হাসির গল্প

হাসির গল্প পড়তে সবার ভালো লাগে, তাই যারা হাসির গল্প পড়তে ভালোবাসেন তাদের জন্য এখানে কিছু সুন্দর বাংলা হাসির গল্প দেয়া হলো, আশাকরি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে । যদি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না আর নিচে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন । আমাদের লেখা কিছু হাসির এসএমএস চাইলে একবার পড়ে দেখতে পারেন ।

হাসির গল্প

হাসির গল্প ১ঃ

ছেলে শ্বশুরবাড়ী যাবে।
বুদ্ধিশুদ্ধি একটু কম তাই মা তাকে ভাল করে শিখিয়ে দিল।
বলল, তোর শ্বশুরের অসুখ তাই আগে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবি কেমন আছেন।
উনি হয়তো বলবেন ভাল। তখন বলবি এইটাই তো আমাদের কাম্য।
তারপর তিনি কি পথ্য করছেন জানতে চাইবি।
তিনি কিছু একটা বলবেন, তুই তখন বলবি অতি উপাদেয় পখ্য, রোজ খেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন আসা করি।
তারপর জিজ্ঞেস করবি কোন ডাক্তার তার চিকিৎসা করছেন।
ডাক্তারের নাম শুনে বলতে পারবি তো, “দারুন ডাক্তার, খুব তারাতাড়ি ভাল হয়ে যাবেন !”
আর সব সময় হাসি, হাসি মুখ করে থাকবি কেমন।
মা নেওটা ছেলে ঘাড় নেড়ে বেরিয়ে পড়ল।
শ্বশুর মশাই রোগের জ্বালায় বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন।
জামাই ঘরে ঢূকে, হাসতে,হাসতে জিজ্ঞেস করল,কেমন আছেন বাবা ?
শ্বশুরঃ- আর বাঁচার ইচ্ছা নেই, এবার মরলেই বাঁচি।
জামাইঃ- এটাই তো আমাদের কাম্য। তা কি পথ্য করছেন এখন আপনি ?
শ্বশুরঃ- (চটে গিয়ে) ঘোড়ার ডিম।
জামাইঃ- বাঃ,বাঃ,অতি উপাদেয় পথ্য,রোজ খেয়ে যান ভাল হয়ে যাবেন আসা করি। আবার হাঁসতে-হাঁসতে তা ইয়ে কোন ডাক্তারকে দেখাচ্ছেন?
শ্বশুরঃ- (আরও চটে) যম।
জামাইঃ- খুব ভাল ডাক্তার, বেশ নাম করা ডাক্তার, আপনি কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে উঠবেন।

হাসির গল্প ২ঃ

একটি চা-এর দোকানে বসে কিছু অলস লোক আড্ডা মারতেছে। এক জন অন্য জনকে গুল মারে (অর্থাৎ মিথ্যা বলে) , বসে থাকা বাকি লোক জন শুনে। দোকান দারের কোন সমস্যা নাই বরং লাভ, দুই একটা চা বিক্রি করতে পারবে। এতো প্যাঁচাল করে সময় নষ্ট করে লাভ কি আসল কথাই আসি। প্রথম জন বলেঃ আমার দাদার একটা কুত্তা (কুকুর) ছিল। মানুষের মত কথা বলতো আর গরুর মত ঘাস খেত!!!!!

দ্বিতীয় জনে বলেঃ আরে রাখ। তোর দাদার কুত্তার ছেয়ে আমার নানার বিড়াল ছিল বড় ডিয়ারিং। পাড়ার যত কুত্তা ছিল, সব কুত্তার গায়ে একবার হলেও ওঠেছে!!!!! ওদের গুল মারা দেখে তৃতীয় জন মনে মনে বলে তোরা যদি গুলবাজ তো আমিও গুলের রাজা। তৃতীয় জনে বলেঃ তুদের কথা শেষ হলে আমার কথা শুন। আমি বাজারে গিয়ে শুনলাম। একটি বড় বিমানকে বাসে ধাক্কা মেরে নিছে পেলে দিছে। মানুষ জন মরে নাই কিন্তু পাশে একটি কুত্তা ও বিড়াল মরা পাওয়া গেছে???

