ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন ? এই লেসনে আমরা এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো । আশাকরি এই লেখা টা অনেক উপকারে আসবে আপনাদের । তো চলুন তাহলে শুরু করা যাক ।ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন

ইতিহাস কীঃ

ইতিহাস শব্দের উৎপত্তি ‘ইতিহ’ শব্দের থেকে। যার অর্থ হলো ঐতিহ্য। অতীত বা বয়ে যাওয়া ব্যতিত সময়ের অভ্যাস,শিল্প,সংস্কৃতি,ভাষা ইত্যাদির সংমিশ্রনই হলো ঐতিহ্য, যা ভবিষ্যতের জন্যে সংরক্ষিত থাকে। ইতিহাস শব্দটিকে সন্ধিবিচ্ছেদ করলে দাঁড়ায় – ইতিহ+হাস,অর্থাৎ ঘটনাটি এমনই ছিলো কিংবা এমনই হয়েছিলো। ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের কাছে পৌছে দেয়াই হলো ইতিহাসের কাজ।

ইতিহাসবিদ র‍্যাপসনের মতে-ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বিবরণ। অর্থাৎ,সমাজ বা রাষ্ট্রের ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনাপ্রবাহকেই ইতিহাস বলে। ইতিহাস বিজ্ঞানেরই আরেকটি শাখা।

ইতিহাসের বিষয়বস্তু ও উপাদানঃ

পৃথিবীর সমস্ত ঘটনাই আবর্তিত হয় মানুষ আর তাদের সামাজিক কর্মকান্ডকে ঘিরে। তাই বলা যায় ইতিহাসের মুল উপাদান মানবজাতি এবং তাদের দ্বারা যুগে যুগে গড়ে তুলা সমাজ,সংস্কৃতি,সভ্যতা এবং তার পরিবর্ধন,পরিস্ফুটন,ধ্বংস ইত্যাদি।
মানুষ অভিযোজিত প্রাণি। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ হয় প্রকৃতির খেয়াল খুশি মতো নিজেকে পরিবর্তন করেছে নয়তো নিজের খেয়াল খুশিমতো প্রকৃতিকে পরিবর্তন করে নিয়েছে। সেই আদিম যুগের গুহা মানব থেকে আজকের একবিংশ শতাব্দীর অট্টালিকায় শুয়ে আরাম করা মানুষের হাজার বছরের পথচলার সংগ্রামী জীবনের ঘটনাপ্রবাহই মানব ইতিহাস।

Read More  বাংলা প্রবাদ বাক্য

ইতিহাসের বিষয়বস্তু নির্ধারণ সময়-সাপেক্ষ এবং সঠিকভাবে নির্ধারণ ক্ষমতার ভিতরের জিনিসও নয়। কারণ আমাদের সমস্তকিছুই ইতিহাস। তবুও আমাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়কে ইতিহাসের বিষয়বস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যা নিম্নরুপঃ

১. মানুষ ও সমাজ
২. মানুষের সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা
৩. মানূষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড
৪. সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড
৫. ধর্মীয় আচার ব্যাবস্থা

এসব ইতিহাস জানার জন্যে আমরা বিভিন্ন উপাদানের সাহায্য নিয়ে থাকি।যেমনঃঅতীতের সমসাময়িক লিখিত নতি,সাহিত্য,পর্যটকের বিবরণী,সরকারী-বেসরকারী নথি,শাসকদের জীবনী,চিত্রকলা,ভাস্কর্য,মুদ্রা,তৈজসপত্র ইত্যাদি।
ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তাঃ প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো সমাজের অন্তর্গত হয়ে বসবাস করে থাকেন। আর প্রতিটি সমাজই একটি সুনির্দিষ্ট অতীত অতিক্রম করে নিজেদের বর্তমান অবস্থা লাভ করে। তাই নিজের ঐতিহ্য ,নিজের পূর্বসূরিদের পথচলার বাধা-বিপত্তি অতিক্রমের ঘটনা ইত্যাদি একটি মানুষের জানা উচিত।

ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন কেন :

আমাদের জীবনে ইতিহাস পাঠ করা অতীব জরুরী একটি জিনিস। কেনো ইতিহাস পাঠ করা অতীব প্রয়োজনীয় তা নিম্নরুপঃ

১. ইতিহাস আমাদের অতীত সম্পর্কে জানায়। ফলে আমরা ভবিষ্যতের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা পাই,নিজেদের উন্নয়নে কাজ করতে কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকি। ইতিহাস শুধু অতীত জানায় না পরোক্ষভাবে ভবিষ্যতকেও জানায় । যেমনঃ অতীত ইতিহাস বলে বর্ষাকালে আমাদের দেশে কিছু কিছু এলাকায় প্রবল বন্যা হয় যা দেখে আমরা আগামী বছরেও কি হবে তার একটা ধারণা পেতে পারি এবং সেই অনুসারে বাঁধ তৈরি থেকে শুরু করে বন্যা আটকানোর ব্যবস্থা নিতে পারি।
২. অতীতের গৌরবময় ইতিহাস আমাদের উজ্জীবিত করে,আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সুখী করে তুলে কর্মক্ষম্ করে তুলে।
৩. অতীতের ইতিহাস আমাদের জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটায়। জাতীয়ভাবে আমাদের একতাবদ্ধ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটায়।
৪. ইতিহাস পাঠে মানুষের বর্তমান সিদ্ধান্তের সাথে তুলনা টানা যায়। সম্ভাব্য পরিণতির ধারণা করে নিজের সিদ্ধান্তকে পর্যালোচনা করে পরিমার্জন,পরিবর্ধন কিংবা পরিবর্তন করা যায়। যার ফলে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
৫. ইতিহাস আমাদের মনকে বড় করে তুলে,মনকে প্রশান্তি দেয়।
৬. ইতিহাস আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে যথাযত মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করে থাকে।
৭. ইতিহাস আমাদের সামাজিক,রাজনৈতিক সাফল্য,ব্যার্থতার হিসাব রাখতে সাহায্য করে।
৮. সঠিক ইতিহাস জাতি হিসেবে আমাদের নিজেদের চিনতে শেখায় এবং নিজের ভুল-ভ্রান্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়।
৯. ইতিহাস মানুষের মনের দিগন্তকে প্রসারিত করে।
১০. ইতিহাস আমাদের জাতীয় পরিচয় বহন করে থাকে।

Read More  শ্রমের মর্যাদা রচনা

শেষ কথাঃ

ইতিহাস প্রতিটি মানুষের জীবনেরই অবশ্য পাঠ্য বিষয়। মানুষের সংগ্রাম,স্বপ্ন,ব্যর্থতা,সাফল্য,স্বপ্নকে বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রমের বিবরণই হলো ইতিহাস। ইতিহাসকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কারো দ্বিমত নেই। তাই আমাদের সবার উচিত ইতিহাস জানা এবং সঠিক ইতিহাসের খোজ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x