তিযুদ্ধে অগ্রনী ভূমিকা রাখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি স্বাধীনতা শব্দের মর্মার্থ বুঝতে পারে। তার এই ১৮ মিনিটের অলিখিত ভাষনের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন ও বাঙালির অধিকার আদায়ে কথা তুলে ধরেন। এবং পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেন। Read more: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রচনা

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের পটভূমি – ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সরকার আওয়ামিলীগ সরকারের কাছে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চেয়েছিল না। এ কারনে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের ডাক দেন। কিন্তু ১ মার্চ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়। যার ফলে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়তে শুরু করে। এ কারনে ২ ও ৩ মার্চ হরতালের ডাক দেয় আওয়ামী লীগের কর্নধার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এবং ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হয় এবং জাতির পিতা দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন দেন।

৭ই মার্চেের ভাষনের গুরুত্ব – বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি মূলত স্বাধীনতার ডাক ছিল। তিনি তার এই ছোট্ট একটি ভাষনের মাধ্যমেই সমগ্র বাঙালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তুলেন। তার এই ভাষনের মাধ্যমে বাঙ্গালির অধিকার ও পাকিস্তানিদে শাসন ও শোষণের চিত্র তুলে ধরে। তিনি ৭ই মার্চের বিকাল ২.৪৫ মিনিট হতে ৩.০৩ মিনিট পর্যন্ত এই ১৮ মিনিটে তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন। এবং বর্ণনা করেন পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা। এর পাশাপাশি সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান। এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য সর্বস্তরের বাঙ্গালীকে আহ্বান জানান। এবং এই আন্দোলন দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান সহ বাঙ্গালী জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন।
এছাড়াও “আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমরা সবাই প্রস্তুত থাকো তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে” এই কথার মাধ্যমে সমগ্র বাঙালীকে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করেন।

স্বীকৃতি : জাতির পিতার এই ঐতিহাসিক ভাষনটি ছিল বাঙ্গালী জাতির জন্য বড় পাওয়া। কারন বঙ্গবন্ধুর এই ভাষন একদিকে যেমন দেশকে স্বাধীন করার প্রেরনা যুগিয়েছে তেমনি বিশ্ব দরবারে বাঙ্গালীর মাথা উঁচু করেছে। এর মাধ্যমে বাঙ্গালী পেয়েছে বীরের খেতাব। ইউনেস্কো সমগ্র বিশ্বের গুরুত্বপুর্ণ দলিল গুলো সংরক্ষিত করে থাকে। তাদের এই উদ্যোগ এর নাম ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে (এমওডব্লিউ)। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষনটি বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল বা “ডকুমেন্টারি হেরিটেজ” হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণটি। সর্বপ্রথম ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

উপসংহার : বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার এই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বাঙ্গালির অন্তরে স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে পড়ে। বাঙ্গালী স্বাধীনতার জন্য প্রানের মায়া ত্যাগ করে হাসিমুখে মৃত্যু বরন করতেও পিছপা হয়নি তার এই ভাষনের কারনে। তার এই ভাষন আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে যেমন কাজ করেছিল ঠিক তেমনি আজও এই ঐতিহাসিক ভাষনটি বিশ্বের প্রতিটি কোনায় কোনায় বাঙ্গালী জাতিকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এনে দেয় সম্মান!

পদ্মা সেতু রচনা

পদ্মা সেতু রচনা

ভূমিকা: পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের একটি বহুদিনের আকাঙ্খার বিষয়। দেশের সর্বস্তরের মানুষের একটাই দাবি ছিল পদ্মা সেতু। কারন এটির ফলে আমাদের বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার মান আরো উন্নত হবে। যা আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আর এই কারণেই পদ্মা সেতুর প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে বহু বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষের দিকে। এবং এই পর্যন্ত সকল কিছু সফলতার সাথে হয়ে এসেছে। তবে পদ্মা পৃথিবীর মধ্যে উত্তাল নদীর তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এদিক থেকে পদ্মার বুকে সেতু করা কোনভাবেই সহজ কাজ নয়। বরঞ্চ এটি একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রতি সেকেন্ডে পদ্মা নদীতে 1 লক্ষ 40 হাজার কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে । কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এটিকে সফল হতে বাধ্য করেছে। কিন্তু এটি শুনলে অবাক হবেন আমাদের দেশের মতো দরিদ্র দেশ এই পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ অর্থায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। এই পদ্মা সেতু নির্মাণে বিদেশি কোন সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করবেনা বাংলাদেশ সরকার। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এবং এটি হবে 6 দশমিক 15 কিলোমিটার লম্বা যা বাংলাদেশের ভিতরে সবচেয়ে বড় সেতু হিসেবে স্থান দখল করে নেবে। এছাড়াও এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাথে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করবে। Read more: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রচনা

পদ্মা সেতু সূচনা: পদ্মা সেতু নির্মাণের সূত্রপাত হয় 2007 সালের 28 শে আগস্ট। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একাউন্ট পদ্মা সেতুর জন্য 10161 কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয় এবং এটি সংসদে পাস হয় কিন্তু পরবর্তী কালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন এবং পদ্মা সেতুর সাথে রেলপথ সংযুক্ত করেন এর ফলে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং বাজেট সংশোধন করে 20 হাজার 507 কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এবং পরবর্তীতে আরো বৃদ্ধি করে 28 হাজার 793 কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। এবং অবশেষে দুর্নীতির কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। কিন্তু এর ফলে বিশ্ব ব্যাংক এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা করতে পিছিয়ে যায় এবং পরবর্তিতে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে তৈরি করা হবে। যা ছিল একটি দুঃসাধ্য এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে পদ্মা সেতু তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল 2011 সালে এবং সেতু নির্মাণের কাজ 2013 সালে শেষ হবে এবং এর যাবতীয় সকল কাজ ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সময় 2015 সাল। কিন্তু বিভিন্ন বাধাবিপত্তি কারণে সঠিক সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারেনি। তারপরে একটা নতুন নির্মাণের কাজ চলছে। এবং নির্মাণ কাজ শুরু হয় 2014 সালের 7 ডিসেম্বর। এবং নির্মাণের যাবতীয় সকল কাজ হবে 2021 সালে এবং এই সময় পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

পদ্মা সেতুর বর্ণনা: পদ্মা সেতুর নির্মাণ করা হবে বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু হিসেবে। এবং পদ্মা সেতুর উপরে স্তরে চার লেনের সড়ক থাকবে। এবং নিচের স্তরে রেললাইন সেতু থাকবে। এবং পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য হবে 6.15 কিলো মিটার এবং প্রস্থ 18.10 মিটার। পদ্মা সেতুর উপরে মোট 40 টি স্পান বসবে। তার প্রতিটির দৈর্ঘ্য হবে 150 মিটার। এবং পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে কংক্রিট এবং স্টিল। এটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

পদ্মা সেতু বাংলার গর্ব: পদ্মা সেতু মূলত বাঙালি জাতির জন্য একটি গর্বের বিষয় এবং এটি আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এটা পৃথিবীর কাকে আবার বাঙালি জাতির নাম কে উজ্জল করেছে। এবং বিশ্ব দরবারে এটি প্রমাণ করে দিয়েছে বাঙালি জাতি এখন আর পিছিয়ে নেই। এবং পদ্মা সেতুর মতো বিভিন্ন প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার মতো ক্ষমতা রাখে বাংলাদেশ। মিথ্যা দুর্নীতি মামলায় বিশ্বব্যাংকের এবং অন্যান্য আর্থিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সরে যাওয়ার সঠিক জবাব হয়েছে এটি।

সম্ভাবনা: পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের সংযোগ ঘটিয়েছে। যা সমগ্র দেশব্যাপী জামায়াতের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। এবং যা আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করবে বলে আশা করেন বিশেষজ্ঞরা। এবং তারা মনে করেন পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমৃদ্ধি আরো বৃদ্ধি পাবে।কারন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব অঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মাঝে যোগাযোগ ব্যাবস্থার বড় বাধা সৃষ্টি করে পদ্মা নদী। যা ফলে এদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেও উত্তর পূর্বাঞ্চলে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এর কারন হলো যোগাযোগ ব্যাবস্থা।শুধুমাত্র পদ্মা নদীর কারনে যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই দুর্বিষহ রয়ে গিয়েছে।

পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল : পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের বিশ্বের আরও বিভিন্ন দেশ ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। এবং বিশ্ব ব্যাংক মোট 120 কোটি ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে বাংলাদেশকে। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এরমধ্যে জাপান 14 কোটি ডলার ঋণ প্রদানের জন্য আশ্বাস দিয়েছিল। এবং এডিবি 61 কোটি ডলার ঋণ প্রদানের আশ্বাস দেয়। যে টাকা ব্যয় হবে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য ঋণ প্রকল্পে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সাথে জড়িত কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতির প্রমাণ। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সরাসরি জানিয়ে দেয় পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদের কাছে এবং এ সকল দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য এবং প্রমাণিত বলে দাবি করে তারা। এর ফলে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। এর ফলে বিশ্বব্যাংকের সরে আসা দেখে অন্যান্য ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরে আসে পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণ প্রদান থেকে। এবং বিশ্ব ব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ কতগুলো শর্ত জুড়ে দেয়। যে সকল শর্ত উল্লেখ করা হয়েছিল তা হল যে সকল কর্মকর্তা এই দুর্নীতির সাথে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান এবং বিশেষ তদন্ত কমিটি তৈরি করা। যার মাধ্যমে তাদের দুর্নীতি বিষয়ে সঠিক প্রমাণ জোগাড় করতে পারবে সরকার। এবং বিশ্বব্যাংকের একটি পরিষদ গঠিত হবে যারা এই তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনা করবে।কিন্তু এসকল দুর্নীতি মিথ্যা প্রমানিত হলেও ঋন দেওয়া হয়নি বিভিন্ন কারনে।