মজার গল্প ৩ঃ

বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে পাত্রীর প্রেমে পড়ে গিয়েছে সোহেল। যাকে মডার্ণ ভাষায় ক্রাশ বলে। দুই পক্ষই রাজী। সিদ্ধান্ত হলো ২ সপ্তাহ পরে বিয়ে হবে।
সোহেল তার হবু বৌয়ের সাথে বিয়ের শপিং এ যাবে। এর আগে ২ দিন হবু বৌ তানজিলার সাথে ফোনে কথা বলে সোহেল কিছুটা ইজি হয়ে গিয়েছে।
মাঞ্জা মারা জামা কাপড় পরে সোহেল রিকশায় মেট্রো শপিং এ যাচ্ছিল। সংসদ ভবনের পাশেই তানজিলাকে দেখল, একা। সোহেলের মনে একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসল। সে রিকশা থেকে নেমে সন্তর্পনে তানজিলার পিছনে গিয়ে তানজিলার দুই চোখে হাত দিয়ে চেপে ধরল।
জীবনের প্রথম রোমান্টিকতা করছে, সোহেল নিজেও ঘাবড়ে গেছে। তার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না।
তানজিলা বলল “এই জাহিদ ছাড়ো! যেকোন মুহুর্তে আমার হবু বর সোহেল এসে পড়বে। সে এভাবে আমাদের দেখলে কী ভাববে? এমনিতেই ভুদাইটা আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই অবস্থায় দেখলে হাঁদারামটা হার্ট ফেইল করবে শিউর। এছাড়া আগামী সপ্তাহে আমাদের বিয়ে…………”

Hasir golpo

শিক্ষনীয় হাসির গল্প ( বেকারদের অবস্থা ):

অনার্স পাস করেও এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছে না। হঠাৎ একদিন চিড়িয়াখানায় তার একটা চাকরি হয়ে গেল। চিড়িয়াখানার বাঘটা হঠাৎ করে মারা যাওয়ায় খাঁচাটা শূন্য পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ বললঃ তুমি যদি খাঁচার ভেতর একটা
বাঘের পোষাক পরে বাঘের মত তর্জন গর্জন দিতে পারো তাহলে মাসে ৮হাজার টাকা পাবে। বেকার ছেলেটা তাতেই রাজি। রোজ চিড়িয়াখানা খোলার আগে সে বাঘের পোষাক পরে খাঁচায় ঢুকে পড়ে। দর্শক এলে তাদেরকে তর্জন- গর্জন ও আরো নানা
কায়দা-কুসরত দেখিয়ে ভীষণ আনন্দ দেয়। দেখতে দেখতে চিড়িয়াখানার দর্শক বেড়ে গেল। বাঘের খাঁচার সামনে বিরাট ভিড়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও খুশি হয়ে বেতন বাড়িয়ে দিল। ভালোই চলছিল দিন……. হঠাৎ একদিন হলো বিপত্তি…!!! বাঘের খাঁচার পাশেই ছিল সিংহের খাঁচা। দুই খাঁচার মাঝে একটা লোহার জালের বেঁড়া। একদিন সেই বেঁড়া ধরে লাফিয়ে নেচে- কুদে মজা দেখাতে গিয়ে পুরনো বেঁড়া ভেঙ্গে
সে গিয়ে পড়লো সিংহের খাঁচার ভেতর। এখন কী হবে? পৈতৃক প্রাণটা বুঝি আজ সিংহের হাতেই গেল…! ভয়ে জবু থবু হয়ে খাঁচার এক কোনে বসে দোয়া-দুরুদ পড়তে লাগলো বেচারা। এদিকে সিংহটাও কিছুক্ষণ চুপকরে বসে থেকে ধিরে ধিরে উঠে
দাঁড়ালো। তারপর আস্তে আস্তে এগিয়ে আসতে লাগলো তার দিকে। ভয়ে তো তার প্রায় হার্ট এটাক হবার যোগার। এদিকে সিংহটা এক্কেবারে কাছে চলে এসেছে। প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়ে ছেলেটা যখন কালেমা পড়তে শুরু করলো…. ঠিক তখন সিংহটা বলে উঠলো . . . . ভাই, এতো ভয় পাবেন না, আমিও অনার্স পাশ বেকার।🙂🐸
মজার মজার পোস্ট পেতে হলে অবশ্যই আইডি তে এড হয়ে নিবেন! ধন্যবাদ ❤️

Read More  একটি বাংলা রম্য গল্প

শিক্ষনীয় হাসির গল্প ( স্বামীর চালাকি ):

