জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড বা জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করার জন্য নিচের নিয়ম অনুসরণ করুণ । আমাদের দৈনন্দিন ও অফিসিয়াল কাজকর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ জন্ম নিবন্ধন সনদ। আপনার পরিচয় ও বয়সের পরিচায়ক এই পত্রটির নানান সময় বিভিন্ন জায়গায় জমা প্রদান করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কোনো স্কুল, কলেজে ভর্তি, বৃত্তি আবেদন, চাকরির আবেদন এরকম অসংখ্য কাজে লাগে জন্মসনদ। আগে সরকারি অফিস বা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরে ঘুরে এই সনদের কপি সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু আজকালকার যুগে তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে এই সনদ যেমন বাড়িতে বসেই সংগ্রহ করা যায় তেমনি ডিজিটাল কপিরও প্রয়োজন পড়ে প্রায়শই। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আপনি বাড়িতে বসেই জন্ম সনদের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড :

জন্ম সনদ ডাউনলোড করার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। অনলাইনে জন্মসনদের কপি ডাউনলোড করার জন্য আপনি যার জন্ম সনদটি ডাউনলোড করতে চান তার জন্মসনদের ১৭ ডিজিটের জন্ম সনদ নাম্বার এবং তার জন্ম তারিখ এই দুইটি জিনিসের প্রয়োজন হবে। প্রথমে জন্ম সনদটি ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ব্যবস্হা বা Online BRIS এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইট এ প্রবেশ করার জন্য ক্রোম বা অন্য ব্রাউজারের সার্চ বারে লিখুন Birth registration। এতটুকু লিখে সার্চ দিলেই সার্চ রেজাল্টের প্রথমেই online BRIS এর একটি ওয়েবসাইট দেখাবে। সেখানে ক্লিক করলেই ওয়েবসাইটটি ওপেন হয়ে যাবে। সেখানে তিনটি ফাঁকা ঘর আপনি দেখতে পাবেন। প্রথম ঘরের উপরে Birth registration number, দ্বিতীয় ঘরের উপরে Date of birth, এবং তৃতীয় ঘরের উপরে “The answer is” লেখা থাকবে। যার জন্ম সনদটি ডাউনলোড করতে চান তার জন্ম সনদের ১৭ ডিজিটের নাম্বারটি প্রথম ঘরে লিখতে হবে। এরপরে দ্বিতীয় ঘরে ঐ ব্যাক্তির জন্মতারিখ টি লিখতে হবে। কিন্তু আপনি যদি সাধারণ বা প্রচলিত প্যাটার্নে জন্মতারিখটি লিখেন তাহলে তা সাবমিট হবে না। যেমন : ধরুন, আপনার জন্ম তারিখ ৮ জানুয়ারি, ২০০২। সাধারণ হিসাবে আপনি যদি ০৮–০১–২০০২ এভাবে তারিখ লিখেন তবে তা এক্ষেত্রে সাবমিট হবে না। সারাজীবন আপনি যেভাবে আপনার জন্মতারিখ লিখে এসেছেন এখানে লিখতে পুরোটা তার উল্টো। আপনাকে প্রথমে বছর, পরে মাস এবং তারপরে দিন এভাবে জন্মতারিখটি লিখতে হবে, এক্ষেত্রে আপনাকে লিখতে হবে ২০০২–০১–০৮। এরপরে তার নিচের দেখবেন একটা সমীকরণ দেয়া থাকবে ক্যাপচা হিসাবে। যেমন আপনার কাছে হয়তো জানতে চাইবে ১২+৪৬ এর যোগফল বা ৭৮ – ৩২ এর বিয়োগফল ইত্যাদি। ফাঁকা ঘরটিতে অর্থাৎ তৃতীয় ঘরে আপনাকে সেই ফলাফলটি লিখে নিচে “search” লেখা বারটিতে ক্লিক করতে হবে।

এরপর আপনার সামনে একটি নতুন পেজ ওপেন হয়ে যাবে। সেখানে ব্যাক্তির কাঙ্ক্ষিত সকল তথ্য একত্রিত থাকবে। পেজটিতে যার জন্ম নিবন্ধন সার্চ করা হয়েছে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, লিঙ্গ, জাতীয়তা, জন্মস্হান, পিতা ও মাতার জন্মস্হান ইত্যাদি তথ্যগুলো বাংলাতে এবং ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটারে লেখা থাকবে। আপনাকে সেই তথ্যগুলো যাচাই করে দেখতে হবে। আর যদি স্ক্রিনে লেখা আসে “Matching birth records not found” তাহলে বুঝবেন হয় আপনি যে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার দিয়েছেন বা যে জন্ম তারিখটি দিয়েছেন দুইটার একটাতে ভুল হয়েছে। কিংবা সনদ নম্বরের সাথে জন্ম তারিখের মিল নেই। সেক্ষেত্রে আপনাকে ভুল সংশোধন করে আবার চেষ্টা করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি ডাউনলোড করার জন্য আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে আসার পরে প্রিন্ট কমাণ্ড ( Ctrl+P) দিয়ে হার্ড কপি প্রিন্ট করে নিন। এ পর্যন্ত জন্ম সনদ ডাউনলোড করার এটাই একমাত্র নিয়ম।

আশা করি, আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে কি করে জন্ম সনদ ডাউনলোড করতে হয়। এরপর আপনাকে আর গুগলের সার্চবারে গিয়ে How to check my birth certificate লিখে সার্চ করে হাজারটা ব্লগ ঘাঁটতে হবে না। আপনি খুব সহজেই উপরের নিয়মগুলো মেনে জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই বা ডাউনলোড করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x