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব: পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চক্রান্ত তৈরি হয়েছে। কারণ অভ্যান্তরীণ অনেক সরকার বিরোধী এবং দেশদ্রোহী এসে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ ব্যাহত করতে। এ কারণে প্রথমদিকে দুর্নীতি মামলা এবং পরবর্তীকালে পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে এরকম গুজব ছড়ানো হয়েছে। এবং সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে গুজব প্রবল আকার ধারণ করে এবং এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এবং গলাকাটা এবং পাচারকারী সন্দেহে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানির শিকার করা হয়েছে এছাড়াও সন্দেহের বশে বিভিন্ন মানুষকে মারধর এবং হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে। বহু লোককে মাধ্যমের পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এবং এসকল গুজব বাংলাদেশ এবং বাঙালির জাতির জন্য সত্যি লজ্জাজনক।

উপসংহার : পদ্মা সেতু একদিকে যেমন আদের দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।ঠিক তেমনি এটি আমাদের দেশের জন্য গর্বের বিষয়। কারন পদ্মা নদীর মত বড় এবং উত্তাল নদীর উপর দিয়ে সেতু নির্মাণ সত্যিকার অর্থে চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। এবং তা আমাদের দেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা এক কথায় বলতে গেলে অসম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের দৃড় প্রত্যয় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব করে তুলছে। যা সত্যিকার অর্থে প্রশংসনীয় বিষয়। একটি দেশকে ডিজিটাল করতে হলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর পদ্মা সেতু আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নত করে তুলেছে। এ কারনে পদ্মা সেতুকে ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম একটি উপাদান হিসেবে গন্য করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রচনা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রচনা

ভূমিকা : পৃথিবী ডিজিটাল হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে লেগেছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোয়া। সকল ক্ষেত্রেই সেই সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যাবহৃত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এবং এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সরকার অনবরত কাজ করে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে একটি পদক্ষেপ হলো মহাকাশে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। যার নামকরণ করা হয়েছে আমাদের জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ নামে।যেটি দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে মহাকাশে বাংলাদেশ নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের নাম লিখেছে।যা বাংলাদেশর একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের অনেক বড় পাওয়া।এবং এরই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭ তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কারী রাষ্ট্র হিসেবে নাম লিখিয়াছে। Read more: পদ্মা সেতু রচনা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের যাত্রা: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ সংস্থা BTRC এর কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ বিষয়ক একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এর থেকে যাত্রা শুরু হয় স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার জন্য। এর পড়ে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের জাতীয় তথ্য প্রযুক্তি নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেঢশন ইউনিট এর সাথে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশের নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য। এবং বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট এর নকশা তৈরির জন্য ২০১২ সালের মার্চে প্রকল্পের মূল পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল কে নিয়োগ দেয়া হয়। এবং বঙ্গবন্ধু ১ স্যাটেলাইট কিনতে ফ্রান্সের স্যাটেলাইট নির্মাতা কোম্পানি থ্যালেস আলোনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ। এবং তাদের সঙ্গে ৯৫১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশের ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় বিটিআরসি। এবং অরবিটাল স্লট বা কক্ষপথ কেনার জন্য রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারেস্ট বুটলিকের সঙ্গে চুক্তি করা হয় ২০১৫ সালে। এবং ২০১৭ সালে স্যাটেলাইটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামক একটি সংস্থা গঠন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর নির্মাণ ব্যয়: ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেকের সভায় ৯৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনার জন্য। ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল হতে এবং বাকি ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য বিডার্স ফাইনান্সিং এর সহায়তা নেয়া হয়। এবং ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এইচএসবিসি এর সাথে সরকার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ সুদের ১৪০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে যা ১২ বছরে মোট ২০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ হলো বাংলাদেশের সর্ব প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ যা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত হয়েছে। এটি geostationary Earth orbit এর একটি উপগ্রহ । এটি মূলত একটি ভূ স্থির উপগ্রহ। এটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট যা নিরক্ষরেখা বরাবর ২৪ ঘন্টায় একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। এবং এটি পৃথিবীর আবর্তনের বিপরীত দিক থেকে প্রদক্ষিণ করবে অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এটি আবর্তন করে থাকে। এ কারণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি থাকবে নির্দিষ্ট একই জায়গায় স্থির। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পাঠানো তথ্য গ্রহণ করবে এবং তার কয়েকগুণ বৃদ্ধি করে আবার তা ফেরত পাঠাবে পৃথিবীতে। এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ওজন ৩৬০০ কেজি যা বাংলাদেশের নিজস্ব অরবিটাল স্লট ৬৯ ডিগ্রি ও ১০৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পাওয়ার কথা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন ২০০৭ সালে বাংলাদেশ মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করে ITU এর কাছে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে এই অর্বিটল স্লট বরাদ্দ দেওয়ায় আপত্তি জানায়।
পরবর্তী সময়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে ৬৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাদ্দ দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। তারা জানায় এর ফলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সিগনাল এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে বাধা হয়ে দাড়ায় সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়া।এবং বাংলাদেশের ৬৯ থেকে অর্বিটাল স্লট বরাদ্দ বাতিল হয়ে যায়।পরবর্তীতে ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অরবিটাল স্লট বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান intersputunik international organisation of space communication . বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি ইন্টারনেটের সাথে ১৫ বছরের চুক্তি করে এবং তা তিন কিস্তিতে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ১৫ জানুয়ারি ২০১৫ সালে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট রয়েছে মোট ৪০ টি ট্রান্সপন্ডার। যা ১৬০০ মেগাহার্টজ ক্ষমতা সম্পন্ন। এগুলোর মধ্যে ২৬ টি ku-band এবং ১৪টি সি ব্যান্ড এর।KU Band বাংলাদেশ সহ বঙ্গোপসাগর,পাকিস্তান,ভারত নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন,মিয়ানমার সহ আরো অনেক দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এছাড়াও C Band আরও ২৬ টি দেশের উপর বিস্তৃত রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সুবিধা সমূহ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তিতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমাদের দেশটি আরো ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হবে। এখন আর তথ্য প্রযুক্তির জন্য আমাদের ভিন্ন দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। কারণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমরা নিজেরাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। এছাড়াও আমাদের দেশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্যাটেলাইট টিভি ।যেগুলোকে বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান করার মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে হতো। এবং এই টাকা খরচ করা হতো টিভি চ্যানেলগুলোর ফ্রিকুয়েন্সি কেনার জন্য। কিন্তু বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তৈরি হওয়ায় এ সকল টেলিভিশন চ্যানেল গুলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরপূর্বে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হতো বিদেশি কোম্পানি গুলোকে। যার ফলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দিকেও প্রভাব পড়ত। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের টাকা অন্য দেশে যাওয়ার পরিবর্তে অন্য দেশকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

এছাড়াও এই স্যাটেলাইট বিদেশী কোম্পানীর নিকট সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব ।যার মাধ্যমে স্যাটেলাইট তৈরি সমস্ত খরচ উঠিয়েও লাভবান হওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য আমাদের অবশ্যই ধৈর্য্য ধরা উচিত কেননা প্রথম থেকে কোন কিছু করে লাভবান হওয়া যায় না। তবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে আয়ের এর আরো নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে ।এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই সেবার মানোন্নয়ন করা সম্ভব । স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিমিডিসিন , ভিডিও কনফারেন্সিং ,প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সকল সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়াও এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে যেগুলোতে এখন পর্যন্ত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি । এবং ইন্টারনেট সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি । সেখানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।এছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন আবহাওয়া বার্তা সংগ্রহ করা যাবে। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস গুলো এখন নিজেরাই সংগ্রহ করতে পারবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সর্বোপরি বলা যায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশের জন্য একটি আশীর্বাদ স্বরূপ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি অন্যতম কার্যকরী পদক্ষেপ হচ্ছে দেশের জন্য স্যাটেলাইট তৈরি। এর ফলে আমাদের দেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে এবং পৃথিবীর অন্যতম উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশ একই ধারায় উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আমাদের দেশের আর্থিক সমৃদ্ধির পথ সুগম হচ্ছে তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হচ্ছে। কারণ ইতিপূর্বে বাংলাদেশের আগে পৃথিবীর মোট ৫৬ টি দেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সফল হয়েছে। ৫৭ তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনকারী দেশ হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

উপসংহার: যেখানে সফলতা রয়েছে সেখানে ব্যর্থতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই ব্যর্থতাকে জয় করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। তাহলেই সফল হওয়া যাবে। তাই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ এবং বাংলাকে অনন্য এবং গর্বিত করেছে এই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার রচনা

দুর্নীতি ও তার প্রতিকার রচনা

ভূমিকা: বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজের সর্বগ্রাসী আকার ধারণ করেছে এই দুর্নীতি। দুর্নীতি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজ করছে। যা আমাদের সমাজ এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে অগ্রসর করে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে এমন কোন কাজ নেই যেখানে দুর্নীতির কালো থাবা পড়েনি। শিক্ষা এবং চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ও দুর্নীতি এর কালো থাবা পরিলক্ষিত হয়। সমাজের একদম উঁচু শ্রেণী থেকে  নিচু শ্রেণি পর্যন্ত দুর্নীতির প্রভাব দেখা যায়। রাজনৈতিক সামাজিক সকল খাতেই দুর্নীতি রয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা করে থাকে সেই দেশের সরকার । সেই সরকার যদি দুর্নীতি গ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে একটি দেশের উন্নতি কিভাবে সম্ভব? এছাড়াও আইনি খাতে দুর্নীতির প্রভাব ব্যাপকভাবে দেখা যায়। তাহলে মানুষের ন্যায় বিচার কিভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। দুর্নীতি বর্তমান সমাজে নীতির আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Read more: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও তার প্রতিকার রচনা

দুর্নীতির সর্বগ্রাসী কালো থাবা: আমাদের দেশ এবং সমাজের বর্তমান সময়ে দুর্নীতি সর্বগ্রাসী আকার ধারণ করেছে। আমাদের দেশের প্রতিটি ছোট বড় সকল খাতেই দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিশাল দৃষ্টান্ত দেখা যায়। যেমন সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করা, অবৈধভাবে জমি দখল, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, সরকারি অর্থ লোপাট ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন ছোট পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে। বলতে দ্বিধা হলেও সত্য এটাই দুর্যোগ আক্রান্ত জনগণের প্রাপ্য সাধারণ ত্রাণ ও এই দুর্নীতির হাত থেকে রেহাই পায়না। সামান্য দুর্যোগ গ্রস্থ দের জন্য ত্রাণ দান করা হয় এর চাল গম ইত্যাদি এর উপর ও দুর্নীতির প্রভাব পড়েছে। এই সামান্য ত্রাণ ও জনগণের নিকট সঠিক ভাবে পৌঁছায় না। এবং পৌঁছানোর আগেই চুরি হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে আরও বড় দুর্নীতির দৃষ্টান্ত রয়েছে সরকারি চাকরি প্রদানের উপর। এখন আর কোনো যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি হলে ও সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরি প্রদান করা হয় কে কত বেশি ঘুষ দিতে পারল তার উপরে। আপনি যদি যোগ্যতাসম্পন্ন ও প্রচুর মেধাবী এবং কর্মঠ ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবুও আপনি চাকরি পাবেননা। যদি আপনি ঘুষ প্রদান করতে ব্যর্থ হন। তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আপনাকে চাকরি পাওয়ার জন্য ব্যর্থ প্রমাণ করবে। এবং একজন অযোগ্য ব্যক্তি কে তার নিকট থেকে অর্থ গ্রহণ করার মাধ্যমে চাকরি প্রদান করবে। সেই ব্যক্তি ভবিষ্যতে দুর্নীতির খাতকে আরো বড় করে তুলবে। এটাই সমাজের মূল চিত্র। এর পরে আসি আইনি খাতে বর্তমান সময়ে আইনি সেক্টরে ও ব্যাপক দুর্নীতি দেখা যায়। শুধুমাত্র টাকার জোরে বড় বড় আসামিরা অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফেঁসে যাচ্ছে নিরপরাধ মানুষ গুলো। এখানে আইন তাদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার জন্য কাজ করবে সেখানে এরা অর্থের বিনিময়ে জনগণকে বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি: শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড কথাটি আমরা সবাই জানি।  যদি শিক্ষাখাত দুর্নীতি গ্রস্থ হয়ে পড়ে তাহলে একটি সুষ্ঠু এবং শিক্ষিত জাতি গঠন কিভাবে সম্ভব। বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষা খাতে দুর্নীতির কালো থাবা থেকে রেহাই পায়নি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা খুললেই আমরা দেখতে পাই শিক্ষা খাতের দুর্নীতির কথা। যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষিত প্রজন্ম গঠনে অন্তরায়। আমরা বিভিন্ন পরীক্ষার সময় দেখতে পাই প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার সংবাদ। এখানে সামান্য অর্থের বিনিময় পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার আগেই হাতে পাওয়া যায়। এর ফলে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের থেকে দুর্নীতিবাজ শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকে। এবং একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তার লেখাপড়ার উপর মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। যার ফলে জাতি হারায় একজন মেধাবী ছাত্র কে। যে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের কর্ণধার হতে পারত। অপরদিকে একজন দুর্নীতিবাজ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী মেধাবীর খেতাবে ভূষিত হয়। এবং তার এই দুর্নীতি শুরু হয়ে গেল শিক্ষাজীবন থেকেই। ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিটি কাজে সে জড়িত থাকবে দুর্নীতির সাথে এটাইতো চিরাচরিত নিয়ম।

জাতীয় উন্নতির অন্তরায় দুর্নীতি: একটি দুর্নীতিবাজ জাতি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারে না। তারা দেশকে অধঃপতনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটা কখনোই দেশের উন্নতির কথা ভাবে না। এরা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোনো ধরনের কাজ করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। দুর্নীতি এদের নীতি হয়ে দাঁড়ায়। এবং তাদের মধ্যে কোন ভালো-মন্দের ভেদাভেদ থাকে না। এসকল দুর্নীতিবাজ লোকদের জন্য দেশ কখনোই প্রকৃত উন্নয়নের ছোঁয়া পায় না। তারা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজের নামে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি তে মত্ত থাকে।এরা দেশের সম্পদ পাচার এবং অর্থ লোপাটের সাথে জড়িত। এবং সমাজের বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড এই সকল ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। এর ফলে সাধারণ জনগণ কখনোই উন্নতির বা উন্নয়নের মুখ দেখতে পারে না। এবং সৃষ্টি হয় দেশে ধনী-গরিবের ভিতরে বিশাল বৈষম্য। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে এক নম্বর দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে শুধুমাত্র এদের কারণে।

দুর্নীতির কালো থাবা দূর করন: দুর্নীতির কালো থাবা থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের অবশ্যই সকলকে সচেতন হতে হবে। একদিকে যেমন আমরা দুর্নীতির সাথে যুক্ত হবো না । ঠিক তেমনি অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে দেখলে তাতে বাধা প্রদান করব। একটি দেশের সরকার চাইলে এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন করা সম্ভব। কারণ একটু দেশের সকল শক্তির মূলে রয়েছে দেশের সরকার। এ কারণে আমাদের দেশের সরকারকে সোচ্চার হতে হবে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। যদি এখন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব না হয় তাহলে কোন ভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না। আমাদের দেশের সরকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমানে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এবং বড় বড় দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশকে সম্পূর্ন দূর্নীতিমুক্ত করতে হলে শুধুমাত্র এ সকল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনলে চলবে না। বরং ছোট বড় সকল দুর্নীতিবাজকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে অবশ্যই সরকারের পাশে জনগণকে থাকতে হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের করণীয়: দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের দেশের সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশ থেকে দুর্নীতি কে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে। কারণ শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে একদিকে যেমন দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ঠিক একইভাবে শুধুমাত্র জনগণ কখন দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে পারবে না। তাই জনগণ এবং সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে। এখানে আমাদের সবাইকে অঙ্গীকারবদ্ধ করতে হবে আমরা নিজেরাও দুর্নীতি করব না। এবং অন্যকেও দুর্নীতি করতে দেব না। আমরা যারা এ সকল দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকি তাড়া যদি সোচ্চার হই তাহলে আর এসকল দুর্নীতি হবে না। যেমন আমরা কোন  কাজ চাকরির জন্য ঘুষ প্রদান করব না। এবং যদি কেউ এর জন্য ঘুষ দাবি করে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা করব।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি: শুধুমাত্র আপনার ব্যক্তিগত ভাবে দুর্নীতিমুক্ত থাকলেই কাজ শেষ হবে না। বরঞ্চ আমাদের অন্যকেও দুর্নীতির থেকে দূরে থাকার জন্য আহবান করতে হবে। এর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এবং বিভিন্ন ধরনের প্রচার প্রচারণা চালানো উচিত। এছাড়াও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা আরোপ করা উচিত যার ফলে তারাও দুর্নীতি করতে ভয় পায়।

উপসংহার: দুর্নীতি আমাদের দেশকে যেভাবে গ্রাস করছে যদি শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আমাদের দেশের অধঃপতন নিশ্চিত। আমাদের এখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মানুষকে দুর্নীতির ক্ষতিকর দিকগুলো জানাতে হবে এবং যুব সমাজকে সচেতন করতে হবে দুর্নীতির বিষয়ে। তাদের দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার সম্ভব হবে এবং সত্যিই আমাদের দেশ সোনার দেশে পরিণত হবে।

স্বদেশপ্রেম রচনা

স্বদেশপ্রেম রচনা

(সংকেত: ভূমিকা-স্বদেশপ্রেম কী- স্বদেশ প্রেমের গুরুত্ব – জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরীয়সী- দেশপ্রেমিকের অবদান- দৃষ্টান্ত -বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে–বাংলা কাব্যে দেশপ্রেম- দেশ প্রেম এবং বিশ্ব প্রেম – উপসংহার) Read more: শ্রমের মর্যাদা রচনা

ভূমিকা :
স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে-
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল, কে পরিবে পায় হে।
কে পরিবে পায়?
সত্যিই তাই মুক্ত জীবনের প্রশান্তি সকলের কাম্য। জন্মভূমির বুকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মত প্রশান্তি বিরল। প্যালেস্টাইনের এক কবি বলেছেন-

“স্বদেশের মাটি স্পর্শ করার সময় ছাড়া আমার শির আর কখনও নত হয় না।” কবির এ উচ্চারণে ফুটে উঠেছে স্বদেশের জন্য ভালােবাসা, গভীর অনুভূতি। মূলত দেশপ্রেম এক সহজাত অনুভব । প্রতিটি মানুষের অন্তরে এ অনুভব উজ্জ্বল আলাের মতাে জেগে থাকে। দেশের প্রতি যার ভালোবাসা নেই, তার অপরাধ ক্ষমার অযােগ্য। দেশের মাটি মায়ের মতাে। সেজন্যই দেশকে বলা হয় দেশমাতা। আমরা দেশমাতার কোলে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠি। দেশের আলাে – জল, মাটির স্পর্শে আমাদের তনু- মন পুষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস স্বদেশের কাছে ঋণী। আমাদের অনুভবের প্রতিটি সীমানায় স্বদেশের পতাকা, আমাদের জীবন আমাদের স্বদেশেরই দান।

স্বদেশপ্রেম কী : মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। এ সমাজ আবার কতকগুলাে ধর্ম, ভাষা, নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভৌগােলিক সীমায় বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়ে স্বতন্ত্র বা পৃথক রাষ্ট্র, জাতি বা সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে থাকে। এ স্বাতন্ত্র্যবােধ তীব্র হয়ে যখন অঞ্চল বিশেষের মানুষের মধ্যে একটি ঐক্য চেতনা জাগিয়ে তোলে, তখনই তার নাম হয় দেশাত্মবােধ, স্বজাত্যবোধ বা স্বদেশপ্রেম । স্বদেশের ভৌগােলিক সীমা, তার অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, তার ভাষা , প্ৰাকৃতিক সম্পদ, এমনকি ধর্মবােধ এসব নিয়েই স্বদেশপ্রেমকে সংজ্ঞায়িত করা যায়। এ স্বদেশকে আপনার বলে জানা, স্বদেশের মানুষ, প্রানি, মৃত্তিকা সব কিছুর জন্য মমত্ববোধ সংস্কৃতিবা মানুষের একটি মৌলিক বৃত্তি । এ বৃত্তিকেই আমরা বলি স্বদেশপ্রেম। এছাড়া দেশের কোন বিপদে দেশকে রক্ষার জন্য ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের জন্য নিজেকে সমার্পন করা।ভিন্ন দেশের নিকট নিজ দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি কে তুলে ধরা।ও বিশ্বের নিকট দেশকে মর্যাদা সম্পন্ন করে তোলাকেই এক কথা স্বদেশ প্রেম বলা হয়।

স্বদেশ প্রেমের গুরুত্ব: একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে তার দেশের জনগণের উপর।যদি দেশের নাগরিক এর ভির নিজের দেশের প্রতি ভালবাসা না থাকে তাহলে সে দেশ কখনো উন্নতি সাধন করে না।একটি দেশকে অগ্রযাত্রার পথে ধাপিত করে স্বদেশ প্রেম।স্বদেশ প্রেম একটি মানুষকে দেশের প্রতি আত্ন ত্যাগ করায় উৎসাহিত করে।যদি কোন ব্যাক্তি তার দেশের প্রতি নিজেকে ঋনী না মনে করেন তাহলে তার সেই দেশের নাগরিক ও সে দেশের একজন সন্তান দাবি করাই বৃথা।কারন প্রতিটি মানুষের তার দেশের প্রতি সীমাহীন ঋন রয়েছে। আর তা কখনোই শোধ হবার নয়।দেশকে ভিন্ন দেশের নিকট মহিমান্বিত করে তোলার জন্য একমাত্র উপায় হলো স্বদেশে প্রেম।এ কারনেই স্বদেশ প্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম।

জননী জন্মভূমি কাদশী গরীয়সী : জননী এবং জন্মভূমি আমাদের কাছে পরম শ্রদ্ধেয়া জননী জন্মদাত্রী স্তন্যে-স্নেহে আমাদের লালন- পালন করে। আর জন্মভূমি আমাদের সবাইকে শস্যে ফলে অন্নে পানীয়ে পুষ্ট করে তােলে। তাই সে আমাদের জননী। কবি গেয়ে ওঠেন, “তুমি মুখে তুলে দিলে, তুমি শীতল জলে জুড়াইলে, তুমি যে সকল সহা সকল বহা মাতার মাতা।” তাই জননীর কাছে আমাদের যেমন অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে অনুরুপ জন্মভূমির প্রতিও আমাদের সকলের অনেক দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে।

দেশপ্রেমিকের অবদান : যুগে যুগে দেশ প্রেমিকগণ জগতের ইতিহাসে তাদের কর্মময় জীবনের মহান দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কল্যাণে তাদের সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন। জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী, লেনিন, মাওসেতুং, ইয়াসির আরাফাত, নেলসন মেন্ডেলা , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ নেতা দেশকে ভালােবেসে দীর্ঘকাল কারা বরণ করেছেন। অত্যাচার আর পীড়ন সহ্য করেছেন এবং দেশ ও জাতির মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেছেন। কোনাে ভয়, প্রলােভন তাদেরকে কাবু করতে পারেনি। শত বিপর্যয়ের মুখেও তারা দেশ মাতৃকার মুক্তি ব্রত থেকে পিছু হটেননি। তাইতাে বিশ্বের ইতিহাসে এসব মহান দেশপ্রেমিকের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে।

দৃষ্টান্ত: প্রতিটি দেশের মানুষের ভিতরই কিছু না কিছু স্বদেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। এবং অনেক জাতির ক্ষেত্রে তা ত্যাগের চরম শিখরে পৌঁছে গেছে।বাঙ্গালি জাতির কথা চিন্তা করলেই আমরা তা বুঝতে পারি। বাঙ্গালী ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য প্রান দিয়েছে।এরপরে ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন বলী দিয়েছেন।যাদের আত্ম ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি।এরুপ অনেক মানুষ আছেন যাদের অনেকের নাম ইতিহাসের পাতায় আছে। আবার অনেকের নাম ইতিহাসের পাতায় ঠাই পায়নি। অগোচরে রয়ে গিয়েছে তাদের আত্মত্যাগ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে : দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এদেশের জনগণ মায়ের মতাে দেশমাতৃকার প্রতি ভালােবাসা প্রদর্শন করেছে। ৫২, ৫৪, ৬৬, ৬৯ সালে রক্ত দিয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামে লিপ্ত হয়ে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে এদেশ, এ মাটিকে শত্রু মুক্ত করেছে শধু স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত হয়েছিল বলে। দেশ সৃষ্টির এরুপ দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। তবে বাংলাদেশে স্বদেশ প্রেমের নামে মাঝে মধ্যে উগ্র দেশপ্রেমের নজিরও দেখতে পাওয়া যায়। এক শ্রেণির মানুষ দেশপ্রেমের নামে সাধারণ মানুষকে ধােকা দিয়ে স্বার্থ হাসিল করে।

বাংলা কাব্যে দেশপ্রেম : দেশপ্রেম শুধু ইতিহাস, ঐতিহ্য, মনীষীদের বাণী বা ধর্মীয় বিধানেই সীমা বদ্ধ নয়। বাংলা কাব্যে দেশের প্রতি অগাধ ভালােবাসার সমূহ ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। সতেরাে শতকের কবি আব্দুল হাকিম তার নূরনামা’ কাব্যে বঙ্গবাণী’ কবিতায় দেশের প্রতি গভীর উপলদ্ধি ও বিশ্বাসের কথা নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি যাদের স্বদেশের প্রতি অনীহা তাদের ধিক্কার দিয়েছেন, “যেসব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী। সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।” অর্থাৎ বঙ্গ বিদ্বেষীদের জন্ম পরিচয় নিয়ে তিনি সন্দেহ পােষণ করেছেন। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় স্বপ্নময়, স্মৃতিময় এদেশের রূপে বিমােহিত হয়ে গেয়েছেন,
“ধনধান্যে পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।”

কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালােবেসে রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থে গেয়েছেন,
“বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,
তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।”

দেশপ্রেম এবং বিশ্ব প্রেম : প্রকৃত দেশপ্রেমিক ব্যক্তি কখনও সংকীর্ণ মনের পরিচয় দেন না। নিজের দেশকে ভালােবাসা মানে অন্য দেশের প্রতি শত্রুতা নয়। যে দেশপ্রেম শুধু নিজের দেশের জন্য সে দেশপ্রেম অন্ধ এবং পক্ষপাতদুষ্ট। “স্বদেশ আমার ভূমি, কিন্তু বিশ্বও আমার পর নয়” এটাই প্রকৃত দেশপ্রেমের বাণী। কাজেই নিজের দেশকে ভালােবাসতে হবে আবার সমগ্র বিশ্বের প্রতিও সহমর্মিতা জাগ্রত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রকৃত দেশপ্রেম নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে রাখে না বরং বৃহৎ পৃথিবীর মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে দেয়।

উপসংহার : কবি গেয়েছেন, “ও আমার দেশের মাটি তােমার পরে ঠেকাই মাথা।” প্রতিদিন ভাের বেলা যে আলাে, আকাশ, মৃত্তিকা, বায় আর মানুষের সাথে আমাদের দেখা, সে তাে আমাদেরই স্বদেশ। দেশকে ভালােবেসে আমরা আমাদের জন্মঋণ শােধ করতে পারি । সুতরাং, প্রেমের গভীর অনুভূতি বুকে ধারণ করে আমাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হােক-
“এই দেশেতেই জন্ম
যেন এই দেশেতেই মরি।”

A winter morning paragraph

A winter morning paragraph

A winter morning is misty and cold. There is dense fog everywhere. Sometimes the fog is so dense that the sun rays cannot get through it. Everything looks hazy. Things at distance can hardly be seen. The sun seems to rise late. Children and old people suffer from the pinching cold of the morning. Dew drops fall at night. When the morning sun peeps.they look like glittering pearls on grasses and plants. Farmers go to the fields with their cows and ploughs. Children and old people gather straw and make fires to warm themselves. The old people bask in the sun. Then people like to eat) chiramurikhai and various kinds of pithas. Besides, date-juice is very tasteful in the winter morning.Usually a winter morning is comfortable to the rich people. They often keep themselves under the quilt. They enjoy delicious foods and drinks. The poor people, on the other hand, suffer from cold for want of warm clothes. Sometimes, the dense fog hampers the movement of vehicles and accidents occur. However, morning fogs do not last so long.They disappear as the sun peeps up. Then the normal activities of people start. They go to their respective duties. A winter morning has its own variety and beauty.

Afterall, a winter morning is very special for us. We enjoy this morning in many ways. The sun is give some sunshine in the start of this time. Morning time is very different from other parts of a day. In the village, morning time is a busy time for farmers. They go to field to work for grow many vegetable in the ground. As a result we get rice and other fruits in our market. And we buy from the market for us. These fruits are very fresh and clean. So we wait for the a special winter morning.