স্ত্রী – বুঝলে, আজ রাত্রে আমি রান্না করছিনা, হোটেলে খাবো।☺
স্বামী – কোনও ব্যাপার না। Done!
স্বামী – হ্যাঁ, তো কোথায় খাবে ভাবছো ? একটা মাঝামাঝি রেস্টুরেন্টে গেলেই হবে, কি বলো ?
স্ত্রী – মোটেই না। আজ ক্যাণ্ডেল লাইট ডিনার করবো, রয়্যাল প্যালেস হোটেলে যাবো।
স্বামী – (একটুক্ষণ চুপ থাকার পর) ও, আচ্ছা। ঠিক আছে তবে। সন্ধ্যা সাতটায় যাবো তো ? তৈরী থেকো।
স্ত্রী – Sure
সন্ধ্যা ৬:৩০ মিঃ গাড়িতে করে যেতে যেতে ..
স্বামী – আজকাল ফুচকা ওয়ালার সংখ্যা এ রাস্তায় বেশ বেড়েছে। জানো তো, একবার আমি বন্ধুদের সঙ্গে বাজি রেখে ৩০ টা ফুচকা খেয়েছিলাম, আর বাজি জিতে গেছিলাম !
স্ত্রী – এ আর এমন কী বাহাদুরি !
স্বামী – বাহাদুরিই ! আমাকে আজ পর্যন্ত ফুচকা খাওয়াতে কেউ হারাতে পারেনি।
স্ত্রী – ছাড়ো তো! ফুচকা খাওয়াতে তোমাকে আমি গুনে গুনে হারাতে পারি।
স্বামী – তুমি !! হাসালে প্রিয়তমা ! আমি ভালোমতোই জানি , তুমি গো হারা হারবে। গোটা বিশেক বড়জোর , তারপরই হাঃ হাঃ হাঃ
স্ত্রী – হয়ে যাক চ্যালেঞ্জ। দাঁড় করাও গাড়ি, এক্ষুণি-
……..
স্বামী ৩০টা ফুচকা খেয়ে কৃত্রিম ঢেঁকুর তুলে খাওয়া বন্ধ করে দিল। পেট তো স্ত্রীরও ভরে গেছিলো, তবুও আরো একটা ফুচকা খেয়ে নিয়েই স্ত্রী খুশিতে, আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলেন “জিতে গেছি, জিতে গেছি “।
স্বামী স্মিত হেসে হার স্বীকার করে নিলেন।
……..
বিল এসেছিল  ৩২০ টাকা আর স্ত্রী যখন ঘরে ফিরেছিলেন, তখন তিনি ছিলেন জেতার আনন্দে উৎফুল্ল ।
ইহাই ম্যানেজমেন্ট, সর্বনিম্ন বিনিয়োগে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি এবং কর্মীর সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি !!!
😌😌😌

Hasir golpo ( ছোট হাসির গল্প ) :

একদিন ছেলে বসে পড়ছিল তখন বাবা ছেলের পাসে বসল-
বাবা: তুই সারাদিন এমন চুপ চাপ থাকিস কেন?
ছেলে: কেন বাবা আমিতো কথা বলি।
বাবা: তোকে অযথা এত বকাঝকা করি অথচ কিছু বলিস না। প্রতিবাদ করিস না।
ছেলে: কেন বাবা, আমিতো প্রতিবাদ করি।
বাবা: কই করিস? আমি যে দেখি না।
ছেলে: কেন বাবা তুমি বকা দিলে আমি টয়লেটে যাই।
বাবা: টয়লেটে গেলে কি রাগ কমে? টয়লেটে গিয়ে কি করিস যে রাগ কমে?
ছেলে: টয়লেট ব্রাশ করি।
বাবা: টয়লেট ব্রাশ করলে কি রাগ কমে?
ছেলে: কেন আমি তোমার ব্রাশ (দাঁতের) দিয়ে টয়লেট ব্রাশ করি।

Mojar golpo / মজার গল্প :

একদিন পাগলা গারদের এক ডাক্তার তিন পাগলের উন্নতি দেখার জন্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। পরীক্ষায় পাস করতে পারলে মুক্তি, আর না করলে আরো দুই বছরের জন্য আটকানো হবে। ডাক্তার তিনজনকে সাথে নিয়ে একটা পানিশূন্য সুইমিং পুলের সামনে গিয়ে ঝাঁপ দিতে বললেন। প্রথম পাগল সাথে সাথেই ঝাঁপ দিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলল। দ্বিতীয় পাগলটিও ডাক্তারের কথা মতো ঝাঁপ দিয়ে হাত ভেঙ্গে ফেলল। কিন্তু তৃতীয় পাগলটি কোনোমতেই ঝাঁপ দিতে রাজি হলো না। ডাক্তার আনন্দে চিৎকার করে উঠে বললেন, আরে, তুমি তো পুরোপুরি সুস্থ। তোমাকে মুক্ত করে দেব আজই। আচ্ছা বলো তো তুমি কেন ঝাঁপ দিলে না?
জবাবে সে বললো, ‘আমি তো সাঁতার জানি না’।

Read More  কিভাবে প্রেম করতে হয়

Hasir golpo / হাসির গল্প ৩ :

আমির খান : ( ক্লাসে বসে হাসছিলো ।)
টিচার : আপনি হাসছেন কেন ?
আমির : অনেকদিন থেকেই ফেসবুকের পেজ অ্যাডমিন হওয়ার ইচ্ছা ছিলো । আজ হয়েছি । খুব মজা লাগতেছে স্যার ! টিচার : বেশী মজা নেয়ার দরকার নাই । টেল মি , হোয়াট ইজ পোস্ট ?
আমির : এনিথিং দ্যাট ইজ পোস্টেড অন ফেসবুক ইজ পোস্ট স্যার ।
টিচার : ক্যান ইউ প্লিজ এলাবোরেট ?
আমির : স্যার , পাবলিক ফেবুতে যাই ই দেয় , তাই পোস্ট । ঘুরতে গেলাম , ফটো দিলাম । পোস্ট স্যার । ম্যাচ দেখতে গেলাম , স্কোর দিয়ে দিলাম । পোস্ট স্যার । আসলে পোস্ট আমাদেরকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে । ক্যাটরিনার পিক থেকে রোনালদোর কিক পর্যন্ত , সব পোস্ট স্যার ! এক সেকেন্ডে কমেন্ট , এক সেকেন্ডে লাইক । কমেন্ট-লাইক , কমেন্ট- লাইক!
টিচার : শাট আপ ! অ্যাডমিন হয়ে এগুলা করবা ? কমেন্ট-লাইক , কমেন্ট-লাইক ? চতুর তুমি বলো তো ।
চতুর : পিকচার , টেক্সটস্ অর ভিডিওস পোস্টেড থ্রো মোবাইল অর ট্যাবলেট অর ল্যাপটপ অর ডেস্কটপ উইথ ডিফারেন্ট অপারেটিং সিস্টেম ইউজিং ইন্টারনেট অন ফেসবুক ইজ কলড্ আ পোস্ট।
টিচার : বাহ !
আমির : কিন্তু স্যার , আমিও তো সেটাই বললাম সোজা ভাষায় ।
টিচার : সোজা ভাষায় বলতে চাইলে অন্য কোথায় গিয়ে বলো, পেজের অ্যাডমিন হয়ে নয়।
আমির : কিন্তু স্যার অন্য অ্যাডমিন রাও তো…
টিচার : গেট আউট !
আমির : ওহ , হোয়াই স্যার ?
টিচার : সোজা ভাষায় বেরিয়ে যান ।
(আমির চলে যেতে গিয়ে আবার ফিরে আসবে)
টিচার : কি হলো ? আমির : একটা কাজ ভূলে গেছিলাম স্যার ।
টিচার : কি ? আমির : এন ইউটিলিটি বাটন দ্যাট গিভ আস টু প্রোটেক্ট আওয়ার প্রাইভেট ডেটা , পিকচার , মেসেজ অর পার্সোনাল ইনফরমেশন ফর বিয়িং স্টোলেন অর ইউজড ফর ব্যাড পারপাস বাই হ্যাকারস অর অ্যানিওয়ান এলস্ । টিচার : কি বলতে চাও ??
আমির : লগআউট স্যার , লগআউট! করতে ভূলে গেছি !
টিচার : তো সোজা ভাষায় বলতে পারো না ?
আমির : কিছুক্ষণ আগে ট্রাই করেছিলাম স্যার , কিন্তু সোজা সোজা আপনার পছন্দ হয় নাই !

