রূপকথার গল্প কাল্পনিক গল্প অলৌকিক গল্প

ফেনীর অপরূপ সৌন্দর্য্যের এক লিলা ভূমি ও আকর্ষণীয় স্থান বিজয় সিংহ দিঘী। এই দীঘি ফেনী শহরের প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে ফেনী সার্কিট হাউসের সামনে অবস্থিত। বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি এ বিজয় সিংহ দিঘী। এ দিঘীর আয়তন ৩৭.৫৭ একর। এ দিঘীর অনেক ইতিহাস রয়েছে। এ ইতিহাসকে কেউ রূপকথার গল্প বলে, কেউ কাল্পনিক গল্প বলে কেউবা আবার বলে অলৌকিক গল্প।

যাইহোক, ছোট বেলায় যখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি তখন আমার বাংলা শিক্ষক বললেন, অনেক অনেক বছর আগে এ দিঘীর পানির নিছে নাকি স্বর্ণের একটি নৌকা ছিল। সে নৌকাতে স্বর্ণের হাড়ি, পাতিল, থালা, বাটি, চামচ, গহনা ইত্যাদি সবই ছিল। মোটকথা একটি বিয়েতে যা যা লাগে সবই ছিল এই নৌকাতে। কোন গরিব বাবার মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে বিয়ের যাবতীয় জিনিসপত্র বিজয় সিংহ দিঘীর নৌকা বহন করত। অর্থাৎ কোনো গরিব মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে, তার বাবা দিঘীর সামনে গিয়ে যদি বলে, আমার কন্যার বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্তু আমার কোন কিছুই ব্যবস্থা করার সামর্থ্য নেই তখনই নৌকা পানি থেকে অদৃশ্য হয়ে উপরে উঠে সে সব স্বর্ণের হাড়ি-পাতিল গহনা দেয়।

তবে শর্ত থাকে এই যে, বিয়ে শেষে সব কিছু ফিরিয়ে দিতে হবে নৌকায়। এভাবে কোন গরীব কন্যার বিয়ে ঠিক হলে তার বাবা বিয়ের আগের দিন সকল জিনিসপত্র নৌকা থেকে নিয়ে যেত এবং বিয়ে শেষ করেই জিনিসপত্র আবার নৌকাতে ফেরত দিত। এ শর্ত অনুযায়ী চলতে লাগলো অনেক বছর। হঠাৎ একটা বিয়ে থেকে জিনিসপত্র ফেরত এনে নৌকাতে জমা দেওয়ার পরও নৌকাটি ডুবে না। অনেকবার ডুবানোর চেষ্টা করা হলেও নৌকাটি ডুবে যায় না। তখন পুনরায় জিনিসপত্রগুলো গুনে দেখা হয়।

অবাক কান্ড, সেই জিনিস গুলোর মধ্যে একটা চামচ ও একটা থালা কম ছিল। পরে জানা যায় এক মহিলা চামচ ও থালা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। সেদিনের পর থেকে আর কোন দিন বিজয় শিংহ দিঘীর নৌকা স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে পানির উপরে ভেসে উঠে নি।এভাবে অনেক বছর কেটে গেল কিন্তু নৌকা আর পানির উপরে উঠে এলো না।তারও এক যুগ পরে শুমতে পেলাম, এক নববধূ পালকি থেকে নেমে দিঘীর কিনারে পানি পান করতে লাঘলে হঠাৎ দিঘী থেকে একটি বড় ঢেউ এসে নববধূকে পানির নিছে তলিয়ে নিয়ে যায়। এরপর নববধূকে আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাতে কি হয়েছে? বিজয় সিংহ দিঘীর সেই রূপকথার গল্প গুলো আজ হয়তো আর খুঁজে পাওয়া যায় না,কিন্তু এখনো খুঁজে পাওয়া যায় মন, প্রাণ শীতল সেই দখিনা হাওয়া, চোখ জুরানো সবুজের সমারোহ প্রভৃতি।

একটি বাংলা রম্য গল্প

সারাদিন বাসার এত কাজ করতে আমার আর ভালো লাগে না। চারজন মানুষের কাজ একা করা অনেক কষ্ট। একটা মানুষ নাই যে আমাকে সাহায্য করবে। এই বয়সে মায়ের কত কাজ করে দিতাম আরা আমার মেয়ে কাজ তো করেই না বরং সারাদিন তার কাজ করতে করতেই আমার দিন শেষ হয়ে যায়।

রিমিঃ আম্মু সকাল সকাল আবার শুরু করে দিলা তোমার রেডিও।

মাঃ তোর এশবে কান দিয়ে কাজ নাই, যা তুই মোবাইল এ মুখ দিয়ে থাক।

রিমিঃ আচ্ছা, আম্মু। আমি আজকে থেকে আমার কাপড় নিজেই ধুয়ে ফেলব। তোমাকে আরা আমার কাপড় ধুয়ে দিতে হবে না।

মাঃ থাক, তোর আর আমার কাজ বাড়াতে হবে না। নিজের পড়াশুনা টা মন দিয়ে কর। আর শোন, বাসায় একটু পড়ে মেহমান আসবে। নিজের রুমটা গুছায় রাখিস।

রিমি (মনে মনে): এটাই সুযোগ। মেহাম্ন আসার আগেই আমি গোসল করতে চলে যাব। আর নিজের কাপড় ধুয়ে আম্মুকে চমকে দিব।

আধা ঘণ্টা পরে রিমিদের বাসায় মেহমান আসল।রিমি তার আগেই যথারীতি গোসলে ঢুকে গেল। কিছুক্ষন পরেই রিমি হঠাৎ খেয়াল করল, বাথরুমে কাপড় ধোঁয়ার কোনো সাবান নেই। এখন তো বাইরে বের হয়ে সাবান নিতেও পারবে না। আবার, আজ তার মাকে দেখাতেই হবে সে অনেক কাজ করে। রিমির চোখে পড়ল ফেসওয়াশের একটা বোতল। তার মনে হল, সাবান নাই তো কি হয়েছে, ফেসওয়াশ তো আছে। যেই ভাবা সেই কাজ। ধুয়ে ফেলল তার জামা। আর বেশ অনেকক্ষণ পর বাথরুম থেকে বের হয়ে আসল।মেহমান ও চলে গেছে ততক্ষনে। রিমির মা রিমির কাপড় ধোঁয়া দেখে সত্যি অনেক খুশি আজ। আমার মেয়ে কাজ শিখে গেছে তাহলে।

বিকেল বেলা তিন্নি (রিমির বড় বোন) হঠাৎ চিৎকার করে মাকে ডেকে বলল,

তিন্নিঃ আমি তোমাদের বলছিলাম, আমার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুবা না। আমার ৮০০ টাকা দামের ফেসওয়াশ তো একদিনে খালি করে ফেলছ তোমরা।

মাঃ ওইটা কে ধরবে? কেউ ধরে নাই। নিজেই হয়ত ঢেলে ফেলছিস ভুল করে। আর এখন বাসার সবার দোষ দিচ্ছিস। ছোট বোনকে দেখে কিছু শিখতে পারিস তো। নিজের কাপড় আজকে নিজেই ধুইছে।

পাশের রুমে রিমি হেসে প্রায় গড়াগড়ি খাচ্ছিল। আর ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছিল, “৮০০ টাকার ফেসওয়াশ দিয়ে জামা ধুইয়েছেন কেউ কখনও?”

বি.দ্রঃ বাড়ির ছোট মেয়েরা দুষ্ট হয় সব সময়।

ব্যর্থ প্রেমের গল্প – দূরত্ব

ব্যর্থ প্রেমের গল্প – দূরত্ব
লিখেছেনঃ নবনী নওশাদ অধরা

রোজকার দিনের মতো  আজও ফাইয়াজ রাতে তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লো;সকাল সকাল ঘুম থেকে  উঠতে হবে বলে। কারন ফাইয়াজের অফিসের বস তাকে তারাতাড়ি অফিসে উপস্থিত  থাকতে বলেছে। ফাইয়াজ একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের তিন বছর ধরে কাজ করছে।ফাইয়াজ কাজে  খুব সুদক্ষ, গুছিয়ে কথা বলতে পারে, দেখতে ও বেশ সুন্দর। সেই হিসেবে ফাইয়াজ অফিসের মুটোমুটি সবার কাছে জনপ্রিয় ;এমনকি বস ও তাকে পছন্দ করে । আজ ফাইয়াজের ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়েছে ;তাই ফ্রেস হয়ে অবিলম্বে মায়ের তৈরি নাস্তা না করে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে  রওনা হলো।শহরের বহু প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিদিষ্ট সময়ের একটু পরেই ফাইয়াজ অফিসে পৌঁছালো । পরক্ষণেই সে কাজে মন দিলো।

কিছু দিন পর অফিসের ফাইল আটকে যাওয়ার ফাইয়াজ ও তার সহকর্মী  অফিসের সমস্যা মেটাতে সরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানে যাওয়া লাগবে।সেই উদ্দেশ্য রওনা হলো ফাইয়াজ এবং প্রতিম সাহেব।  সমস্যা সমাধানের এক পর্যায়ে ফাইয়াজ তার সবচেয়ে কাছের ছোটবেলার বন্ধু সুনীলের সাথে দেখা হলো। সে ও এই অফিসের একজন কর্মকর্তা। দুইজনই কথা বলা শুরু করলো যেন শেষই হয় না। কথার মধ্যখানে   সুনীল বললো তোকে ত বলাই হইনি সামনের মাসের ২ তারিখে আমার বোনের বিয়ে তুই কিন্তু অবশ্যই আসবি।তোকে কাছে পেয়ে গেলাম ভালোই হলো অন্য বন্ধুদেরকে বলা হয়ে গেছে। অনেক দিন আমরা সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেই না। বিয়ের সুবাদে সবাই একসাথে হবো ভালো লাগবে।  ফাইয়াজ বললো আসার চেষ্টা করবো ;কিন্তু তুই এখনো বিয়ে করিস না কেন? শুনলাম তোর নাকি সুন্দরী প্রমিকা আছে? হুট করে প্রতিম সাহেব এসে বলে উঠলো ফাইয়াজ সাহেব যে কাজটা আটকে ছিলো আজ তা সমাধান হলো। ফাইয়াজ বললো বেশ তো। কথা না বাড়িয়ে পরে সুনীল কে বললো বন্ধু আজ আসি।  ইনশাআল্লাহ দেখা হবে তোর বোনের বিয়েতে।       

সুনীলের বাসা হলো  শহর থেকে একটু দূরে মানে গ্রামের পাশে। তবুও এরা গ্রাম ও শহর দুটোরই  সুবিধা পায়।সুনীলের বোন কেয়ার বিয়ে আজ। সুনীল আজ বড়ই ব্যাস্ত বোনের বিয়ের যাবতীয় কাজ সামলাতে সামলাতে। হটাৎ করে কেয়ার সব বান্ধবীরা এসে হাজির। কেয়া অন্য মনষ্ক  হয়ে কাকে জানি খুজঁছিলো। কেয়ার সবথেকে ভালো বান্ধবী এবং হবু ভাবি হলো অনিশা। অনিশার আসতে একটু দেরি হলো। কেয়া অনিশাকে দেখে বেশ খুশি হলো। অনিশা খুব সুশ্রী, চঞ্চল, এবং প্রানবন্ত স্বভাবের একটা মেয়ে যা সুনীলকে বেশি আকৃষ্ট করে অন্যদিকে সনীল মানুষ হিসেবে সাদামাটা ও নরম স্বভাবের ছেলে। বিপরীত বৈশিষ্টের অধিকারী মানুষের প্রতি মানুষের অগ্রহ ও ভালোবাসা বেশি থাকে। 

সুনীল ও অনিশা একে অপরকে বছরখানেক ধরে ভালোবাসে।ওদের ভালোবাসা শুরু হয় ২ বছর আগে।  অনিশারা সুনীলদের বাসায় ভাড়া থাকে। 

অনিশা তখন কলেজে পড়ে আর সুনীল চাকরীর খুঁজছে। সুনীল  মেধাবী হওয়ায় খুব বেশি সময় লাগে নি। হটাৎ একদিন চাকরী পরিক্ষার রেজাল্ট বের হলো সুনীলের চকরী হয়েছে। তাই মিষ্টি নিয়ে অনিশাদের বাসায় গেল। কলিং বেল চাপার পর অনিশা দরজা খুলে তখন দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।সুনীল অনিশাকে দেখেই ভালো লেগে গেল। অনিশা প্রায়ই ছাদে হাটতে যায় সুনীলের বোন কনার সাথে।অনিশা ছাদে যায় বলে আজকাল সুনীল ও ছাদে যায় আর কথা বলার চেষ্টা করে। এটা অনিশাও বুঝতে পারে যে সুনীল কিছু বলতে চায়। আজকাল অনিশার ও কেন জানি সাজতে খুব ভালো লাগে ;একটু পর পর আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে সাজাতে তার বেশ ভালোই লাগে।একদিন কেয়ার জ্বর হওয়ার অনিশা একাই ছাদে আসে তারমধ্যে সুনীল আগে থেকেই ছাদে। সুনীলকে দেখে অনিশা কিছুটা ইতস্তত বোধ করে চলে যাবে বাসায় নাকি থাকবে। ঐ দিকে সুনীল ভাবছে আজ আমাকে বলতেই হবে আমার মনের সব কথা। হটাৎ অনিশা চলে যাচ্ছিলো তা দেখে সুনীল অনিশাকে ডেকে বলে ;এই শুনো, তোমার নাম কি অনিশা।  অনিশা মাথা নাড়ালো। সুনীল আরো বলে তোমার কথা কেয়ার কাছ থেকে অনেক শুনেছি। একটা কথা বলবো ;অনিশা বললো জ্বি বলেন –

সুনীল কাপছে আর বলছে তোমাকে যেদিন দরজার সামনে দেখেছি সেদিন থেকেই তোমাকে আমার ভালোলাগে এবং এই কয়েক দিনে তোমাকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার কি আমাকে ভালো লাগে? অনিশা কিছু না বলেই বাসায় চলে গেল। সুনীলের খুব ভয় পাচ্ছে অনিশা রেগে গেল নাতো। অনিশার বুক ধরফর করছে   তাহলে সত্যিই কি সুনীল আমাকে ভালোবাসে? যদি না ভালোবাসে তাহলে ছাদে এইসব বলতো না। অনিশার ও সুনীলকে ভালোলাগে। কারন ছেলেটা খুব সাদাসিধা আর খুব ভদ্র। কখনো বাজে ছেলেদের সাথে মেলামেশা করে না এবং রাত করে বাসায় আসে না। এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া এখনের সময়ে খুব সহজ কথা না। অনিশা আরো কতো কি বলছে মনে মনে ফিসফিস কর। ঐদিন বাবা মার কথায় ও বুঝতে পারলাম সুনীলের প্রতি বাবা মার ও একটা ভালো লাগা কাজ করে। এইসব ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেল। 

 পরের দিন সকালে সুনীল অফিসে নতুন জয়েন করতে যাবে আর অনিশা কেয়ার সাথে কথা বলতে যাবে বাসা থেকে বের হয়ে দুজনের আবারও দেখা। সুনীল বললো তুমি কিন্তু কিছুই জানাও নি।  উওরে অনিশা মুচকি হাসি দিয়ে বললো আমার কোন আপওি নেই বলে লজ্জা পেয়ে কেয়ার সাথে কথা না বলেই বাসায় চলে গেল অনিশ। সুনীল খুশিতে আত্মহারা। আজ তার দিকটা সকাল থেকেই সুন্দর মুহূর্ত দিয়ে শুরু। পরে সুনীল তার অফিসে যায়। কাজ শেষে বাসায় আসে পরে বোনকে আদর করে ডাকে লক্ষীসোনা বোন আমার  কেয়া কোথায় তুই? কেয়া বললো হটাৎ এতো আদর কি হয়েছে বলতো? সুনীল বললো আমার একটা ছোট উপকার করবি প্লিজ? কেয়া বললো উপকার করলে কি দিবি আমাকে বল? সুনীল বললো তোকে একটা বুড়ো টাকলু জামাই এনে দিবো এই বলে হাসতে লাগলো। ভাইয়া তুমি না! যাও তোমাকে কোন উপকারই করবো না। সুনীল বললো পাগলি বোন ফাজলামো করে বলেছি।  কেয়া বলে হয়েছে এবার বলো কি করতে হবে। সুনীল খুশি হয়ে বললো তুই আমাকে অনিশার নাম্বারটা একটু এনে দিবি। কেয়া মাকে ডেকে বললো মা তোমার বৌমা খুঁজে পেয়েছি। তার মধ্যে সুনীলের মা চলে এলো কি হয়েছে? সুনীল বললো কিছু না মা। মা চলে গেল। পরে কেয়া সুনীল কে বললো যে আমার ও ভাবি হিসেবে অনিশা পছন্দ হয়েছে। এই বলে অনিশা থেকে তার নাম্বার নিয়ে এলো আর সুনীল কে দিলো। সুনীল অনিশাকে ফোন দেয়। প্রথমবারই তাদের কথা বলা ফোনে দুজনই খুব লজ্জা পাচ্ছে।  এইভাবেই তাদের একসাথে পথচলা শুরু। 

 মাস দেড়েক পড় অনিশা আর সুনীল কে ছাদে একসাথে  কথা বলতে দেখে অনিশার মা বাবা দু’জন খুব রাগান্বিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করছে কি হচ্ছে এইসব অনিশা । আগে তো কোন দিন তোমাকে সুনীলের সাথে কথা বলতে দেখি নি?  কিছুদিন যাবৎ তুমি ফোনে ও কার সাথে জানি কথা বলছো তোমার মা তা লক্ষ্য করছে? এক্ষনি বল কি হয়েছে?অনিশা খুব সাহসী ও বটে বাবার প্রশ্নে উওর দিলো বাবা আমি আর সুনীল দুজন একে অপরকে পছন্দ করি।অনিশার বাবা আরো রাগান্বিত হয়ে সুনীলের মাকে বাসায় ডেকে আনে।   সুনীল ও অনিশার সম্পর্কের কথা নিয়ে সুনীল ও অনিশার পরিবারের কথা কাটাকাটি হয় এক পর্যায়ে সুনীলের মা সবকিছু সামলিয়ে নেয় এবং অনিশার বাাবা মাকে বুঝায় পরে শন্ত হয় অনিশার বাবা মা। আর তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়। তবে এখনো শুভদিনের দিনক্ষন এখনো ঠিক হয় নি। আজ সুনীল ও অনিশা মহা খুশি।  তাদের ভালোবাসা পূর্নতা পেতে যাচ্ছ। অনিশার বাবা মা সুনীলকে ভালো চোখে দেখে তাই তারা তাকে মেনে নিয়েছে ।আর অনিশাকে সুনীলের মা ও পছন্দ করে। কেয়ার বিয়ে হলেই সুনীল ও অনিশার বিয়ের ফুল ফুটবে।  ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করেই অনিশাকে বিয়ে করবে সুনীল এই আশ্বাস দিয়েছে অনিশাকে।    

কেয়ার বউ সাজা এখনো হইনি তা দেখে অনিশা  বলতে লাগলো তুই এখনো কিছুই করিসনি; চল আজ আমি তোকে নিজের হাতে  লাল টুকটুকে বউ সাজিয়ে দিবো। এই বলে কনে কে সাজাতে নিয়ে গেল অনিশা। ফাইয়াজ সহ সুনীলের সব বন্ধুরা আসলো কনার বিয়েতে।  বরযাত্রীরা ও চলে এলো। অনিশা বউকে বিয়ের আসরে নিয়ে এলো। ফাইয়াজ বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে করতে হঠাৎ অনিশার দিকে চোখ পড়লো।  ক্ষানিক ক্ষনের মধ্যে ফাইয়াজের মনে প্রেমের হাওয়া দুল খেতে লাগলো। আর মন হতে লাগলো দুনিয়ায় সবথেকে সুদর্শনী নারীকে হয়তো সে দেখছে।ফিসফিস করে বলতে লাগলো –

বাহ!

মেয়ে যেন মেঘের ন্যায় স্বচ্ছ ও দুধে আলতা গা,  মুখ যেন শ্রাবস্তীর কারুকাজ। এক ঝলকে হৃদয় তোলপাড় করে দিশেহারা করে দিয়েছে। ফাইয়াজ জানতো সুনীলের প্রেমিকা আছে কিন্তু সে যে অনিশা তা জানতো না। বন্ধুরা জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে ফাইয়াজ?  তুই ফিসফিস করে কি বলছিস? ও কিছু না বলে ফাইয়াজ কথা কাটলো। 

বিয়ে সম্পূর্ণ  হওয়ায় বাবা হীন একমাত্র বোনকে    তার বরের হাতে তুলে দিলো সুনীল । তখন থেকেই বুকে চিনচিন ব্যাথা হচ্ছিল সুনিলের।  বিদায়ের সময় অনিশা ,সুনীলের আত্মীয় ও বন্ধুরা সবাই উপস্থিত ছিলো। ফাইয়াজ আর সুনীল একসাথেই হাটছে। বোনকে বিদায় দিয়ে আসার সময় সুনীল বোনের চলে যাওয়ার শোক মেনে নিতে না পেরে  হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক করে ফাইয়াজের কোলে ঢলে পড়ে। অনিশা দেখে চিৎকার করে উঠলো। অনিশার এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ;মনের মধ্যে আচমকা কষ্ট এসে ভিড় করছে।   কেন এমন হচ্ছে? সুনীল তো শুধু হার্ট অ্যাটাক করেছে, এইটা তেমন বড় কিছু না ঠিক হয়ে যাবে এই বলে আশ্বাস দিতে লাগলো। তবুও কেন জানি মন মানছে না। 

সুনীলকে হাসপাতালে নিবে বলে পরিবারের সবাই সিদ্ধান্ত নিলো। সুনীলের সাথে হাসপাতালে যাবার জন্য অনিশা ও সুনীলের মা আর বন্ধুদের মধ্যে ফাইয়াজ রওনা হলো।  হাসপাতালে যাবার পথে এম্বুলেন্সে সুনীল মার হাত চেপে ধরে বললো আমার আর খুব বেশি সময় নেই মা। তোমার হবুবৌমা অনিশা কই? শেষ বারের মতো ওর চাদেঁর ন্যায় মুখখানা একটু দেখতে চাই মা।  আমার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে মা। এ তুই কি বলছিস বাবা। তোর কিছু হবে না বাবা। তুই ঠিক হয়ে যাবি এই বলে সুনীলের মা কান্নাকাটি শুরু করলো। মায়ের পাশে বসে থাকা স্তব্ধ দিশেহারা অনিশা কাছে এসে সুনীলের হাত ধরে কাছে এসে বসলো আর কান্না চেপে সাহস করে   সুনীলকে বলছে তোমার কিছু হতে পারে না । সুনীল অনিশাকে বললো তোমার সাথে আমার আর স্বপ্নের ঘরবাঁধা হলো না। বিধাতা হয়তো এই জন্মে তোমাকে আমার ভাগ্যে রাখে নি । পরের জন্মে যেন আমি তোমাকে পাই এই প্রত্যাশাই রইলো।সুনীল অনিশাকে আরো বললো আমাকে তুমি মাফ করে দিও আর তুমি ভালো থাকো। অনিশা অনবরত চিৎকার করে  কাঁদছে।   

সুনীল কেমন জানি ছটফট করছে আর বন্ধু ফাইয়াজকে খুঁজছে।  ভাগ্যের কি চরম পরিহাস ফাইয়াজ ও সেদিন তাদের সাথ উপস্থিত ছিল। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে সুনীলের।  ফাইয়াজ নিজেকে সামলিয়ে দুচোখ মুছে সুনীলের কাছে এসে বসলো। পরক্ষণে সুনীল ফাইয়াজকে হাত ধরে বললো ছোট বেলা থেকেই তোকে আমি চিনি আর এটাও জানি তুই আমার কথা কখনো ফেলবি না।  আমার একটা কথা রাখবি তুই। তুই আমার অনি… শাকে দেখে রাখি…স।  

কথ শেষ করতে  না করতেই সুনীল জোড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে  বলছে খুব কষ্ট হ.. মা… এই বলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গেল সুনীল ।  সুনীলের মৃত্যুর আৎত্মনাদ যেন সবাকে ছেয়ে গেলো। চঞ্চল, প্রানবন্ত স্বভাবের মেয়ে অনিশা সেই দিনের পর থেকে কেমন জানি চুপসে গেল। নিয়তির চরম খেলায় আজ অনিশা পরিশ্রান্ত  ।

কিভাবে প্রেম করতে হয়

কিভাবে প্রেম করতে হয় ? প্রেম একান্তই স্বর্গীয় একটি ব্যাপার।এবং প্রতিটি মানুষের জিবনেই একবার না একবার প্রেম আসে।কখনো সে জানান দিয়ে আসে আবার কখনো তা নিরবেই রয়ে যায়। আর এই প্রেমকে নিয়ে বহু কবি এবং সাহিত্যিক লিখেছেন হাজার হাজার কাব্য মহা কাব্য। এসকল কাব্য মহাকাব্যে প্রেম কখনো সফল কখনো বিফল।কখনো আনন্দময় আবার কখনো মৃত্যু যন্ত্রণার চেয়ে বিষাদময়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাল- মন্দ সফলতা ব্যার্থতা থাকবে প্রেমের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই।তবে এরজন্য কি কেউ প্রেম করবে না? এর জন্য কি প্রেম পড়তে বারন? না কখনোই না কারন প্রেম হলো স্বর্গীয়। মানুষের অজান্তেই তার জীবনে চলে আসে। প্রেমের উক্তি

কিভাবে প্রেম করতে হয়

তবে প্রেমের ক্ষেত্রেও কিছু বিচার বিশ্লেষণের ব্যাপার থেকেই যায়।কারন কাওকে ভালোবাসা এবং ভালো লাগা এক নয়।এ কারনে ভালো লাগাকে ভালবাসায় রুপ দিতে হলে সেই মানুষটি সম্পর্কে জেনে নেওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।কারন আপনি যদি ভূল মানুষকে ভালোবাসেন তাহলে তার মাশুল আপনাকে জীবনভর দিতে হবে। এ কারনে যার সাথে ভালোবাসার বা প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হতে যাবেন সে আপনার জন্য উপযুক্ত হবে কিনা বুঝে নিন।

এরপরে ভালোবাসার মানুষটিকে প্রেম নিবেদন করুন।এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। কারনে এখানে একটি সামান্য ভূল হিতে বিপরীত ঘটাতে পারে। আগে খোজ নিন প্রিয় মানুষটির পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে। এছাড়াও প্রেম নিবেদন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করুন।যখন আপনার প্রিয় মানুষটির মন ভালো থাকে।যেমন হতে পারে তার জন্মদিন। কারন জন্মদিন হলো প্রতিটি মানুষের জন্য ভলো একটা সময়। এসময় প্রেম নিবেদন করলে সফল হবেন অবশ্যই। প্রেম নিবেদনের জন্য একটি স্কেচবুক কিনে নিতে পারেন স্ক্র্যাপ বুক বানানোর জন্য। এখানে আপনার পছন্দের মানুষটির সাথে কোন সুন্দর স্মৃতি থাকলে তা যুক্ত করুন এবং তাকে গিফট করুন।এতে আপনার প্রেম নিবেদন সফল হওয়ার অনেক গুন বাড়িয়ে দিবে।

একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়া যতইনা কঠিন তার চেয়ে কঠিন তা টিকিয়ে রাখা।তাই প্রেমের সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য অবশ্যই আমাদের এর উপর যত্নশীল হতে হবে।থাকতে হবে একে অপের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।তাহলেই সম্ভব প্রেমের এই পবিত্র বন্ধনকে দীর্ঘায়িত করা।এছাড়াও প্রেমকে মধুময় করে তোলার জন্য আরো অনেক উপায় রয়েছে।

পাঠাতে পারেন ক্ষুদে বার্তা কারন একটি ছোট বার্তায় এমন কিছু অনূভুতি সৃষ্টি করা যায় যে কারনে ভালোবাসার মানুষটি সারাদিন আপানাকে নিয়ে ভাববে এবং অনূভুতিতে কাছে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাবে। ঠিক তখনিই তো প্রেম পরিপূর্ণতা লাভ করবে। এবং এই ক্ষুদে বার্তা দিয়ে সে আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন ভাবে আবিস্কার করবে।

তার প্রতি ভালোবাসা গুলো সঠিক ভাবে ফুটিয়ে তুলুন।কখনোই প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করতে গিয়ে এমনটা করা উচিৎ নয় যেন সে মনে করে আপনি তার উপর নির্ভরশীল।আপনি তাকে নিজের ভরসাস্থল হিসেবে উপস্থাপন না করে তার ভরসার যায়গার আপনি বিরাজ করুন। বর্তমানে আনেকই প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে নিজের ক্যারিয়ার এর বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে।লেখাপড়া হোক বা চাকরি সবকিছুই যেন শেষ করে দেয় তারা।যার ফলে ভবিষ্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় তাদের। তাই সকল সময় প্রেমিকের কাছে আপনার ব্যাক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলুন।

ফোনে কথা বলতে পারেন।তবে তা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী। কখনোই অতিরিক্ত ফোনে কথা না বলে অল্পের ভিতর গুছিয়ে কথা বলুন।এবং শুধু যে প্রেম ভালবাসার কথাই বলতে হবে তা কিন্তু নয়।বরংচ তার খোজ নিন যে দিন কেমন কাটছে, পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন।বিভিন্ন গল্প,জোক্স, গান ইত্যাদি নিয়েও কথা বলতে পারেন তার সাথে।

প্রিয় ব্যাক্তিটিকে কিছু উপহার দিন। এবং এগুলো যে দামী হতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং সামান্য কিছুর মাধ্যমেও তাকে খুশি করা সম্ভব। যেমন চুরি বা ফুল অথবা তার প্রিয় কোন জিনিস উপহার দিন। কখনোই নিজেকে ধনী প্রমানিত করতে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্যবান জিনিস উপহার না দেওয়াই ভালো। এগুলো বিশ্বাস এবং ভালোবাসায় ফাটল ধরাতে পারে।

শিক্ষনীয় গল্প – কৃতজ্ঞতার পুরষ্কার

অনেক কাল আগের কথা । একজন দরিদ্র লোক একটি দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় পানি বহনের কাজ করত । তার দুইটি পাত্র ছিল, একটি লাঠির দুই প্রান্তে পাত্র দুটি ঝুলিয়ে নিয়ে সে পানি বহন করত । রোজ অনেকটা পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হতো ।

দুটি পাত্রের একটি কিছুটা ভাঙ্গা অপরটি ত্রুটিহীন । পানি নিয়ে যেতে যেতে ভাঙ্গা পাত্রটি প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে যেত । অপরদিকে ত্রুটিহীন পাত্রটি প্রতিদিন সুন্দরভাবে কানায় কানায় ভরে পানি পৌঁছে দিত । এভাবে দরিদ্র লোকটি তার মনিবের বাড়িতে একপাত্র আর অর্ধেক অর্থাৎ
দেড় পাত্র পানি পৌঁছে দিত । স্বাভাবিকভাবেই ভালো পাত্রটি তার ও কাজের জন্য খুব গর্বিত ও আনন্দিত থাকত । অপরদিকে ভাঙ্গা পাত্রটির মন খুব খারাপ থাকত সে খুব লজ্জিত থাকতো । কারন তাকে যে কাজের জন্য বানানো হয়েছিল সে তার সেই কাজ পুরোপুরি ভাবে করতে পারছিল না ।

ত্রুটিপূর্ণ পাত্রটি এভাবে অনেকদিন পানি ভবনের কাজ করার পর, একদিন আর সইতে না পেরে লোকটির কাছে তার ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চাইল । সে বলে উঠলো, আমি আমাকে নিয়ে লজ্জিত ও হতাশ । আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই । দরিদ্র লোক টি জানতে চাইলো, কেন তুমি লজ্জা পাচ্ছো ?

“তুমি কত কষ্ট করে রোজ আমাকে বয়ে নিয়ে যাও । নদী থেকে আমাকে পানি দিয়ে পূর্ণ করে নাও । অথচ আমি তোমার মনিবের কাছে যেতে যেতে অর্ধেক পানি ফেলে দেই । আমার একপাশে ফাটল ওই ফাটল দিয়ে অর্ধেক পানি ঝরে পড়ে যায় ।”

লোকটি তার পাত্রটির প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করল । বললো মন খারাপ করো কেন ? হয়তো এর মাঝেও ভালো কিছু আছে যা তুমি এখনো বুঝতে পারছ না ।

ভাঙ্গা পাত্রটি তবু তার অপরাধবোধ আর লজ্জা থেকে মুক্তি পেল না । যদিও সান্তনার বানী শুনে কিছুটা শান্তি পেল । মন খারাপ করে সে প্রতিদিনের মত আজকেও লোকটির কাঁধে চড়ে পানি বয়ে নিয়ে যেতে লাগলো । আর পথ চলতে চলতে ফাটল দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়তে লাগল । কান্নার সাথে মিলেমিশে এক হয়ে ঝরতে লাগলো । পাত্রটি পথে যেতে যেতে আশেপাশে দেখতে লাগলো সবাই কত ভালো আছে সুখে আছে কি চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল পাহাড়ি পথের পাশে নাম না জানা কতশত ফুল ফুটে রয়েছে । সকালের রোদে মনভোলানো হাওয়ায় তারা খেলছে দুলছে খেলছে অথচ আমার মাঝে এত কষ্ট কেন । পাত্রটি ভাবতে ভাবতে রোজকার মত আজও ধনী লোকটির পানিতে অর্ধেক পানি পৌঁছে দিলো ।

ফিরতি পথে আবারও তার ব্যর্থতার জন্য দরিদ্র লোকটির কাছে এসে ক্ষমা চাইল । তার মন খারাপ দেখে লোকটি একটু থেমে পথের পাশে ফুটে থাকা কিছু পাহাড়ি ফুল ছিঁড়ে এনে দিলে । তাকে বললো দুঃখ করোনা, আমি আগে থেকেই তোমার এই ত্রুটির কথা জানতাম । তাই যাবার বেলা প্রতিদিন তোমাকে আমার কাঁধের একই দিকে বয়ে নিয়ে যেতাম । আর যেতে যেতে তুমি তোমার ফাটল দিয়ে পানি ঝরিয়ে ঝরিয়ে যেতে কখনো কাঁদতেও । এভাবে পথের এক পাশে তুমি প্রতিদিন পানি দিতে । দেখো পথের ওই দিকে চেয়ে কত সুন্দর ফুল ফুটে রয়েছে । তুমিই তো তাদেরকে পানি দিয়েছো অথচ পথের অপরপাশে চেয়ে দেখো ধুলো পাথর ছাড়া কিচ্ছু নেই কোন ফুল ফোটে নি ।

ভুতের গল্প

ভুতের গল্প পড়তে অনেক ভালো লাগে ,তাই এখানে কিছু ভুতের গল্প দেয়া হলো । আশাকরি এই ভুতের গল্প গুলো পড়ে অনেক ভয় লাগবে । কারন ভয় পাওয়ার জন্যই তো আমরা ভুতের গল্প পড়ে থাকি । ভালোবাসার গল্প । এরপর আরো কিছু ভুতের গল্প দেবো ।

ভুতের গল্প অদৃশ্য গানের টিচার:

বাবা বললেন ‘অফিসের কাজে মানিকগঞ্জে যেতে হবে’ এই কথা বলে তিনি শুয়ে পড়লেন । বিজু কে বাবা বললেন, আমাকে তুলে দিস তো ঘুম থেকে । বিজু হেসে বলে, আমিই উঠতে পারি কিনা ? বিজু ইলা আপুর পড়ার টেবিলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো ।

আপু বাবাকে ভোরে ডেকে দিও । বাবাকে সকাল সাতটার মধ্যেই রওয়ানা দিতে হবে । মানিকগঞ্জ যাবেন ।

ইলা মোবাইল থেকে মুখ না তুলেই বললো ‘ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখ’ এলার্ম নস্ট ।
ইলা বললো, আমি জরুরি একটা স্ট্যাটাস লিখছি । তুই এখন যা । বিজু খাটের পাশে গিয়ে দেখলো বাবা নাক ডাকছেন । সে আবার ইলার কাছে গিয়ে বললো- আপু চলো ‘ বাবার নাক ডাকা রেকর্ড করি । ইলা খুশিতে নেচে উঠলো । চল, যাই ।

তারা দুজন বাবার নাক ডাকা রেকর্ড করে ফেললো । মাকে কিছু বলল না । ইলা মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো- আম্মু বাবাকে ভোর বেলা জাগিয়ে দিও । অফিসের কাজে মানিকগঞ্জ যাবেন । ঠিক আছে যদি আমার ঘুম ভাঙ্গে । আমি তো আবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাব ।

রাত বারোটার মধ্যে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়লো । ইলা বাবার মসারি টানাতে গেলে বাবা ডান কাত থেকে বাম কাত হলেন । কিছুক্ষণের জন্য তার নাক ডাকা থামল ।

ভোরবেলা ঘুম ভেঙ্গে গেল বিজুর বাবা রহিস উদ্দিন সাহেবের । তিনি শুনতে পেলেন ড্রইংরুমে বসে কেউ হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে । উনি বিছানা ছেড়ে উঠে সেদিকে গেলেন । ড্রইং রুমের কোনায় গিয়ে দাঁড়ালেন । হ্যাঁ, তাইতো । কেউ একজন হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে । সঙ্গে গান গাইছে ।

বসুন না, আপনার জন্যই বাজাচ্ছি , সঙ্গে গান গাইছি । আপনার ঘুমটা যাতে তাড়াতাড়ি ভাঙ্গে । আপনি তো অফিসের কাজে আজ বাইরে যাবেন । রহিস সাহেব বললেন, কে কথা বলছেন ? আপনাকে তো আমি দেখতে পাচ্ছি না ।

আমার নাম প্রাপ্তি । আমাকে আপনি দেখতে পাবেন না। কেউ কেউ আমাকে দেখতে পায়। সবাই পায় না। আমি কি আপনাকে আরেকটা গান শোনাতে পারি ?

রহিস সাহেব কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললেন- জি শোনান।
প্রাপ্তি নামের মেয়েটি খিলখিল করে হেসে উঠলো । সম্ভবত সে চুড়ি পড়েছে। তার হাতের চুড়িও ঝনঝন করে উঠলো।
বললো- আপনি ভয় পেয়েছেন রহিস সাহেব ?
না, না, ভয় পাবো কেনো ?

প্রাপ্তি বলল, বাসায় আপনারা চারজন মানুষ । কেউ হারমোনিয়াম বাজান না । গান করেন না। এটা কি ঠিক ?
না, না, এটা মোটেই ঠিক না । এটা ভারি অন্যায় আমি আজই ওদেরকে হারমোনিয়াম বাজাতে বলবো । গান শিখতে বলবো ।
কথা শুনে প্রাপ্তি হাসলেন। বললেন, আপনি চাইলে আপনাকে আমি গান শেখাতে পারি। এখন থেকেই শুরু করা যেতে পারে।

কিন্তু আপনাকে তো আমি দেখতে পাচ্ছি না।
আমাকে দেখতে হবে না, আপনি আসুন আমার কাছে ।
রহিস সাহেব ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন সেদিকে। তার পা কাঁপছে। তিনি গিয়ে কার্পেটে জোড়-আসন করে বসলেন। বুঝতে পারলেন তার সামনে প্রাপ্তি হারমোনিয়াম ধরে বসে আছে।

চলুন শুরু করা যাক। সা রে গা মা পা দা নি সা । রইস উদ্দিন মিনমিন গলায় ধরলেন । মেয়েটা হেসে উঠল, এভাবে হবে না । আপনি গলা ছেড়ে দিয়ে রেওয়াজ করুন।
আবার, সা, রে, গা, মা
রেওয়াজ করতে করতে এক সময় সকাল হয়ে গেলো। রহিস সাহেবের রেওয়াজের শব্দে সবারই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তারা বিছানা ছেড়ে ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়ালো। দেখল, রহিস সাহেব চোখ বন্ধ করে, সা রে গা মা করছেন। সামনে হারমনিয়াম।

ইলা বললো- বাবা তোমার কি হয়েছে ? এরকম করছ কেন ? রহিস সাহেব চোখ খুললেন। কি হয়েছে মানে ? প্রাপ্তির কাছে গান শুনছিলাম। ইলার মা সাহানা বলেন- “প্রাপ্তি” ? প্রাপ্তিটা আবার কে ? তুমি কি পাগল হয়ে গেছো নাকি ?

বিজু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, বাবা সাতটা বাজে । মানিকগঞ্জ যাবে না ? বাব হুড়মুড়িয়ে উঠল। তখনই দারোয়ান এসে বলল ” অফিসের মাইক্রবাস এসে দাঁড়িয়ে আছে। আপনাকে এক্ষুনি যেতে বলছে।

রহিস সাহেব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আগে সেভ করবেন না দাঁত ব্রাশ করবেন ? আগে বাথরুম করবেন না গোসল করবেন ? নাশতাই বা কখন খাবেন ? তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।

তার মোবাইলে অফিসের বস ফোন করলেন। জি রহিস সাহেব। আর কতক্ষন ? রহিস সাহেব বললেন “রেডি হতে হতে আমার আধা ঘন্টা তো লাগবেই ।
বলেন কি আপনি ? এটা কি কোন কথা হলো ?
অফিসের বস ড্রাইভারকে বললেন- রমিজ গাড়ি স্টার্ট দাও । উনি আমাদের সঙ্গে যেতে পারবেন না ।
রহিস সাহেব ঠিক আধা ঘণ্টা পড়ে নিচে নামলেন। দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন- তাকে রেখে গাড়ি চলে গেছে। মেজাজ খারাফ করে তিনি উপরে ওঠে এলেন।

কি হলো গেলে না বাবা ? রিজু জানতে চাইলো।
বাবা কোন কথা বললেন না। তিনি আর অফিসেও গেলেন না।
অনেক রাত হয়েছে, রহিস সাহেবের আজ আর ঘুম এলো না চোখে। অনেক রাত্রে প্রাপ্তি ডাকলো, আংকেল আসুন। আমি এসে গেছি। তিনি বিছানা থেকে উঠে যাবার সময় দেখলেন- বিজু তাকিয়ে আছে। বাবা জানতে চাইলেন কিরে ঘুমাস নি ?
‘না’
তাহলে আমার সঙ্গে আয় গান শিখবি ।
বিজু বাবার পিছন পিছন গিয়ে ড্রয়িংরুমের কার্পেটে বসলো। প্রাপ্তি জিজ্ঞেস করলো কোন ক্লাসে পড়ো তুমি ?
যাকে চোখে দেখা যায় না তার সঙ্গে আমি কথা বলি না। বিজু বলে । প্রাপ্তি হাসে।
আমাকে তো আপাতত দেখার কোন সম্ভাবনা নেই। তারপরও আমি চিন্তা করে দেখছি । তোমার সঙ্গে দেখা করা যায় কি না।
আজ বাবা ছেলে সা রে গা মা করলেন একসাথে। ভোর বেলা বিজুর মায়ের ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
প্রাপ্তি বললেন- আন্টি আসুন না আমাদের সঙ্গে।

তিন জনের সা রে গা মা শুনে চোখ ডলতে ডলতে ইলা চলে এলো তার ঘর থেকে। সবাই সা রে গা মা করলো সারাক্ষন। সা রে গা মা করতে করতে বিজু সোফার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ল।

ফজরের আজান পড়লো। প্রাপ্তি বললো আমি যাই, আবার আসবো। বিজুর মা জিজ্ঞেস করলো- তুমি কে আসলে ভুতটুত নও তো ? না, আন্টি আমি ভুতে বিশ্বাসী নই। এ কথা বলে সে চলে গেলো।

সকালে নাস্তার টেবিলে বসেছে সবাই। গত রাতের কথা সবার মুখে। শাহানা বললেন- হারমোনিয়াম টা জাগরণী ক্লাবে দিয়ে দেই। তাহলে হয়ত আর মেয়েটা আসবে না।
ইলা বলল, আরে মেয়ে টা গান শেখাচ্ছে অসুবিধা কি ? কারো ক্ষতি তো করছে না।
মা বললেন, বিষয়টা তো অস্বাভাবিক।
রহিস সাহেব বললেন, সন্ধ্যা হলেই আমার কেমন বুক ধড়পড় শুরু হয়। নাস্তা খাওয়ার পরই মা জাগরণী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আসাদ সরকারকে ফোন দিলেন। সে আধা ঘণ্টা পরেই বাসায় এসে হাজির । বলল ‘ধন্যবাদ আন্টি।
আমাদের একটা হারমোনিয়াম বেশ প্রয়োজন ছিলো । দেখি একটু বাজিয়ে দেখি।
নিয়ে যাওয়ার আগে একটা গান শুনাই আপনাদের।

কিন্তু শত চেষ্টা করেও আসাদ সরকার হারমোনিয়াম টি বাজাতে পারলেন না। আন্টি এটা তো নস্ট। এটা দিয়ে কোন কাজ হবে না। আমি যাই।
বিজুর মা বললেন- সরি আসাদ তুমি কিছু মনে করো না।

মাস খানেক কেটে গেছে। এখন বাসার সবাই একটা আক্টু গান গাইতে পারে। রোজ রাতেই প্রাপ্তি আসে। মচমচ শব্দ করে মুড়ি চানাচুর খায়। চায়ে চুমুক দেওয়ার সময় শব্দ হয়। কিন্তু তাকে দেখা যায় না। অদৃশ্য হয়েই আছে।

আশপাশের সবাই জেনে গেছে বিজুরা সবাই গান গাইতে পারে। একদিন বিকেলে আসাদ সরকার এলো বাসায়। বলল- আন্টি আপনারা নাকি পুরো পরিবারের সবাই গান গাইতে পারেন ? পরশুদিন আমাদের সংগঠনের সাংস্কিতিক অনুস্থান।আপনাদের সবাইকে গান গাইতে হবে।
ইলা নেচে উঠে বলল- পত্রিকায় ছবি উঠবে তো আসাদ ভাইয়া ?
পত্রিকায় দেয়ার চেষ্টা করবো। তবে চ্যানেল আইয়ের ক্যামেরাম্যান আসবেন।
অনেক সুন্দর করে ষ্টেজ সাজিয়েছে জাগরণী সংঘ। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সব চেয়ার ভরে গেছে। হটাত একটি মেয়ে এসে বিজুকে জিজ্ঞেস করলো- খুব ভালো করে গান গাইতে হবে কিন্তু। আমি তোমাদের গান শুনতে এসেছি।
ইলার পাশে গিয়ে বলল- হায় আল্লাহ, হায় আল্লাহ তুমি দেখি নার্ভাস হয়ে পড়েছ। বুকে সাহস রাখো। নিশ্চয়ই তুমি অনেক ভালো গাইবে।

একই সঙ্গে চারজন মঞ্চে উঠলো। রহিস সাহেব, সাহানা, ইলা ও বিজু। তারা অসাধারন গাইলেন। করতালি আর থামতেই চায় না। অনেকে বলে উঠলো, ওয়ান মোর, ওয়ান মোর।
অনুষ্ঠান ঘোষক ঘোষণা করলেন- আমাদের পাড়ায় নতুন শিল্পী এসেছে, এখানে ভাড়া বাসা নিয়েছেন। তার নাম প্রাপ্তি রহমান। এখন আমরা তার গান শুনবো।
গান শুরু হয়ে গেলো তার, কিন্তু কিছুক্ষন পরই হই চই শুরু হয়ে গেলো । শিল্পী কই ? শিল্পীকে তো দেখতে পাচ্ছি না। আপনারা তো রেকর্ড বাজাচ্ছেন । শিল্পী কে মঞ্চে আসতে বলেন।
কিন্তু রহিস সাহেব, শাহানা, ইলা আর বিজু কিন্তু ঠিক দেখতে পেল প্রাপ্তি কে। অপূর্ব দেখতে লাগছে তাকে। গাইছেও খুব সুন্দর করে। পিনপতন নিরবতায় সে গান গাইছে।

বিজুর দিকে তাকিয়ে বেশ কয়েকবার হাসলেন প্রাপ্তি রহমান। ওরা চার জনই দেখতা পাচ্ছে প্রাপ্তিকে। কিন্তু বাকী কেউ দেখতে পাচ্ছে না । প্রথম গান শেষ হওয়ার পর চিৎকার করে বলে উঠলো সবাই। ওয়ান মোর, ওয়ান মোর।
অনুষ্ঠান শেষে প্রাপ্তি এসে বিজুর হাত ধরল, আজ থেকে আমি আর গান শেখাতে আসবো না। এখন থেকে তোমার একা একা গান শিখবে। ঠিক আছে ?

বিজু কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল- না ঠি নাই। প্লিজ তুমি আসবে। আমরা তোমার জন্য ওয়েট করবো ।

গল্প টি ভুতম্যান বই থেকে নেয়া হয়েছে।

হাসির গল্প

হাসির গল্প পড়তে সবার ভালো লাগে, তাই যারা হাসির গল্প পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য এখানে কিছু সুন্দর বাংলা হাসির গল্প দেয়া হলো, আশাকরি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে । যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না আর নিচে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন । হাসির এসএমএস

হাসির গল্প ১ঃ

ছেলে শ্বশুরবাড়ী যাবে।
বুদ্ধিশুদ্ধি একটু কম তাই মা তাকে ভাল করে শিখিয়ে দিল।
বলল, তোর শ্বশুরের অসুখ তাই আগে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবি কেমন আছেন।
উনি হয়তো বলবেন ভাল। তখন বলবি এইটাই তো আমাদের কাম্য।
তারপর তিনি কি পথ্য করছেন জানতে চাইবি।
তিনি কিছু একটা বলবেন, তুই তখন বলবি অতি উপাদেয় পখ্য, রোজ খেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন আসা করি।
তারপর জিজ্ঞেস করবি কোন ডাক্তার তার চিকিৎসা করছেন।
ডাক্তারের নাম শুনে বলতে পারবি তো, “দারুন ডাক্তার, খুব তারাতাড়ি ভাল হয়ে যাবেন !”
আর সব সময় হাসি, হাসি মুখ করে থাকবি কেমন।
মা নেওটা ছেলে ঘাড় নেড়ে বেরিয়ে পড়ল।
শ্বশুর মশাই রোগের জ্বালায় বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন।
জামাই ঘরে ঢূকে, হাসতে,হাসতে জিজ্ঞেস করল,কেমন আছেন বাবা ?
শ্বশুরঃ- আর বাঁচার ইচ্ছা নেই, এবার মরলেই বাঁচি।
জামাইঃ- এটাই তো আমাদের কাম্য। তা কি পথ্য করছেন এখন আপনি ?
শ্বশুরঃ- (চটে গিয়ে) ঘোড়ার ডিম।
জামাইঃ- বাঃ,বাঃ,অতি উপাদেয় পথ্য,রোজ খেয়ে যান ভাল হয়ে যাবেন আসা করি। আবার হাঁসতে-হাঁসতে তা ইয়ে কোন ডাক্তারকে দেখাচ্ছেন?
শ্বশুরঃ- (আরও চটে) যম।
জামাইঃ- খুব ভাল ডাক্তার, বেশ নাম করা ডাক্তার, আপনি কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে উঠবেন।

হাসির গল্প ২ঃ

একটি চা-এর দোকানে বসে কিছু অলস লোক আড্ডা মারতেছে। এক জন অন্য জনকে গুল মারে (অর্থাৎ মিথ্যা বলে) , বসে থাকা বাকি লোক জন শুনে। দোকান দারের কোন সমস্যা নাই বরং লাভ, দুই একটা চা বিক্রি করতে পারবে। এতো প্যাঁচাল করে সময় নষ্ট করে লাভ কি আসল কথাই আসি। প্রথম জন বলেঃ আমার দাদার একটা কুত্তা (কুকুর) ছিল। মানুষের মত কথা বলতো আর গরুর মত ঘাস খেত!!!!!

দ্বিতীয় জনে বলেঃ আরে রাখ। তোর দাদার কুত্তার ছেয়ে আমার নানার বিড়াল ছিল বড় ডিয়ারিং। পাড়ার যত কুত্তা ছিল, সব কুত্তার গায়ে একবার হলেও ওঠেছে!!!!! ওদের গুল মারা দেখে তৃতীয় জন মনে মনে বলে তোরা যদি গুলবাজ তো আমিও গুলের রাজা। তৃতীয় জনে বলেঃ তুদের কথা শেষ হলে আমার কথা শুন। আমি বাজারে গিয়ে শুনলাম। একটি বড় বিমানকে বাসে ধাক্কা মেরে নিছে পেলে দিছে। মানুষ জন মরে নাই কিন্তু পাশে একটি কুত্তা ও বিড়াল মরা পাওয়া গেছে???

মজার গল্প ৩ঃ

এক কৃষকের ছিল একটি গাধা ও একটি গরু। কৃষক বোঝা আনা-নেওয়া ও চলাচলের বাহন হিসেবে গাধাকে ব্যবহার করতো আর গরু দিয়ে হালচাষ করতো। গম ও ধান মাড়াইয়ের কাজেও গরুকে ব্যবহার করা হতো।
একদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একনাগাড়ে কাজ করে গরু যখন ঘরে ফিরলো তখন অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ক্লান্ত হয়ে একা একাই বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল। গরুকে বিড়বিড় করতে দেখে গাধা বললো :
গাধা : আরে বাবা, হয়েছে কী? বিড়বিড় করে কি বলছো?
গরু : তোরা গাধার দল আমাদের দুঃখ-কষ্টের কি বুঝবি ? আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ বুঝেনারে, কেউ বুঝে না।
গাধা : বুঝবো না কেন, অবশ্যই বুঝবো। তাছাড়া তুই যেমন বোঝা টানিস আমরাও তেমনি বোঝা টানি। আমাদের মধ্যে তফাৎটা কোথায় দেখলি!
গরু : তফাৎ অবশ্যই আছে। গাধাকে বোঝা টানা ছাড়া আর কোনো কাছে ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু জমি চাষ করা, ফসল মাড়াই করা, কলুর ঘানি টানা এসব কষ্টের কাজ আমাদের করতে হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যথা-বেদনায় সারারাত চোখে ঘুম আসে না। তোদের কি এত কষ্ট করতে হয়?

গরুর কষ্টের কথা শুনে গাধার মনটা খারাপ হয়ে গেল। গরুকে কষ্ট থেকে রেহাই দেয়ার জন্য সে একটা বুদ্ধি বের করলো। এরপর গরুকে উদ্দেশ্য করে বললো :
গাধা : তুই যদি চাস তাহলে আমি এমন একটা বুদ্ধি দিতে পারি যাতে তোকে আর মাঠে যেতে হবে না।
গরু : গাধার মাথায় আবার বুদ্ধি আছে নাকি ? না না তোর বুদ্ধি অনুযায়ী চলতে গেলে আমার বিপদ আরো বাড়বে।
গাধা :শোন্ ! মানুষ আমাদেরকে যত গাধা মনে করে আমরা কিন্তু আসলে তত গাধা নই। আর এ জন্যইতো আমাদেরকে হালচাষ ও ঘানি টানার কাছে কেউ লাগাতে পারে না। তুই একবার আমার কথা অনুযায়ী কাজ কর,তাহলে দেখবি তুইও আমার মতো সুখে আছিস।
গরু : ঠিকাছে বল দেখি, তোর বুদ্ধিটা কি ?
এরপর গাধা গরুকে অসুস্থ হবার ভান করতে পরামর্শ দিলো। গরু নিজেকে বাঁচানোর জন্য গাধার পরামর্শ অনুযায়ী হাত-পা সোজা করে ঘরে শুয়ে রইল এবং হাম্বা হাম্বা রবে ‘উহ্‌ আহ্‌’ করতে লাগলো। কৃষক এসে উঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। তখন বাধ্য হয়ে গোয়াল থেকে বের এলো এবং অন্য কোন উপায় বের করার জন্য চিন্তা করতে লাগলো।
কৃষক চলে যাওয়ার পর গরু গাধাকে ধন্যবাদ দিল। ধন্যবাদ পেয়ে গাধাও খুশীতে নেচে উঠলো। কিন্তু গাধার খুশী বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কিছুক্ষণ পরই কৃষক গোয়াল ঘরে ফিরে এলো এবং গরুর বদলে গাধাকেই মাঠে নিয়ে গেল। গাধার কাঁধে লাঙ্গল-জোয়াল বেঁধে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা জমি চাষ করার পর কৃষক কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়ার জন্য একটি গাছের ছায়ায় বসলো। এ সময় গাধা মনে মনে ভাবতে লাগলো :
গাধা : গরুকে বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজেই বিপদে পড়ে গেলাম! সত্যি সত্যিই আমি একটা গাধা। তা না হলে এমন বোকামী কেউ করে?
এসব ভাবার পর নিজেকে বাঁচানোর জন্য গাধা চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ সে গরুকে দেয়া বুদ্ধিটিই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী গাধা জমিতে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লো এবং কান ফাটা চিৎকার দিয়ে আকাশ-বাতাস ভারী করে তুললো।

চিৎকার শুনে কৃষক গাধার কাছে এলো। এরপর তাকে মাটি থেকে উঠানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছুতেই উঠাতে পারলো না। এরপর কৃষক তার লাঠি দিয়ে গাধাকে বেদম পেটাতে শুরু করলো। পেটাতে পেটাতে কৃষক বললো :
কৃষক : মুর্খ কোথাকার! দেখতেই পাচ্ছিস, গরুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপরও সব জেনে শুনে তুই কুড়েমি শুরু করেছিস!তোর দুধ কোন কাজে আসে না, গোশতেও কোন ফায়দা নেই। তারপরও ভেবেছিস তোকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো? আজ যদি কাজ না করিস তাহলে তোকে মেরেই ফেলব।
গাধা দেখল অবস্থা বিপজ্জনক। তাই সোজা হয়ে দাঁড়ালো। প্রথম দিকে বিরক্তির সাথে এবং ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে কাজে লেগে গেল। কাজ করার সময় গাধা বিড়বিড় করে বলতে লাগলো- যেভাবেই হোক আজ রাতে গরুকে কৌশলে পটাতে হবে যাতে কাল সকালে মাঠে যায়।
যাই হোক, সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ীতে ফিরল গাধা। বাড়ী ফিরেই সোজা গিয়ে ঢুকলো গোয়াল ঘরে। গাধাকে দেখেই গরু নড়েচড়ে বসল। এরপর বললো:
গরু: মাঠ থেকে এলি নাকি? এবার নিশ্চয়ই দেখেছিস, কি কঠিন কাজইনা আমাদের করতে হয়!
গাধা : না না, মোটেই কঠিন নয়। আমার তো মনে হয়, খুবই আরামদায়ক এবং সোজা কাজ এটি। কিন্তু অন্য একটি বিষয়ে আমার মনটা ভীষণ খারাপ। তোকে বললে তুইও কষ্ট পাবি।
গরু : হাল চাষের চেয়েও কষ্টের কিছু আছে নাকি? ঠিকাছে খুলেই বল, কষ্ট পাবো না।
গাধা : ব্যাপারটা তেমন কিছু না। আজ দুপুরে যখন মাঠে কাজ করছিলাম, তখন মালিক তার এক বন্ধুকে বলছিল, আমার গরুটা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে । মনে হয় বাঁচবে না। তাই ঠিক করলাম, কাল যদি ভাল না হয় তাহলে জবাই করে ফেলবো।
এ কথা শুনে গরু ভয়ে কাঁপতে লাগলো। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল :
গরু : তুই সত্যি বলছিস তো! যদি তাই হয় তাহলে কাল থেকেই কাজে লেগে পরতে হবে। মরার চেয়ে কাজ করে খাওয়া অনেক ভাল। তোর মত গাধার বুদ্ধিতে চলতে গিয়েই তো আমার সামনে বিপদ এসে হাজির হয়েছে। আর কোনদিন আমি তোর কথা শুনবো না।
গাধা: তোরে বুদ্ধি দিয়ে তো আমিও কম শাস্তি পেলাম না। আমি তোর উপকার করতে গেলাম আর তুই কিনা আমাকে দোষ দিচ্ছিস! গরুর দল বড়ই অকৃতজ্ঞ।
এভাবে কথা কাটাকাটির মধ্যদিয়ে রাত পোহালো। পরদিন সকালে কৃষক এসে গরুকে ধাক্কা দিতেই সে লাফিয়ে উঠলো। তখন গরু আর গাধাকে নিয়ে সে মাঠের দিকে রওনা হলো। যাওয়ার সময় কৃষক তার ছেলেকে ডেকে বললো :
কৃষক : তুই আরেকটি লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে আয়। গাধাকেও আজ থেকে গরুর পিছু পিছু হাল চাষে কাজে লাগাবি! আর শোন, আরেকটা মোটা লাঠিও নিয়ে আসিস। গাধা আবার ছংবং করতে পারে।

Hasir golpo হাসির গল্প

Hasir golpo bangla funny story is very nice to read here. We have posted here the best hasir golpo or bangla story for you only. These hasir golpo / হাসির গল্প are very funny and romantic. So read the bangla funny story and get the maximum fun with your friends and family.

Hasir golpo / হাসির গল্প :

একদিন ছেলে বসে পড়ছিল তখন বাবা ছেলের পাসে বসল-
বাবা: তুই সারাদিন এমন চুপ চাপ থাকিস কেন?
ছেলে: কেন বাবা আমিতো কথা বলি।
বাবা: তোকে অযথা এত বকাঝকা করি অথচ কিছু বলিস না। প্রতিবাদ করিস না।
ছেলে: কেন বাবা, আমিতো প্রতিবাদ করি।
বাবা: কই করিস? আমি যে দেখি না।
ছেলে: কেন বাবা তুমি বকা দিলে আমি টয়লেটে যাই।
বাবা: টয়লেটে গেলে কি রাগ কমে? টয়লেটে গিয়ে কি করিস যে রাগ কমে?
ছেলে: টয়লেট ব্রাশ করি।
বাবা: টয়লেট ব্রাশ করলে কি রাগ কমে?
ছেলে: কেন আমি তোমার ব্রাশ (দাঁতের) দিয়ে টয়লেট ব্রাশ করি।

Mojar golpo / মজার গল্প :

একদিন পাগলা গারদের এক ডাক্তার তিন পাগলের উন্নতি দেখার জন্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। পরীক্ষায় পাস করতে পারলে মুক্তি, আর না করলে আরো দুই বছরের জন্য আটকানো হবে। ডাক্তার তিনজনকে সাথে নিয়ে একটা পানিশূন্য সুইমিং পুলের সামনে গিয়ে ঝাঁপ দিতে বললেন। প্রথম পাগল সাথে সাথেই ঝাঁপ দিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলল। দ্বিতীয় পাগলটিও ডাক্তারের কথা মতো ঝাঁপ দিয়ে হাত ভেঙ্গে ফেলল। কিন্তু তৃতীয় পাগলটি কোনোমতেই ঝাঁপ দিতে রাজি হলো না। ডাক্তার আনন্দে চিৎকার করে উঠে বললেন, আরে, তুমি তো পুরোপুরি সুস্থ। তোমাকে মুক্ত করে দেব আজই। আচ্ছা বলো তো তুমি কেন ঝাঁপ দিলে না?
জবাবে সে বললো, ‘আমি তো সাঁতার জানি না’।

Hasir golpo / হাসির গল্প ৩ :

আমির খান : ( ক্লাসে বসে হাসছিলো ।)
টিচার : আপনি হাসছেন কেন ?
আমির : অনেকদিন থেকেই ফেসবুকের পেজ অ্যাডমিন হওয়ার ইচ্ছা ছিলো । আজ হয়েছি । খুব মজা লাগতেছে স্যার ! টিচার : বেশী মজা নেয়ার দরকার নাই । টেল মি , হোয়াট ইজ পোস্ট ?
আমির : এনিথিং দ্যাট ইজ পোস্টেড অন ফেসবুক ইজ পোস্ট স্যার ।
টিচার : ক্যান ইউ প্লিজ এলাবোরেট ?
আমির : স্যার , পাবলিক ফেবুতে যাই ই দেয় , তাই পোস্ট । ঘুরতে গেলাম , ফটো দিলাম । পোস্ট স্যার । ম্যাচ দেখতে গেলাম , স্কোর দিয়ে দিলাম । পোস্ট স্যার । আসলে পোস্ট আমাদেরকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে । ক্যাটরিনার পিক থেকে রোনালদোর কিক পর্যন্ত , সব পোস্ট স্যার ! এক সেকেন্ডে কমেন্ট , এক সেকেন্ডে লাইক । কমেন্ট-লাইক , কমেন্ট- লাইক!
টিচার : শাট আপ ! অ্যাডমিন হয়ে এগুলা করবা ? কমেন্ট-লাইক , কমেন্ট-লাইক ? চতুর তুমি বলো তো ।
চতুর : পিকচার , টেক্সটস্ অর ভিডিওস পোস্টেড থ্রো মোবাইল অর ট্যাবলেট অর ল্যাপটপ অর ডেস্কটপ উইথ ডিফারেন্ট অপারেটিং সিস্টেম ইউজিং ইন্টারনেট অন ফেসবুক ইজ কলড্ আ পোস্ট।
টিচার : বাহ !
আমির : কিন্তু স্যার , আমিও তো সেটাই বললাম সোজা ভাষায় ।
টিচার : সোজা ভাষায় বলতে চাইলে অন্য কোথায় গিয়ে বলো, পেজের অ্যাডমিন হয়ে নয়।
আমির : কিন্তু স্যার অন্য অ্যাডমিন রাও তো…
টিচার : গেট আউট !
আমির : ওহ , হোয়াই স্যার ?
টিচার : সোজা ভাষায় বেরিয়ে যান ।
(আমির চলে যেতে গিয়ে আবার ফিরে আসবে)
টিচার : কি হলো ? আমির : একটা কাজ ভূলে গেছিলাম স্যার ।
টিচার : কি ? আমির : এন ইউটিলিটি বাটন দ্যাট গিভ আস টু প্রোটেক্ট আওয়ার প্রাইভেট ডেটা , পিকচার , মেসেজ অর পার্সোনাল ইনফরমেশন ফর বিয়িং স্টোলেন অর ইউজড ফর ব্যাড পারপাস বাই হ্যাকারস অর অ্যানিওয়ান এলস্ । টিচার : কি বলতে চাও ??
আমির : লগআউট স্যার , লগআউট! করতে ভূলে গেছি !
টিচার : তো সোজা ভাষায় বলতে পারো না ?
আমির : কিছুক্ষণ আগে ট্রাই করেছিলাম স্যার , কিন্তু সোজা সোজা আপনার পছন্দ হয় নাই !