পথ বা রাস্তা নিয়ে উক্তি স্ট্যাটাস বাণী ক্যাপশন ও কিছু কথা সম্পর্কিত আমাদের আজকের পোস্ট । আমরা সবাই প্রতিদিন কোন না কোন পথ বা রাস্তা দিয়ে হাটি । অনেক সময় কোন সুন্দর রাস্তা দেখলে আমরা কোন কারণ ছাড়াই হাটি । আবার অনেক সময় প্রেমিক প্রেমিকার হাত ধরে পার্কে হাটে । হাটা-হাটি আসলে আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । তাহলে আসুন এবার আমরা পথ বা রাস্তা সম্পর্কিত উক্তি বা বাণী পড়ে ফেলি ।
পথ নিয়ে উক্তি
১. পথ হাঁটলে নতুন স্বপ্ন পাওয়া যায়।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. রাস্তা আমাদের জীবনের গল্প বলে।
– কাজী নজরুল ইসলাম
৩. প্রতিটা পথ একটা নতুন শুরু।
– জীবনানন্দ দাশ
৪. হাঁটতে হাঁটতে জীবন শিখি।
– সুকান্ত ভট্টাচার্য
৫. পথের ফুল আমাদের হাসতে শেখায়।
– হুমায়ূন আহমেদ
৬. রাস্তা আমাদের সাহস দেয়।
– শামসুর রাহমান
৭. পথের বাঁকে সুখ লুকিয়ে থাকে।
– সৈয়দ শামসুল হক
৮. হাঁটার পথে নতুন বন্ধু পাই।
– রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
৯. রাস্তার ধুলো আমার গল্প।
– আল মাহমুদ
১০. পথ আমাকে নতুন আলো দেখায়।
– সুফিয়া কামাল

১১. হাঁটতে হাঁটতে স্বপ্ন ছড়াই।
– নির্মলেন্দু গুণ
১২. রাস্তা আমার সঙ্গী হয়।
– হেলাল হাফিজ
১৩. পথের শেষে আলো থাকে।
– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
১৪. রাস্তায় ফুল পড়লে মন নাচে।
– শঙ্খ ঘোষ
১৫. পথ আমাকে শক্তি দেয়।
– মাইকেল মধুসূদন দত্ত
১৬. হাঁটার পথে গান গাই।
– লালন ফকির
১৭. রাস্তার গাছ আমার বন্ধু।
– সমরেশ মজুমদার
১৮. পথে হাঁটলে মনটা হাসে।
– বুদ্ধদেব বসু

১৯. রাস্তা আমার স্বপ্নের পথ।
– আহমদ ছফা
২০. পথের বাঁকে নতুন গল্প।
– সৈয়দ আলী আহসান
২১. হাঁটতে হাঁটতে জীবন মজার।
– সৈয়দ মুজতবা আলী
২২. রাস্তার আলো আমার স্বপ্ন।
– আবুল হাসান
২৩. পথ আমাকে নতুন শুরু দেয়।
– হাসান আজিজুল হক
২৪. রাস্তার ফুল আমাকে ডাকে।
– আনিসুল হক
২৫. পথ হাঁটি, জীবন গড়ি।
– শেখ ফজলুল করিম

পথ নিয়ে ফেসবুক ক্যাপশন


পথ নিয়ে কবিতা
রাস্তা দিয়ে চলি আমি,
ফুলের পাশে থামি।
গাছের ছায়ায় হাসি মুখ,
মনটা আমার পায় সুখ।
পথের বাঁকে নতুন আলো,
স্বপ্ন আমার হয় ভালো।
হাঁটতে হাঁটতে গান গাই,
পথ আমার বন্ধু তাই।
পথ নিয়ে স্ট্যাটাস



পথ নিয়ে গান
পথ দিয়ে হাঁটি আমি,
গাছের ছায়ায় থামি।
ফুলের হাসি দেখে মন,
নাচে আনন্দে সারাক্ষণ।
রাস্তার বাঁকে লুকিয়ে আছে,
নতুন স্বপ্ন, নতুন কাছে।
হাঁটতে হাঁটতে গাই গান,
পথ আমার সঙ্গী প্রাণ।
পথ বা রাস্তা নিয়ে উক্তি
১.
সব রাস্তা গন্তব্য চেনে না,
কিছু রাস্তা শুধু মানুষকে চিনিয়ে দেয়।
হাঁটতে হাঁটতেই বোঝা যায়—
আমি কে ছিলাম, আর কী হয়ে উঠছি।

২.
যে পথে ভিড় বেশি,
সে পথে নিজের শব্দ শোনা যায় না।
নিঃশব্দ রাস্তারাই
মানুষকে মানুষ বানায়।
৩.
রাস্তা কখনো ভুল হয় না,
ভুল হয় আমাদের তাড়া।
সব গন্তব্য দৌড়ে পৌঁছায় না,
কিছু পৌঁছায় থেমে থেমে।
৪.
পথ চলতে গিয়ে বুঝেছি—
সোজা রাস্তা সব সময় সহজ নয়।
আর বাঁকা রাস্তা
সব সময় ভুলেও যায় না।
৫.
রাস্তার ধুলো পায়ে লাগে,
কিন্তু শেখায় মাথায়।
যে পথ কষ্ট দেয়,
সে পথই দৃষ্টি দেয়।
৬.
সব রাস্তা শহরে যায় না,
কিছু রাস্তা নিজের ভেতরে ঢোকে।
সে পথে হাঁটতে সাহস লাগে,
মানচিত্র নয়।
৭.
যে রাস্তা প্রশ্ন তোলে,
সে রাস্তা জীবন্ত।
যে রাস্তা শুধু উত্তর দেয়,
সে রাস্তা মৃত অভ্যাস।
৮.
পথে নামলে বোঝা যায়—
সব সঙ্গী শেষ পর্যন্ত থাকে না।
কিছু মানুষ মোড় পর্যন্ত,
কিছু শিক্ষা আজীবন।
৯.
রাস্তা কখনো প্রতিশ্রুতি দেয় না,
তবু মানুষ ভরসা রাখে।
হয়তো তাই জীবন
একটা চলমান পথ।
১০.
যে রাস্তা হারিয়ে যেতে শেখায়,
সে রাস্তা খুঁজে পেতেও শেখায়।
হারানো মানেই শেষ নয়,
কখনো কখনো শুরু।
১১.
পথে হাঁটতে হাঁটতে
পেছনে তাকাতে নেই সব সময়।
কিছু রাস্তা এগোয় শুধু তখনই,
যখন চোখ সামনে থাকে।
১২.
রাস্তা প্রশ্ন করে না তুমি কে,
শুধু জিজ্ঞেস করে—
তুমি চলবে তো?
১৩.
সব পথ লক্ষ্য জানে না,
কিন্তু সব পথ শিক্ষা দেয়।
জীবনও ঠিক তেমনই।
১৪.
যে পথে কাঁটা আছে,
সে পথেই গোলাপ ফুটতে জানে।
আরাম আর অর্থ
একই রাস্তার নয়।
১৫.
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে
সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়
হাঁটতে হাঁটতে।
১৬.
যে রাস্তা একা পার হতে হয়,
সে রাস্তা চরিত্র গড়ে।
ভিড়ের পথ
শুধু গন্তব্য বদলায়।
১৭.
সব রাস্তা তোমাকে ডাকবে না,
কিছু রাস্তা অপেক্ষা করবে।
তুমি প্রস্তুত হলে তবেই
সে পথ খুলবে।
১৮.
রাস্তা কখনো ক্লান্ত হয় না,
ক্লান্ত হয় পথিক।
তবু আবার হাঁটে,
এই তো মানুষের জেদ।
১৯.
যে পথে ভুল করেছ,
সে পথকে ঘৃণা কোরো না।
সেই পথই তোমাকে
ভুল চিনতে শিখিয়েছে।
২০.
রাস্তা মানে শুধু মাটি নয়,
রাস্তা মানে সময়।
যত এগোও,
তত বদলে যাও।
২১.
সব রাস্তা আলো চায় না,
কিছু রাস্তা অন্ধকারেই শেখায়।
চোখ খুলে হাঁটলেই যথেষ্ট।
২২.
পথ চলা মানেই পৌঁছানো নয়,
পথ চলা মানে শেখা।
পৌঁছানো তো শুধু
একটা বিরতি।
২৩.
রাস্তার ভাষা নীরব,
তবু গভীর।
যে শুনতে জানে,
সে হারায় না।
২৪.
যে পথে কেউ যায় না,
সে পথে গল্প জমে।
সেই গল্পই একদিন
ইতিহাস হয়।
২৫.
রাস্তা কখনো তাড়াহুড়ো করে না,
তবু সময়মতো পৌঁছে দেয়।
সময়কে বিশ্বাস করতে শিখো।
২৬.
পথে নামার আগে ভয় লাগে,
পথে নামার পর সাহস আসে।
এটাই জীবনের নিয়ম।
২৭.
সব রাস্তা সুখের দিকে যায় না,
কিন্তু সব রাস্তা শক্ত করে।
শক্ত মানুষই
সুখ চিনতে পারে।
২৮.
রাস্তা বদলালে মানুষ বদলায় না,
মানুষ বদলালে রাস্তা বদলায়।
ভেতরের পরিবর্তনই আসল।
২৯.
পথে থামা হার নয়,
থেমে না হাঁটাই হার।
বিশ্রাম আর পরাজয়
এক জিনিস নয়।
৩০.
রাস্তা তোমাকে ঠেলে দেয় না,
তুমি নিজেই হাঁটো।
দায়িত্বটা তাই
তোমারই।
৩১.
যে রাস্তা তোমাকে ভাঙে,
সে রাস্তা তোমাকে গড়বেও।
শর্ত একটাই—
হাল ছাড়বে না।
৩২.
সব পথ মানচিত্রে থাকে না,
কিছু পথ বিশ্বাসে চলে।
হৃদয়টাই তখন দিকনির্দেশ।
৩৩.
রাস্তার ধৈর্য অসীম,
মানুষের ধৈর্য সীমিত।
তবু দু’জনেই
আবার শুরু করে।
৩৪.
যে পথে প্রশ্ন বেশি,
সে পথে উত্তর গভীর।
সহজ পথ সব সময়
সত্য বলে না।
৩৫.
রাস্তা শেখায় অপেক্ষা,
জীবন শেখায় গ্রহণ।
দুটো মিললেই
শান্তি আসে।

৩৬.
সব রাস্তা তোমার জন্য নয়,
কিন্তু তোমার রাস্তা
অন্য কেউ হাঁটবে না।
৩৭.
পথে কাদা থাকলে
জুতো নোংরা হয়।
পথে সত্য থাকলে
মন পরিষ্কার হয়।
৩৮.
রাস্তা কখনো তোমাকে চেনে না,
তুমি হাঁটতে হাঁটতে
নিজেকে চিনে নাও।
৩৯.
যে পথ তোমাকে একা করে,
সে পথই তোমাকে পূর্ণ করে।
নিঃসঙ্গতা সব সময় শূন্য নয়।
৪০.
রাস্তা শেষ হয়,
যাত্রা নয়।
একটা গন্তব্য মানেই
আরেকটা শুরু।
৪১.
পথে নামার সাহসটাই
সবচেয়ে বড় পুঁজি।
বাকি সব
পথই শেখায়।
৪২.
যে রাস্তা তোমাকে বদলায় না,
সে রাস্তা তোমার নয়।
নিজের পথ মানেই
নিজের রূপান্তর।
৪৩.
রাস্তা ভুল দেখায় না,
আয়নার মতো সত্য দেখায়।
পছন্দ হোক বা না হোক।
৪৪.
সব পথ আলোয় শুরু হয় না,
কিছু পথ ভোর বানায়।
হাঁটলেই আলো আসে।
৪৫.
পথে পড়ে গেলে লজ্জা নেই,
উঠতে না চাইলে আছে।
রাস্তা ক্ষমাশীল।
৪৬.
যে রাস্তা প্রশ্নহীন,
সে রাস্তা অর্থহীন।
জিজ্ঞাসাই মানুষকে
এগিয়ে নিয়ে যায়।
৪৭.
রাস্তা কাউকে বড় বানায় না,
রাস্তা ছোটকেও
দূর পর্যন্ত নিয়ে যায়।
৪৮.
পথে হারালে নিজেকে দোষ দিও না,
কখনো কখনো
হারানোই খোঁজ।
৪৯.
রাস্তা মানে শুধু চলা নয়,
রাস্তা মানে দাঁড়িয়ে ভাবা।
দুটোই সমান জরুরি।
৫০.
শেষ পর্যন্ত যে রাস্তা তোমাকে শান্ত করে,
সেই রাস্তা সঠিক।
সাফল্য নয়,
শান্তিই আসল গন্তব্য।
জীবনের নীরব রাস্তা
১.
নীরব রাস্তা শব্দ করে না,
তবু অনেক কথা শেখায়।
এ পথে হাঁটলে বোঝা যায়—
চুপ থাকাও এক ধরনের শক্তি।
২.
জীবনের নীরব রাস্তা
ভিড় পছন্দ করে না।
এখানে মানুষ
নিজের সাথেই কথা বলে।
৩.
যে রাস্তা চুপচাপ থাকে,
সে রাস্তা গভীর হয়।
চিৎকার করা পথের চেয়ে
নীরব পথ বেশি সত্য।

৪.
নীরব রাস্তায় হাঁটলে
কেউ হাত ধরে না।
তবু এই পথই
নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখায়।
৫.
সব উত্তর শব্দে আসে না,
কিছু উত্তর আসে নীরবতায়।
জীবনের নীরব রাস্তা
সেই উত্তরগুলোর ঠিকানা।
৬.
নীরব রাস্তায় আলো কম,
কিন্তু চোখ খোলে বেশি।
এ পথে হাঁটতে গেলে
ভেতরের আলো দরকার।
৭.
যে রাস্তা তোমাকে একা করে,
সে রাস্তা তোমাকে পূর্ণও করে।
নীরবতার ভেতরেই
নিজের আসল রূপ।
৮.
নীরব রাস্তা সময় নেয়,
তাড়াহুড়ো মানে না।
এখানে পৌঁছাতে হয়
ধীরে, বুঝে।
৯.
সবাই যে পথে যায়,
সে পথ নীরব হয় না।
নীরব রাস্তা বেছে নেয়
যারা গভীর হতে চায়।
১০.
নীরব রাস্তা প্রশ্ন করে না,
আয়নার মতো তাকিয়ে থাকে।
তুমি যা,
সেটাই দেখায়।
১১.
এই রাস্তায় কোলাহল নেই,
কিন্তু অনুভূতি আছে।
চুপচাপ হাঁটতে হাঁটতেই
ভাঙা মন জোড়া লাগে।
১২.
নীরব রাস্তা কাউকে তাড়া দেয় না,
তবু বদলে দেয়।
শব্দ ছাড়াই
মানুষকে নতুন করে।
১৩.
যে নীরবতা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়,
সে নীরবতা নয়।
জীবনের নীরব রাস্তা
মুক্তির ভাষা জানে।
১৪.
নীরব রাস্তায় দাঁড়িয়ে
ফেরার তাড়া থাকে না।
এখানে থামাটাও
একটা অগ্রগতি।
১৫.
সব রাস্তা গন্তব্য দেখায় না,
কিছু রাস্তা আত্মা দেখায়।
জীবনের নীরব রাস্তা
সেই বিরল পথ।
১৬.
নীরব রাস্তা ভুল ঢাকে না,
সোজাসুজি সামনে আনে।
এই কারণেই
এই পথটা কঠিন।
১৭.
এই রাস্তায় হারালে
কেউ হাসে না।
কারণ এখানে হারানো মানেই
নিজেকে পাওয়া।
১৮.
নীরব রাস্তা ছোট মনে হয়,
কিন্তু গভীর।
সমুদ্রও তো
নীরবই থাকে।
১৯.
এই পথে হাঁটতে গেলে
মুখ বন্ধ রাখতে হয় না,
মন খুলে দিলেই
যথেষ্ট।
২০.
জীবনের নীরব রাস্তা
শেষ পর্যন্ত শান্ত করে।
সব কিছু পাওয়া নয়,
নিজের সাথে ঠিক হওয়াই এখানে গন্তব্য।
হাঁটার মাঝে শেখা কথা
১.
হাঁটতে হাঁটতেই বুঝেছি,
সব প্রশ্নের উত্তর দৌড়ে মেলে না।
কিছু সত্য
পায়ের তলায় জমে।
২.
হাঁটার মাঝে শেখা যায়—
থামা মানে শেষ নয়।
কখনো থেমেই
নিজেকে ধরা যায়।
৩.
দূরত্ব শুধু গন্তব্যের নয়,
দূরত্ব নিজের সাথেও হয়।
হাঁটতে হাঁটতেই
সে ফাঁকটা বোঝা যায়।
৪.
হাঁটার সময় কেউ হাত ধরে না,
কিন্তু পথটা শেখায় ভারসাম্য।
নিজের ওজন
নিজেকেই বইতে হয়।
৫.
হাঁটতে হাঁটতে শিখেছি—
সব শব্দ দরকারি নয়।
নীরবতাও
অনেক কথা বলে।
৬.
হাঁটার মাঝে ভুল হলে
লজ্জা কম লাগে।
কারণ পথ জানে—
ভুল ছাড়া শেখা নেই।

৭.
পা এগোয় ধীরে,
মন এগোয় গভীরে।
হাঁটার মাঝেই
মানুষ বড় হয়।
৮.
হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায়,
সব রাস্তা সমান নয়।
কিন্তু সব রাস্তাই
কিছু না কিছু দেয়।
৯.
হাঁটার সময় পেছনে তাকাই,
কিন্তু থেমে থাকি না।
স্মৃতি সাথে চলে,
কিন্তু পথ সামনে।
১০.
হাঁটতে হাঁটতে শিখেছি—
ভার হালকা হয় ভাগ করলে।
কিন্তু কিছু বোঝা
একাই বহন করতে হয়।
১১.
হাঁটার মাঝে সময় ধীরে চলে,
কিন্তু চিন্তা দ্রুত।
এই ফাঁকেই
বোধ জন্মায়।
১২.
হাঁটতে হাঁটতে বুঝি,
সব গন্তব্য পৌঁছানোর জন্য নয়।
কিছু গন্তব্য
শুধু দেখার জন্য।
১৩.
হাঁটার সময় পা ক্লান্ত হয়,
মন হয় না।
মন ক্লান্ত হলে
হাঁটাই ওষুধ।
১৪.
হাঁটতে হাঁটতে শিখেছি—
সঙ্গী বদলায়,
কিন্তু পথের শিক্ষা
থেকে যায়।
১৫.
হাঁটার মাঝে সিদ্ধান্ত নিলে
ভয় কম লাগে।
চলমান মানুষ
স্থির ভয় পায় না।
১৬.
হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায়,
সব দরজা খোলা নয়।
কিছু দরজা পাশ কাটিয়েই
নিজেকে পাওয়া যায়।
১৭.
হাঁটার সময় পড়ে গেলে
মাটি চিনে যায়।
আবার উঠলে
নিজেকেই চিনে নিই।
১৮.
হাঁটতে হাঁটতে শিখেছি—
সব উত্তর পেতে চাইলে
সব প্রশ্ন ধরে রাখা যায় না।
১৯.
হাঁটার মাঝে মানুষ ছোট হয়,
আবার বড়ও হয়।
সবটাই নির্ভর করে
সে কী শেখে তার উপর।
২০.
হাঁটার মাঝে শেখা কথা একটাই—
চলতে থাকলেই
পথ মানে কিছু হয়।
অচেনা পথে নিজের খোঁজ
১.
অচেনা পথে নামলেই
নিজের পরিচিত মুখটা হারায়।
এই হারানোই ধীরে ধীরে
নিজেকে চিনিয়ে দেয়।
২.
সব পরিচিত রাস্তা
নিজেকে দেখায় না।
অচেনা পথই
আয়নার মতো সত্য।
৩.
অচেনা পথে হাঁটতে গেলে
সাহস লাগে, মানচিত্র নয়।
কারণ এখানে
ভরসা একমাত্র নিজেই।
৪.
যে পথে কেউ ডাক দেয় না,
সেই পথে নিজের আওয়াজ শোনা যায়।
অচেনা পথ
নিজের সাথে পরিচয় করায়।
৫.
অচেনা পথে ভুল করলে
কেউ বিচার করে না।
এই স্বাধীনতাতেই
নিজেকে খুঁজে পাই।
৬.
অচেনা পথ শেখায়—
সব প্রশ্নের উত্তর বাইরে নেই।
কিছু উত্তর
পায়ের শব্দের ভেতরে।
৭.
অচেনা পথে গিয়ে বুঝি,
আমি যতটা ভাবতাম
তার চেয়ে
অনেক বেশি পারি।
৮.
পরিচিত পথে আমি ছিলাম আরামি,
অচেনা পথে আমি মানুষ।
ভয় আর সম্ভাবনার মাঝখানেই
নিজের জন্ম।
৯.
অচেনা পথে থামলে
ফেরার তাড়া থাকে না।
কারণ এখানে থামা মানেই
নিজেকে শোনা।
১০.
অচেনা পথ প্রশ্ন করে না তুমি কে,
জিজ্ঞেস করে তুমি কী হতে চাও।
এই প্রশ্নটাই
নিজের খোঁজ।
১১.
অচেনা পথে একা লাগলেও
ভেতরে ভিড় জমে।
নতুন চিন্তা, নতুন সাহস
নতুন আমি।
১২.
যে পথে ভয় লাগে,
সেই পথে সত্য থাকে।
অচেনা পথ
মিথ্যা আরাম দেয় না।
১৩.
অচেনা পথে হারালে
নিজেকে দোষ দিই না।
কারণ এই হারানো
খোঁজেরই অংশ।
১৪.
অচেনা পথ সময় নেয়,
কিন্তু মানুষ গড়ে।
তাড়াহুড়ো করলে
নিজেকে মিস করি।
১৫.
অচেনা পথে হাঁটতে হাঁটতে
পুরোনো আমি ঝরে পড়ে।
জায়গা করে দেয়
নতুন বোঝাপড়া।
১৬.
অচেনা পথ শেখায় সীমা,
আর সেই সীমা ভাঙতে।
নিজেকে খোঁজা মানেই
নিজেকে ছাড়ানো।
১৭.
অচেনা পথে কাউকে পেলে
সে থাকে না আজীবন।
কিন্তু যে নিজেকে পাই,
সে আর হারায় না।
১৮.
অচেনা পথ চুপচাপ থাকে,
কিন্তু গভীর।
নিজের খোঁজও তো
ঠিক তেমনই।
১৯.
অচেনা পথে হাঁটতে গেলে
সব উত্তর সঙ্গে নেওয়া যায় না।
শুধু খোলা মনই
সবচেয়ে বড় সম্বল।
২০.
অচেনা পথে নিজের খোঁজ
একটা যাত্রা নয়,
এটা একটা ধীরে ধীরে
নিজের হয়ে ওঠা।
গন্তব্য নয়, যাত্রার গল্প
১.
গন্তব্য পৌঁছালেই গল্প শেষ নয়,
গল্পটা লেখা হয় হাঁটার সময়।
পথের ধুলো, ক্লান্তি আর ভাবনাই
আসল অধ্যায়।
২.
আমরা সবাই গন্তব্যের দিকে তাকাই,
কিন্তু জীবন মনে রাখে যাত্রা।
যেখানে আমরা বদলেছি,
সেখানেই গল্প জন্মায়।
৩.
গন্তব্য মানে একটি থামা,
যাত্রা মানে প্রতিটি শ্বাস।
শ্বাসের মাঝখানেই
জীবন জমে থাকে।
৪.
যাত্রার পথে যা হারাই,
সেগুলোই আমাদের হালকা করে।
গন্তব্য শুধু জানায়—
এতদূর এসেছি।
৫.
গন্তব্য ছবি তোলার জায়গা,
যাত্রা অনুভব করার।
ছবি ফিকে হয়,
অনুভব থেকে যায়।
৬.
যাত্রার গল্পে ভুল আছে,
ক্লান্তি আছে, থামা আছে।
এই অসম্পূর্ণতাই
গল্পকে সত্যি করে।
৭.
সবাই গন্তব্য জানতে চায়,
কেউ যাত্রা বোঝে না।
কিন্তু যে বোঝে,
সে তাড়াহুড়ো করে না।
৮.
যাত্রার সময় যে মানুষটি ছিলাম,
গন্তব্যে গিয়ে সে আর থাকি না।
এই বদলটাই
জীবনের সার্থকতা।
৯.
গন্তব্যের চেয়ে বড় প্রশ্ন—
আমি পথে কেমন ছিলাম?
কারণ শেষটা নয়,
চলার ভঙ্গিই পরিচয়।
১০.
যাত্রা মানে প্রতিদিন নিজেকে
একটু একটু ছেড়ে দেওয়া।
গন্তব্য এসে গেলে
ছাড়ার দরকার থাকে না।
১১.
যাত্রার গল্পে কেউ নায়ক নয়,
সবাই পথিক।
এই সমতাই
মানুষকে কাছাকাছি আনে।
১২.
গন্তব্যে পৌঁছে বোঝা যায়,
আসলে তাড়াহুড়োর কিছুই ছিল না।
যাত্রাই ছিল
সবচেয়ে জরুরি।
১৩.
যাত্রার সময় প্রশ্ন জন্মায়,
গন্তব্যে উত্তর মেলে।
কিন্তু উত্তর ছাড়াও
প্রশ্নগুলো প্রিয়।
১৪.
গন্তব্যের জন্য ছুটলে
যাত্রা মিস হয়।
যাত্রাকে ধরলে
গন্তব্য নিজেই আসে।

১৫.
যাত্রার গল্প লিখতে
কালি লাগে না।
লাগে সময়,
আর একটু ধৈর্য।
১৬.
গন্তব্য আমাদের থামায়,
যাত্রা আমাদের শেখায়।
শেখাটাই যদি না থাকত,
পৌঁছানো অর্থহীন।
১৭.
যাত্রার পথে যে ক্ষত লাগে,
সেগুলোই পরে স্মৃতি হয়।
গন্তব্য শুধু
একটা তারিখ।
১৮.
গন্তব্য সবাই দেখায়,
যাত্রা সবাই দেখাতে পারে না।
কারণ যাত্রা
ভেতরের ব্যাপার।
১৯.
যাত্রার গল্পে ফিরে তাকালে
গন্তব্য ফিকে লাগে।
কারণ বাঁচাটা তো
পথেই হয়েছে।
২০.
শেষ পর্যন্ত বুঝি—
গন্তব্য নয়, যাত্রার গল্পই
আমাদের মানুষ বানায়।
যে পথ মানুষ বানায়
১.
যে পথ আরাম দেয় না,
সেই পথ মানুষ বানায়।
কারণ আরাম অভ্যাস শেখায়,
কষ্ট শেখায় বোঝাপড়া।
২.
যে পথে প্রশ্ন বেশি,
সেই পথে মানুষ তৈরি হয়।
নিশ্চিত উত্তর
মানুষকে বাড়ায় না।
৩.
মানুষ বানানো পথ
হাত ধরে টানে না।
ঠেলে দেয় বাস্তবের দিকে,
সেখানেই শেখা।
৪.
যে পথে একা হাঁটতে হয়,
সেই পথে চরিত্র গড়ে।
ভিড়ের পথ
শুধু অভ্যাস তৈরি করে।
৫.
যে পথ ভয় দেখায়,
সে পথই সাহস চেনে।
মানুষ বানাতে হলে
ভয়ের মুখোমুখি হতে হয়।
৬.
মানুষ বানানো পথে
ভুল ঢেকে রাখা যায় না।
ভুলের ভেতর দিয়েই
মানুষ হওয়া।
৭.
যে পথ তোমাকে ভাঙে,
সে পথ তোমাকে গড়েও।
শর্ত একটাই—
ভাঙা জায়গা থেকে পালিও না।
৮.
মানুষ বানানো পথ
ধীরে চলে।
তাড়াহুড়ো করলে
শেখাটা বাদ পড়ে।
৯.
যে পথে দায়িত্ব শেখা যায়,
সেই পথ গভীর।
স্বাধীনতা তখনই আসে,
যখন দায় নিতে পারি।
১০.
মানুষ বানানো পথে
কেউ বাহবা দেয় না।
তবু এই পথেই
নিজের সম্মান জন্মায়।
১১.
যে পথে মুখোশ খুলে পড়ে,
সেই পথে সত্য থাকে।
মানুষ হওয়া মানেই
সত্য সহ্য করা।
১২.
মানুষ বানানো পথ
সবাইকে নেয় না।
শুধু যারা বদলাতে রাজি,
তাদেরই ডাকে।
১৩.
যে পথে সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়,
সেই পথে মানুষ বড় হয়।
দায় অন্যের ঘাড়ে দিলে
বড় হওয়া থেমে যায়।
১৪.
মানুষ বানানো পথে
থামা নিষেধ নয়।
কিন্তু থেমে না হাঁটা
একটা অপরাধ।
১৫.
যে পথে হারানোও শিক্ষা,
সেই পথ আসল।
কারণ মানুষ হওয়া মানেই
সব জানার ভান ছাড়া।
১৬.
মানুষ বানানো পথে
সবাই সঙ্গী হয় না।
কিন্তু যারা থাকে,
তারা চেনা যায়।
১৭.
যে পথ তোমাকে নীরব করে,
সে পথ গভীর করে।
গভীর মানুষ
কোলাহল পছন্দ করে না।
১৮.
মানুষ বানানো পথে
সহজ উত্তর নেই।
আছে শুধু
সৎ প্রশ্ন।
১৯.
যে পথে নিজের সীমা বোঝা যায়,
সেই পথে শক্তি আসে।
মানুষ হওয়া মানেই
সীমা মানা আর ভাঙা—দুটোই।

২০.
শেষ পর্যন্ত যে পথ
তোমাকে শান্ত করে,
নিজের চোখে ঠিক রাখে—
সেই পথই মানুষ বানায়।
শেষ কথা
পথ আমাদের জীবনের একটা বড় বন্ধু। প্রতিটা রাস্তা আমাদের নতুন কিছু শেখায়। কখনো হাসি, কখনো গান, কখনো স্বপ্ন। তাই পথে হাঁটতে ভয় পাবো না। হাতে হাত ধরে এগিয়ে যাবো। রাস্তার ফুল আর গাছ আমাদের সঙ্গী। চলো, আমরা সবাই মিলে পথের গল্প লিখি!