মজার গল্প ৪ঃ

এক কৃষকের ছিল একটি গাধা ও একটি গরু। কৃষক বোঝা আনা-নেওয়া ও চলাচলের বাহন হিসেবে গাধাকে ব্যবহার করতো আর গরু দিয়ে হালচাষ করতো। গম ও ধান মাড়াইয়ের কাজেও গরুকে ব্যবহার করা হতো।
একদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একনাগাড়ে কাজ করে গরু যখন ঘরে ফিরলো তখন অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ক্লান্ত হয়ে একা একাই বিড়বিড় করে কী যেন বলছিল। গরুকে বিড়বিড় করতে দেখে গাধা বললো :
গাধা : আরে বাবা, হয়েছে কী? বিড়বিড় করে কি বলছো?
গরু : তোরা গাধার দল আমাদের দুঃখ-কষ্টের কি বুঝবি ? আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ বুঝেনারে, কেউ বুঝে না।
গাধা : বুঝবো না কেন, অবশ্যই বুঝবো। তাছাড়া তুই যেমন বোঝা টানিস আমরাও তেমনি বোঝা টানি। আমাদের মধ্যে তফাৎটা কোথায় দেখলি!
গরু : তফাৎ অবশ্যই আছে। গাধাকে বোঝা টানা ছাড়া আর কোনো কাছে ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু জমি চাষ করা, ফসল মাড়াই করা, কলুর ঘানি টানা এসব কষ্টের কাজ আমাদের করতে হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যথা-বেদনায় সারারাত চোখে ঘুম আসে না। তোদের কি এত কষ্ট করতে হয়?

গরুর কষ্টের কথা শুনে গাধার মনটা খারাপ হয়ে গেল। গরুকে কষ্ট থেকে রেহাই দেয়ার জন্য সে একটা বুদ্ধি বের করলো। এরপর গরুকে উদ্দেশ্য করে বললো :
গাধা : তুই যদি চাস তাহলে আমি এমন একটা বুদ্ধি দিতে পারি যাতে তোকে আর মাঠে যেতে হবে না।
গরু : গাধার মাথায় আবার বুদ্ধি আছে নাকি ? না না তোর বুদ্ধি অনুযায়ী চলতে গেলে আমার বিপদ আরো বাড়বে।
গাধা :শোন্ ! মানুষ আমাদেরকে যত গাধা মনে করে আমরা কিন্তু আসলে তত গাধা নই। আর এ জন্যইতো আমাদেরকে হালচাষ ও ঘানি টানার কাছে কেউ লাগাতে পারে না। তুই একবার আমার কথা অনুযায়ী কাজ কর,তাহলে দেখবি তুইও আমার মতো সুখে আছিস।
গরু : ঠিকাছে বল দেখি, তোর বুদ্ধিটা কি ?
এরপর গাধা গরুকে অসুস্থ হবার ভান করতে পরামর্শ দিলো। গরু নিজেকে বাঁচানোর জন্য গাধার পরামর্শ অনুযায়ী হাত-পা সোজা করে ঘরে শুয়ে রইল এবং হাম্বা হাম্বা রবে ‘উহ্‌ আহ্‌’ করতে লাগলো। কৃষক এসে উঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। তখন বাধ্য হয়ে গোয়াল থেকে বের এলো এবং অন্য কোন উপায় বের করার জন্য চিন্তা করতে লাগলো।
কৃষক চলে যাওয়ার পর গরু গাধাকে ধন্যবাদ দিল। ধন্যবাদ পেয়ে গাধাও খুশীতে নেচে উঠলো। কিন্তু গাধার খুশী বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কিছুক্ষণ পরই কৃষক গোয়াল ঘরে ফিরে এলো এবং গরুর বদলে গাধাকেই মাঠে নিয়ে গেল। গাধার কাঁধে লাঙ্গল-জোয়াল বেঁধে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা জমি চাষ করার পর কৃষক কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়ার জন্য একটি গাছের ছায়ায় বসলো। এ সময় গাধা মনে মনে ভাবতে লাগলো :
গাধা : গরুকে বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজেই বিপদে পড়ে গেলাম! সত্যি সত্যিই আমি একটা গাধা। তা না হলে এমন বোকামী কেউ করে?
এসব ভাবার পর নিজেকে বাঁচানোর জন্য গাধা চিন্তা করতে লাগলো। হঠাৎ সে গরুকে দেয়া বুদ্ধিটিই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল। সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী গাধা জমিতে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লো এবং কান ফাটা চিৎকার দিয়ে আকাশ-বাতাস ভারী করে তুললো।

Read More  শিক্ষনীয় গল্প - কৃতজ্ঞতার পুরষ্কার

চিৎকার শুনে কৃষক গাধার কাছে এলো। এরপর তাকে মাটি থেকে উঠানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু কিছুতেই উঠাতে পারলো না। এরপর কৃষক তার লাঠি দিয়ে গাধাকে বেদম পেটাতে শুরু করলো। পেটাতে পেটাতে কৃষক বললো :
কৃষক : মুর্খ কোথাকার! দেখতেই পাচ্ছিস, গরুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপরও সব জেনে শুনে তুই কুড়েমি শুরু করেছিস!তোর দুধ কোন কাজে আসে না, গোশতেও কোন ফায়দা নেই। তারপরও ভেবেছিস তোকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো? আজ যদি কাজ না করিস তাহলে তোকে মেরেই ফেলব।
গাধা দেখল অবস্থা বিপজ্জনক। তাই সোজা হয়ে দাঁড়ালো। প্রথম দিকে বিরক্তির সাথে এবং ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে কাজে লেগে গেল। কাজ করার সময় গাধা বিড়বিড় করে বলতে লাগলো- যেভাবেই হোক আজ রাতে গরুকে কৌশলে পটাতে হবে যাতে কাল সকালে মাঠে যায়।
যাই হোক, সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ীতে ফিরল গাধা। বাড়ী ফিরেই সোজা গিয়ে ঢুকলো গোয়াল ঘরে। গাধাকে দেখেই গরু নড়েচড়ে বসল। এরপর বললো:
গরু: মাঠ থেকে এলি নাকি? এবার নিশ্চয়ই দেখেছিস, কি কঠিন কাজইনা আমাদের করতে হয়!
গাধা : না না, মোটেই কঠিন নয়। আমার তো মনে হয়, খুবই আরামদায়ক এবং সোজা কাজ এটি। কিন্তু অন্য একটি বিষয়ে আমার মনটা ভীষণ খারাপ। তোকে বললে তুইও কষ্ট পাবি।
গরু : হাল চাষের চেয়েও কষ্টের কিছু আছে নাকি? ঠিকাছে খুলেই বল, কষ্ট পাবো না।
গাধা : ব্যাপারটা তেমন কিছু না। আজ দুপুরে যখন মাঠে কাজ করছিলাম, তখন মালিক তার এক বন্ধুকে বলছিল, আমার গরুটা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে । মনে হয় বাঁচবে না। তাই ঠিক করলাম, কাল যদি ভাল না হয় তাহলে জবাই করে ফেলবো।
এ কথা শুনে গরু ভয়ে কাঁপতে লাগলো। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল :
গরু : তুই সত্যি বলছিস তো! যদি তাই হয় তাহলে কাল থেকেই কাজে লেগে পরতে হবে। মরার চেয়ে কাজ করে খাওয়া অনেক ভাল। তোর মত গাধার বুদ্ধিতে চলতে গিয়েই তো আমার সামনে বিপদ এসে হাজির হয়েছে। আর কোনদিন আমি তোর কথা শুনবো না।
গাধা: তোরে বুদ্ধি দিয়ে তো আমিও কম শাস্তি পেলাম না। আমি তোর উপকার করতে গেলাম আর তুই কিনা আমাকে দোষ দিচ্ছিস! গরুর দল বড়ই অকৃতজ্ঞ।
এভাবে কথা কাটাকাটির মধ্যদিয়ে রাত পোহালো। পরদিন সকালে কৃষক এসে গরুকে ধাক্কা দিতেই সে লাফিয়ে উঠলো। তখন গরু আর গাধাকে নিয়ে সে মাঠের দিকে রওনা হলো। যাওয়ার সময় কৃষক তার ছেলেকে ডেকে বললো :
কৃষক : তুই আরেকটি লাঙ্গল জোয়াল নিয়ে আয়। গাধাকেও আজ থেকে গরুর পিছু পিছু হাল চাষে কাজে লাগাবি! আর শোন, আরেকটা মোটা লাঠিও নিয়ে আসিস। গাধা আবার ছংবং করতে পারে।

About the Author:

Habibur Rahman is an expert writer about Bangla poems, romantic stories, captions, status and quotes. He is writing about all romantic and motivational quotes, poems, captions, and status messages from the past 12 years. He has completed honors and master's degrees in literature from Dhaka University.

5 Comments

  1. আমার গল্প দুটি ভালো লেগেছে এই গল্প পড়ে আমার সময় কিছুটা কাটলো।

  2. ব্লগ সাইট ছাড়া যে কোন কিছুতে ব্যাবহার করতে পারবেন ।

  3. প্রথম গল্পটি পড়ে আমার খুব ভাল লেগেছে।
    আমি আমার কোচিংএর কিছু ছাত্রদের নিয়ে ছোট ছোট ফানি ভিডিও তৈরি করতে চাচ্ছি। আপনার প্রথম গল্পটি ব্যবহার করে আমার কি ভিডিও তৈরি করতে পারি? প্লিজ জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *