মাছ চাষে লাভ কেমন

মাছ চাষে লাভ কেমন : মাছ আমাদের প্রাণীজ আমিষ এর একটি বড় চাহিদা পূরণ করে । প্রাণীজ আমিষ এর প্রায় শতকরা 60 থেকে 70 ভাগ পূরণ হয় মাছের দ্বারা। তাই স্বাভাবিক ভাবে মাছ আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় ।

প্রয়োজনীয়তার বশেই সকল কিছুর উদ্ভব ঘটে।  প্রাণীজ আমিষের যে চাহিদা রয়েছে তার অনেকটাই মাছের দ্বারা মেটানো সম্ভব । পাশাপাশি পুষ্টি গুণ এবং খাদ্য ভ্যালু বিবেচনায় মাছের বিকল্প নেই।

আর এই প্রয়োজনীয়তার হাত ধরেই দেশে মাছ চাষ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে পিসিকালচার নামে কৃষি বিজ্ঞানে একটি নতুন শাখা চালু হয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র মাছ এর চাষ, উপায়,  পদ্ধতি,  রক্ষণাবক্ষেণ সহ লাভ – প্রায় সকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মোট কথায় মাছ চাষের যাবতীয় সকল তথ্য আপনি খুব সহজেই পিসিকালচার থেকে জানতে পারবেন।

কেউ যদি মাছ চাষের ব্যবসা শুরু করতে চায় তাহলে তাকে সঠিক ভাবে তথ্য জেনে শুনে পা বাড়াতে হবে। কেননা মাছ চাষের পেছনে যে লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হয় তা সকলেই কমবেশি জানি  আর তাই অনেকেই এই পথে পা বাড়াতে রীতিমতো হিমশিম খায়। তবে একবার যদি সঠিক পদ্ধতি মেনে মাছ চাষ করতে পারেন তাহলে বছর শেষে লাভের অনেক মোটা অঙ্কই আপনাকে গুণতে হবে । পাশাপাশি এর উল্টোটাও ঘটতে পারে। অর্থাৎ মাছ চাষে যেহেতু বিনিয়োগ অনেক বেশি তাই সঠিক ভাবে মাছ চাষে ব্যর্থ হলে আপনাকে অনেক বড় ক্ষতির সম্মূখীন হতে হবে। তাই বুঝে শুনে আপনাকে পা বাড়াতে হবে।

Read More >>  Benefits of life insurance

মাছ চাষে লাভ কেমন

মাছ চাষে লাভ মূলত কী মাছ চাষ করছেন তার উপর নির্ভর করে। এবং শুধু তাই নয় আপনি কী পরিমাণ জমিতে মাছের চাষ করছেন সেটিও  এক্ষেত্রে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ মাছ চাষে আপনি কেমন লাভ করবেন এটির কোনো নির্দিষ্টতা নেই। তবে হ্যাঁ, মাছের জাত অনুযায়ী আপনি কী রকম লাভ পেতে পারেন তার একটি ধারণা অবশ্যই দেয়া যায়।

তাই আমরা ধরে নিতে পারি মাছ চাষে আপনি কী রকম লাভ করবেন তা কয়েকটি বিষয় এর উপর নজরদারি করতে হবে-

  • মজুদকৃত মাছ (কৈ/শিং/মাগুর/গুলশা, পাঙ্গাশ/পাবদা, তেলাপিয়া, কার্প, ইত্যাদি মাছ) এর উপর 25 শতাংশ।
  •  প্রয়োগকৃত খাদ্য (ডুবন্ত/ভাসমান, পুষ্টিমান, দেহওজনের খাদ্য, ইত্যাদি প্রদান) এর উপর 25 শতাংশ।
  • বিনিয়োগকৃত পুকুর (আয়তন, গভীরতা, পানির রঙ, পাড়, চাষের সময়, ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য) উপর 25 শতাংশ।
  • গৃহ ব্যবস্থাপনা (ঐতিহ্যগত, আধানিবিড়, নিবিড়, উন্নত নিবিড়, অতিনিবিড় ইত্যাদি চাষ) এর উপর 25 শতাংশ।

বলা হয়ে থাকে মাছ চাষ করতে গেলে যেন তেলাপিয়া মাছ চাষ করা হয় । কেননা তেলাপিয়া জাতের চাষের মাধ্যমে সব থেকে বেশি লাভ করা সম্ভব। তবে বর্তমানে মাছ চাষের আধুনিক সব পদ্ধতি আবিষ্কার এর ফলে অন্যান্য জাত যেমন- শিং, মাগুর ইত্যাদি থেকে এর সমপরিমাণ কিংবা এমনকি তারও অধিক লাভ অর্জন করা সম্ভব। তবে সবই নির্ভর করবে যথাযথ ব্যবস্থা ও পরিচর্চার উপর।

Read More >>  ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড কি এবং এর পার্থক্য

 বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় এখানে মাছ চাষে বাড়তি সুবিধা হয়ে থাকে। তেলাপিয়া জাতটি কমার্সিয়ালি যে রকম লাভজনক পাশাপাশি এটি তেমনি কমন একটি জাত। এছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি এর চাষ হয়ে থাকে  দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই চিংড়ির বেশ ডিমান্ড রয়েছে।

আপনি যদি এক একর পুকুরে তেলাপিয়া এর চাষ করতে পারেন তাহলে এর ফার্মিং এর জন্য আপনার বিনিয়োগ করতে হবে আনুমানিক প্রায় 2.07 লাখ টাকা। এবং চাষ শেষে আপনি আয় করতে পারবেন আনুমানিক প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এবং পরিশেষে আপনি লাভ হিসেবে আনুমানিক প্রায় 1.40 লাখ টাকা।

এখন আপনি যদি প্রজাতি ভিত্তিতে মাছের চাষ করতে চান তাহলে কী রকম লাভ করতে পারবেন তা একটু দেখে নিন। আপনি যদি প্রতি এক একরে মাছের চাষ করেন তাহলে প্রত্যেক একর প্রতি মাছের চাষ শেষে আপনি হাতে পাবেন আনুমানিক প্রায়-

কৈ/শিং/মাগুর/গুলশা (৩ চক্রে) = ১২০,০০০-২২০,০০০ টাকা

পাঙ্গাশ/পাবদা (১.৫ চক্রে) = ৮০,০০০-১০০,০০০ টাকা

কার্প (১ চক্রে) = ৫০,০০০-৮০,০০০ টাকা।

অর্থাৎ এটি স্বাভাবিক ভাবেই পরিষ্কার যে আপনার মাছের প্রজাতি এবং কী পরিমাণ জায়গায় আপনি মাছের চাষ করবেন তার উপরেই সম্পূর্ণ লাভ নির্ধারিত হবে।

Read More >>  ব্যবসা নিয়ে উক্তি

পরিশেষে-

আপনার মাছ চাষ পদ্ধতি সঠিক রেখে যদি পুষ্টিকর খাবার সাপ্লাই এবং নিবিড় ভাবে যথাযথ পরিচর্যা করতে পারেন , তাহলে আপনি মাছ চাষের ক্ষেত্রে আশাপূর্ণ ফলাফল লাভ করতে পারবেন। তাই আমি আপনাকে মাছ চাষের সঠিক পদ্ধতি এবং সকল নিয়ম কানুন জেনে বুঝে তারপরই মাছ চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করব। এবং পিসিকালচার নিয়েও যথেষ্ট জ্ঞান আরোহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *