পদ্ম ফুল নিয়ে ক্যাপশন স্ট্যাটাস পোস্ট এসএমএস ও কিছু রোম্যান্টিক কথা নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট । ক্যাপশন গুলো খুবই চমৎকার কবিতা ছন্দ মিলানো আছে । তাই এগুলো চাইলে যেকোন কারো সাথে শেয়ার করতে পারেন । তো আসুন তাহলে দেখে নেয়া যাক, স্ট্যাটাস বা ক্যাপশন গুলো ।
পদ্ম ফুল নিয়ে ক্যাপশন :
১. আমি নাইতে গিয়ে এক পদ্ম দেখেছি
তুলবো বলে তাহার উপর হাত রেখেছি,
যে পদ্ম অঙ্গে ঢেলেছে কতশত নীল
তাই দিয়ে সাজাবো আসমানী মঞ্জিল।
২. তারার মেলা লুকিয়ে রেখেছি মন ডগাতে
নিশিতে শুরু রক্ত খেলা শেষ হবে এই প্রভাতে,
স্বার্থকী তুই পদ্ম পানে রণে নেমে আয়
রাঙা দেহে সেজে আছি জলের কিনারায়।
৩. পদ্মা লতায় লতায় কাঁটা থাকে বলেই পদ্ম এত মূল্যবান।
পদ্মের পাপড়িগুলো একটি একটি করে ঝরে পরে ঠিকই কিন্তু কাঁটাগুলো হৃদয়ে বৃদ্ধ হয়।
৪. এক সময় বর্ষা ও শরৎকালে বাংলাদেশের বিলে ঝিলে ফুটে থাকতো শোভাবর্ধনকারী, মনোহরি পদ্মফুল।
“ওহে পদ্ম ফুল!
ভোরের হাওয়ায় শীতল স্পর্শে দুলছো দোদুল- দুল।”
আজকাল আর সর্বত্র পদ্মফুলের দেখা পাওয়া যায় না।
আরো আছেঃ>>> শিউলি ফুল নিয়ে ক্যাপশন
৫. “একা ঝিলের জলে শালুক পদ্ম তোলে কে
ভ্রমর – কুন্তলা কিশোরী?
আধেক অঙ্গ জলে, রূপের লহর তোলে
সে ফুল দেখে বেভুল সিনান বিসরি।।”
— কাজী নজরুল ইসলাম
৬. আজ নীল ফুলের নীল পদ্ম
নীলিমার মায়ায় আবদ্ধ
সবকিছু আজ তাই যেন
নীলের মাঝেই সীমাবদ্ধ।
৭. মা, তুমি স্নেহের আঁচল মোড়ানো
নীল পদ্ম ফুল
ক্ষমা করো মমতাময়ী
হয় যদি কভু অজ্ঞাত ভুল!
৮. আমার বন্ধু কে
তোমরা কি কেউ জানো?
অরন্যের লতিকা গুল্ম, নাকি নদীতে বয়ে যাওয়া স্রোত?
নাকি পাহাড়ের খন্ড আকৃতির স্তুপ
কিংবা সমুদ্র তলদেশের মৎস্যকন্যারা?
আমি আজ ভেবে ভেবে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত,
হতবিহ্বল উদ্ভ্রান্ত।
তবে দিঘীরপাড়ের পদ্মফুল আমায় বলেছিল,
তোমার বন্ধু তুমি, শুধুই তুমি।
আরো আছে বই
সুকান্ত নজরুল জীবনানন্দ
আরো আছে রবীন্দ্রনাথ
যাকে পুজিলে জীবন
হবে সার্থক তোমার।
—- আইরিন আঁখি
৯. পৃথিবীতে যতই খারাপ থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত সুন্দরের জয় নিশ্চিত। ঠিক তেমনি, কেউ তোমার কাছে খারাপ বানানোর যতই চেষ্টা করুক না কেন, তোমার মন যদি অবিচল থাকে যে তুমি ভালোই হবে, তাহলে তুমি তাই হবে।
এর অনন্য উদাহরণ হল পদ্ম ফুল। তার চারপাশে কত ময়লা, কাদা জল, দুর্গন্ধ যুক্ত পরিবেশ। অথচ এরই মাঝে জন্ম নেয় মনোহরী সৌন্দর্যের আধার পদ্মফুলটা।
১০. সকল সুযোগ-সুবিধা পেলেই যে মানুষ সফল হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই, মাঝে মাঝে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝেও জন্ম নেয় কিছু “গোবরে পদ্মফুল”।
সেরা পদ্ম ফুল নিয়ে ক্যাপশন

পদ্ম ফুল নিয়ে উক্তি

পদ্ম ফুল নিয়ে প্রেম ও ভালোবাসার ক্যাপশন

পদ্ম ফুল নিয়ে ফেসবুক ক্যাপশন

পদ্ম ফুল নিয়ে ক্যাপশন
১. কাদা মাখানো পৃথিবীতে আমরা সবাই এক একটা পদ্ম হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। সৌন্দর্য মানে নিখুঁত হওয়া নয়, বরং নোংরার মাঝে থেকেও নিজেকে পবিত্র রাখা।
২. তোমার জন্ম কোথায় সেটা বড় কথা নয়, তুমি কতটা উঁচুতে ফুটে আছো সেটাই তোমার পরিচয়। পদ্মের মতো নিজেকে কাদা থেকে মুক্ত করো।

৩. জীবনের গভীর অন্ধকার আর কাদা তোমাকে গ্রাস করতে পারবে না, যদি তোমার ভেতরে ফুটে ওঠার তীব্র ইচ্ছা থাকে।
৪. ঝরনা যেমন পাথর ভেঙে পথ করে, পদ্ম তেমন কাদা ফুঁড়ে আলো খোঁজে। প্রতিকূলতাই হলো তোমার শ্রেষ্ঠত্বের কারিগর।
৫. সমাজ হয়তো তোমাকে কাদা দেবে, কিন্তু তুমি সেখান থেকে পুষ্টি নিয়ে ফুল হয়ে ফুটে ওঠো। ঘৃণা হোক তোমার ভালোবাসার সার।
৬. হার মেনে নেওয়া মানেই শেষ নয়। মনে রেখো, গভীর পঙ্কেই সবচেয়ে সুন্দর পদ্মটি জন্ম নেয়।
৭. জীবনের মলিনতা যেন তোমার আত্মাকে স্পর্শ করতে না পারে। পদ্মের পাতার মতো হও, জল স্পর্শ করেও যা সিক্ত হয় না।
৮. আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাঙা গল্পের অংশ, কিন্তু সেই ভাঙা অংশগুলো দিয়েই পদ্মের মতো পূর্ণতা পাওয়া সম্ভব।
৯. অন্ধকারকে ভয় পেয়ো না, কারণ অন্ধকারেই শিকড় মজবুত হয়। আলোতে শুধু প্রকাশ ঘটে।
১০. তোমার চারপাশ বিষাক্ত হলেও নিজের সুবাস বিলিয়ে দাও। পদ্ম কখনো কাদার মতন দুর্গন্ধ ছড়ায় না।
১১. মানুষের মন হওয়া উচিত পদ্মের মতো। বাইরে ঝোড়ো হাওয়া থাকলেও ভেতরে শান্ত আর স্নিগ্ধ।
১২. কারো চোখের জল মুছে দেওয়াটা হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুবাস। পদ্ম যেমন সরোবরকে শীতল রাখে, তুমিও তেমন কাউকে শান্তি দাও।
১৩. অহংকার কাদার মতো আঠালো, আর বিনয় পদ্মের পাপড়ির মতো নরম। বেছে নাও তুমি কোনটি হতে চাও।
১৪. একটি ফুটন্ত পদ্ম যেমন বিলের শোভা বাড়ায়, তোমার একটি ছোট্ট ভালো কাজ তেমন পৃথিবীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
১৫. ভালোবাসা মানে শুধু গ্রহণ করা নয়, ত্যাগের বিনিময়ে প্রস্ফুটিত হওয়া। যেমন রোদকে ভালোবেসে পদ্ম নিজেকে বিলিয়ে দেয়।
১৬. মানুষের রুক্ষতার মাঝেও কোমলতা খুঁজে পাওয়াটাই শ্রেষ্ঠ মানবিকতা। পাথরের বুকে পদ্ম ফোটানোই তো জীবন।
১৭. স্বার্থপরতার ভিড়ে নিঃস্বার্থ হওয়া কঠিন, কিন্তু পদ্ম তো একাই ফোটে, কারো অনুমতির অপেক্ষা করে না।
১৮. ঘৃণা দিয়ে কখনো ঘৃণা জয় করা যায় না। কাদা পরিষ্কার করতে যেমন জল লাগে, তেমনি মানুষের মন জয় করতে পদ্মের মতো পবিত্রতা লাগে।
১৯. তোমার অস্তিত্ব যদি অন্যের উপকারে না আসে, তবে সেই সৌন্দর্য মরীচিকার মতো। পদ্মের মতো ছায়া আর মায়া বিলিয়ে দাও।
২০. পৃথিবীর সমস্ত কালিমা ধুয়ে যাক মানুষের মনের স্নিগ্ধতায়। প্রতিটি হৃদয় হোক এক একটি শুভ্র পদ্ম।
২১. নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। সূর্য উঠলে পদ্ম যেমন আপনাআপনি ফুটে ওঠে, সময় হলে তুমিও তোমার সাফল্যের দেখা পাবে।
২২. আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখার আগে কাদার গভীরে শিকড় গাড়তে শেখো। ভিত্তি মজবুত না হলে সৌন্দর্য স্থায়ী হয় না।
২৩. লোকে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। পদ্ম কাদা থেকে জন্মায় বলে কি তার কদর কম? তুমি তোমার কাজেই সেরা হও।
২৪. তোমার ভেতরের সম্ভাবনাকে দমিয়ে রেখো না। প্রতিটি পাপড়ি মেলে ধরার মধ্যে এক অদ্ভুত মুক্তি আছে।
২৫. স্বপ্নগুলো হোক পদ্মের মতো—শুভ্র, নির্মল এবং আকাশের দিকে মুখ করা।
২৬. ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যেও না। হাজারো কচুরিপানার মাঝে একটি পদ্ম যেমন আলাদা দেখায়, নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখো।
২৭. পরিস্থিতি তোমাকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তুমি জানো কিভাবে জলের ওপর ভেসে থাকতে হয়।
২৮. নিজেকে চেনার চেষ্টা করো। তোমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল সরোবর আর অসংখ্য প্রস্ফুটিত পদ্ম।
২৯. পরাজয় মানেই মৃত্যু নয়, হয়তো এটা নতুন করে প্রস্ফুটিত হওয়ার প্রস্তুতি।
৩০. ধৈর্যের ফল সবসময় সুন্দর হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন পদ্ম ফোটে, তখন চারপাশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।
৩১. জীবনটা একটা পদ্ম পাতার জল। যেকোনো সময় পড়ে যেতে পারে, তাই যতক্ষণ আছো, টলটলে স্নিগ্ধতা নিয়ে থাকো।

৩২. মায়া ত্যাগের নামই শান্তি। পদ্ম পাতা যেমন জল ধরে রাখে না, তুমিও তেমন দুঃখকে ধরে রেখো না।
৩৩. স্রষ্টা আমাদের সবাইকে একটি করে বীজের মতো পাঠিয়েছেন। এখন আমাদের কাজ হলো নিজেকে পদ্মে রূপান্তরিত করা।
৩৪. নীরবতাই শক্তি। পদ্ম যখন ফোটে তখন কোনো শব্দ হয় না, শুধু রূপ আর গন্ধে বিশ্ব মাতাল হয়।
৩৫. পূর্ণতা মানে অনেক কিছু পাওয়া নয়, বরং যা আছে তাই নিয়ে শান্তিতে ফুটে থাকা।
৩৬. শরীর মাটির হতে পারে, কিন্তু মনটা যেন আকাশমুখী পদ্মের মতো হয়।
৩৭. প্রতিটি মানুষ এক একটি লুকানো সম্ভাবনা। কেউ কাদার নিচে আটকে থাকে, কেউ সাহসের জোরে ফুটে ওঠে।
৩৮. পৃথিবীর কোলাহল থেকে দূরে নিজের মনের ভেতরে একটা শান্ত সরোবর তৈরি করো, যেখানে নিয়মিত পদ্ম ফোটে।
৩৯. পবিত্রতা কোনো পোশাকে থাকে না, থাকে অন্তরের গভীরতায়। যেমন থাকে পদ্মের কেন্দ্রে।
৪০. মৃত্যুর পর আমরা কী রেখে যাবো? যদি একটি মানুষের মনেও পদ্মের মতো স্মৃতি হয়ে থাকতে পারি, তবেই সার্থকতা।
৪১. কাদা থেকে উত্তরণই হলো জীবনের সার্থকতা।
৪২. পদ্মের মতো হও, যা পবিত্রতা আর সহনশীলতার প্রতীক।
৪৩. সৌন্দর্য যখন ধৈর্যের সাথে মেশে, তখন তা পদ্ম হয়ে ওঠে।
৪৪. তুমি কি কারো মনের সরোবরে প্রথম ফুটে থাকা ফুলটি হতে পারবে?
৪৫. হাসতে শেখো পদ্মের মতো, চারপাশের নোংরা উপেক্ষা করে।
৪৬. শিকড় মাটিতে থাকলেও লক্ষ্য যেন হয় অসীম আকাশে।
৪৭. নিজের স্নিগ্ধতা দিয়ে বিষাদ ধুয়ে ফেলো।
৪৮. প্রতিটি সকাল মানেই নতুন করে পাপড়ি মেলার সুযোগ।
৪৯. পদ্ম মানেই হলো হার না মানা এক সত্তার গল্প।
৫০. কাদা থাকলেই ফুল ফোটে, তেমনি দুঃখ থাকলেই সুখের মূল্য বোঝা যায়।
একাকীত্বের আভিজাত্য
১. একাকীত্ব মানেই নিঃসঙ্গতা নয়; এটি হলো কোলাহলমুক্ত এমন এক রাজত্ব, যেখানে আপনি নিজেই নিজের রাজা। নিজের সাথে নিজের বন্ধুত্ব করাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আভিজাত্য।
২. ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়া সহজ, কিন্তু একলা পথে নিজের ব্যক্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। মনে রাখবেন, সিংহ একাই হাঁটে, আর পদ্ম একা ফুটেও পুরো বিলের শোভা বদলে দেয়।
৩. যখন কেউ পাশে থাকে না, তখনই মানুষ আয়নার মুখোমুখি দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। এই নির্জনতা আপনাকে ভেঙে ফেলে না, বরং ভেতর থেকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলে।
৪. একাকীত্বকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মহাকাশের নক্ষত্রগুলো যেমন কোটি মাইল দূরে একা থেকেও আলো দেয়, আপনিও আপনার একাকীত্বে উজ্জ্বল হতে শিখুন।
৫. মানুষের দেওয়া অবহেলার চেয়ে নিজের দেওয়া নির্জনতা অনেক বেশি দামি। এই নির্জনতায় কোনো মুখোশ পরতে হয় না, নিজের ক্ষতগুলোকে যত্নে সারিয়ে তোলা যায়।
৬. একা থাকাটা একটা সাধনা। যারা নিজের সঙ্গ উপভোগ করতে পারে, পৃথিবীর কোনো অভাব বা বিচ্ছেদ তাদের মানসিকভাবে পঙ্গু করতে পারে না।
৭. সমাজ আপনাকে একা দেখে করুণা করতে পারে, কিন্তু আপনি জানেন আপনি একা নন—আপনি আপনার স্বপ্নের সাথে আছেন। এই নিস্তব্ধতাই আপনার সাফল্যের কারিগর।
৮. গাছের শুকনো পাতা ঝরে গেলে যেমন নতুন কুঁড়ি আসে, তেমনি মানুষের জীবন থেকে কোলাহল কমে গেলে প্রকৃত সত্তার প্রকাশ ঘটে। একাকীত্ব হলো আত্মার বসন্তকাল।
৯. সব কথা সবার বোঝার প্রয়োজন নেই। কিছু নীরবতা শুধু নিজের জন্য রাখতে হয়। এই গোপন নীরবতাই আপনাকে সাধারণ মানুষের ভিড়ে অসাধারণ করে তোলে।
১০. জাহাজ যখন তীরে একা দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তাকে অনেক বেশি গম্ভীর ও শক্তিশালী দেখায়। মানুষের ব্যক্তিত্বও নির্জনতায় এক গভীর গাম্ভীর্য খুঁজে পায়।
১১. একাকীত্ব হলো এমন এক পাঠশালা, যেখানে শিক্ষক এবং ছাত্র দুজনেই আপনি নিজে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্যগুলো এখানেই শেখা হয়।
১২. অন্যের মনোযোগ ভিক্ষা করার চেয়ে নিজের আত্মসম্মান নিয়ে একা থাকা অনেক বেশি আভিজাত্যের। সস্তা জনপ্রিয়তার চেয়ে দামি একাকীত্ব অনেক ভালো।
১৩. নিজের মনের বাগানে একা হাঁটতে শিখুন। বাইরের মালী আপনার বাগান পরিষ্কার করবে না; নিজের শান্তি নিজেকেই চাষ করতে হয়।

১৪. একা থাকা মানে আপনি দুর্বল নন, বরং এর মানে হলো আপনি কারো ওপর নির্ভর না করেও বেঁচে থাকার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করেছেন।
১৫. ভিড়ের চাপে মানুষের সৃজনশীলতা হারিয়ে যায়, কিন্তু নির্জনতায় তা ডালপালা মেলে। বড় বড় সব আবিষ্কার আর চিন্তার জন্ম হয়েছে একাকীত্বের নিভৃত কোণে।
১৬. সম্পর্কগুলো যখন ক্লান্ত করে দেয়, তখন একাকীত্বই হয় পরম আশ্রয়। এটি আপনাকে নতুন করে ভালোবাসতে এবং বাঁচতে শেখায়।
১৭. একাকীত্বকে যদি আপনি সম্মানের চোখে দেখেন, তবে এটি আপনার কাছে আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেবে। এটি আপনাকে নিজের দোষ-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেয়।
১৮. পাহাড় একা দাঁড়িয়ে থাকে বলেই তার উচ্চতা এত বিশাল। আপনার একাকীত্বই আপনার মানসিক উচ্চতার মাপকাঠি।
১৯. লোকে কী ভাবল তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, নিজের নির্জনতাকে ভালোবাসুন। কারণ দিনশেষে আপনার ছায়া আর আপনার বিবেক ছাড়া কেউ আপনার স্থায়ী সঙ্গী নয়।
২০. একাকীত্ব হলো আত্মার সাথে এক গভীর সংলাপ। এই সংলাপে কোনো মিথ্যে নেই, কোনো কৃত্রিমতা নেই—আছে শুধু শুদ্ধ আভিজাত্য।
মায়ার বাঁধন ও নির্লিপ্ততা
১. মায়ার বাঁধন হলো সেই অদৃশ্য সুতো, যা আমাদের শিকল পরায়। অথচ নির্লিপ্ততা হলো সেই ডানা, যা আমাদের মুক্তি দিয়ে আকাশের নীলিমায় উড়তে শেখায়।
২. মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকুক গভীর, কিন্তু মোহ যেন না হয় অন্ধ। নদীর মতো বয়ে চলতে শিখুন, যা সবাইকে ছুঁয়ে যায় কিন্তু কাউকে ধরে রাখতে গিয়ে নিজে থেমে থাকে না।
৩. পদ্ম পাতার ওপর টলটলে জল যেমন তাকে স্পর্শ করেও ভেজাতে পারে না, তেমনি পৃথিবীর সব শোক আর আনন্দকে আলিঙ্গন করুন, কিন্তু তাদের ভেতরে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না।
৪. আমরা যাকে মায়া বলি, আসলে তা আমাদের না পাওয়ার ভয়। এই ভয় থেকে যখনই আপনি মুক্ত হতে পারবেন, তখনই জীবনের আসল স্বাধীনতা খুঁজে পাবেন।
৫. পৃথিবী থেকে কিছুই সঙ্গে যাবে না জেনেও আমরা আঁকড়ে ধরি। হাত মুঠো করলে যেমন বাতাস ধরা যায় না, হাত খুলে দিলেই বরং আপনি পুরো আকাশটাকে অনুভব করতে পারবেন।
৬. মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার অর্থ প্রিয়জনকে ত্যাগ করা নয়, বরং তাদের ওপর নিজের প্রত্যাশার বোঝা কমিয়ে দেওয়া। প্রত্যাশাহীন ভালোবাসা হলো সবচেয়ে বড় নির্লিপ্ততা।
৭. প্রতিটি মানুষ এক একটি স্টেশন, কেউ স্থায়ী গন্তব্য নয়। জীবন ট্রেনটিকে সচল রাখতে শিখুন; স্মৃতিকে সম্মান দিন, কিন্তু আসক্তিতে আটকে পড়বেন না।
৮. নির্লিপ্ততা কোনো উদাসীনতা নয়, এটি হলো এক গভীর বোধ। যখন আপনি বুঝতে পারেন যে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়, তখন আপনি প্রতিটি মুহূর্তকে আরও বেশি উপভোগ করতে পারেন।
৯. মায়ার মরীচিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে থামতে হয়, নির্লিপ্ত হতে হয়—যাতে নিজের ক্লান্ত আত্মাকে চেনা যায়।

১০. বাগান সুন্দর হয় ফুলের ঘ্রাণে, কিন্তু ফুল ঝরে গেলে গাছ যেমন বিষণ্ণ হয় না, আপনিও জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিতে তেমন অটল থাকতে শিখুন।
১১. অনেক কিছু থাকার চেয়ে কিছু না পাওয়ার শান্তিতে অনেক বেশি মাধুর্য আছে। এই মায়াহীন প্রশান্তিই আপনাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
১২. মায়া আমাদের অতীত আর ভবিষ্যতে বন্দি করে রাখে। আর নির্লিপ্ততা আমাদের বর্তমানের মাটির ওপর দাঁড়িয়ে প্রাণভরে শ্বাস নিতে শেখায়।
১৩. পৃথিবীর সব সম্পর্কের মাঝে থেকেও নিজের জন্য একটা নির্জন কোণ রাখুন। সেখানে আপনি কারো বাবা, মা বা সন্তান নন—সেখানে আপনি শুধু এক মুক্ত আত্মা।
১৪. মানুষের রুক্ষ আচরণ বা অবহেলায় কষ্ট পাওয়া কমিয়ে দিন। মনে রাখবেন, যা আপনার মায়ায় নেই, তা আপনাকে আঘাত করার ক্ষমতাও রাখে না।
১৫. মায়ার বাঁধনগুলো যখন খুব শক্ত হয়ে ওঠে, তখন প্রার্থনা আর ধৈর্য দিয়ে সেগুলোকে আলগা করতে হয়। মনের শান্তি বাইরে নয়, নির্লিপ্ততার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে।
১৬. ভালোবাসা আর আসক্তির পার্থক্য বুঝতে শেখাটাই হলো জীবনের বড় শিক্ষা। ভালোবাসা মুক্তি দেয়, আর আসক্তি আমাদের পঙ্গু করে দেয়।
১৭. ঝরনা যেমন পাথরকে আঁকড়ে ধরে থাকে না, তেমনি জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোকে প্রবাহের সাথে ছেড়ে দিন। আপনার জীবন হোক স্বচ্ছ ও গতিশীল।
১৮. নির্লিপ্ত মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী। কারণ তাকে হারানোর ভয় দেখিয়ে কেউ কখনও পরাজিত করতে পারে না।
১৯. আমরা যাদের মায়ায় বুক বাঁধি, তারা আসলে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে আসে। এই পরীক্ষায় পাশ করার একমাত্র উপায় হলো মায়াকে ছাপিয়ে নিজের সত্তাকে ভালোবাসা।
২০. জীবনের গোধূলি বেলায় পৌঁছে যখন পেছনে তাকাবেন, তখন দেখবেন—যেসব মায়ার জন্য আপনি কেঁদেছিলেন, নির্লিপ্ততা সেগুলোকে এখন সুন্দর এক স্মৃতিতে বদলে দিয়েছে।
ত্যাগের সুবাস
১. ত্যাগের কোনো ভাষা নেই, আছে শুধু এক স্বর্গীয় সুবাস। একটি মোমবাতি যেমন নিজেকে পুড়িয়ে ঘরকে আলোকিত করে, প্রকৃত ত্যাগী মানুষও নিজের সুখে অন্যের মুখে হাসি ফোটায়।
২. মানুষ বাঁচে তার কর্মে, ভোগে নয়। ত্যাগের আঙিনায় যখন আপনি নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেন, তখনই আপনার মানবিক সত্তা পূর্ণতা পায়।
৩. ত্যাগের সৌন্দর্য হলো এটি কখনো ফুরিয়ে যায় না। আপনি যা বিলিয়ে দেন, তা-ই আপনার চিরস্থায়ী সম্পদ হয়ে থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে।
৪. বৃক্ষ যেমন ফল দিয়ে নিজে ক্ষুধার্ত থাকে না, বরং বনের শোভা বাড়ায়; মানুষও তেমন ত্যাগের মাধ্যমেই তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারে।
৫. ত্যাগের সুবাস চন্দনের মতো—যতই ঘষা খাক, ততই তার সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিকূলতা ত্যাগের মহিমাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
৬. অন্যের চোখের জল মোছাতে পারার নামই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ সার্থকতা। আপনার একটি ছোট্ট ত্যাগ কারো অন্ধকার জীবনে আলোর উৎস হতে পারে।
৭. ত্যাগের জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন একটি বিশাল হৃদয়ের। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও যারা অন্যের দুঃখ ভাগ করে নেয়, তারাই প্রকৃত ঐশ্বর্যশালী।
৮. ত্যাগের সুবাস কোনো কৃত্রিম পারফিউমে পাওয়া যায় না। এটি জন্ম নেয় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর সহমর্মিতার গভীর থেকে।
৯. অধিকার ছাড়ার নামই যদি ভালোবাসা হয়, তবে সেই ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র বস্তু। ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষের অহংকার ধুয়ে মুছে যায়।
১০. প্রদীপ যেমন তেল পুড়িয়ে আলো দেয়, ত্যাগের মাধ্যমে মানুষও তার ভেতরের কালিমা দূর করে জগতের কল্যাণ বয়ে আনে।
১১. যা আপনার প্রিয়, তা অন্যকে দিয়ে দেওয়ার নামই হলো প্রকৃত ত্যাগ। ত্যাগের সুবাস আপনার চরিত্রকে করে তোলে অমলিন ও শ্রদ্ধেয়।
১২. সূর্যের তেজ যেমন ত্যাগের প্রতীক—সে নিজে জ্বলে পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখে, আপনিও তেমন ত্যাগের দীপ্তিতে চারপাশকে উদ্ভাসিত করুন।
১৩. ত্যাগের কোনো বিনিময় হয় না। যখন আপনি বিনিময় ছাড়াই কিছু দেন, তখনই সেই দানের সুবাস আকাশে-বাতাসে অনুরণিত হয়।
১৪. স্বার্থপরতা মানুষকে ছোট করে, আর ত্যাগ মানুষকে দেবত্বের কাছাকাছি নিয়ে যায়। ত্যাগের পথটি কঠিন হলেও এর শেষটি অত্যন্ত প্রশান্তির।
১৫. আমরা যা ধরে রাখি তা আমাদের সাথে যায় না, কিন্তু যা ত্যাগ করি তা পরকালেও আমাদের ছায়া হয়ে থাকে। ত্যাগের সুবাসই অমরত্বের চাবিকাঠি।
১৬. নদী যেমন তার জল নিজে পান করে না, ত্যাগের সুবাসে ভরা মানুষও নিজের আগে অন্যের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে।

১৭. কষ্টের বিনিময়ে পাওয়া হাসিতে যে তৃপ্তি আছে, তা পৃথিবীর কোনো বিলাসিতায় নেই। ত্যাগের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।
১৮. নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে অন্যের স্বপ্ন পূরণ করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহানুভবতা। এই ত্যাগের কোনো তুলনা হয় না।
১৯. ত্যাগের সুবাস হলো এমন এক নীরব বিপ্লব, যা কোনো শব্দ ছাড়াই মানুষের মন জয় করে নিতে পারে। এটি ঘৃণাকে ভালোবাসায় বদলে দেয়।
২০. দিনশেষে ত্যাগের খাতায় আপনার কতটুকু জমা হলো, সেটাই আপনার আসল পরিচয়। ত্যাগের মাধ্যমেই প্রতিটি মানুষ এক একটি পদ্ম হয়ে ফুটে ওঠে।
ধৈর্যের নীলিমা
১. ধৈর্য মানে কেবল বসে থাকা নয়, ধৈর্য হলো অন্ধকারের মাঝেও ভোরের আলোর প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখা। আকাশের নীলিমা যেমন মেঘের আড়ালে হারিয়ে যায় না, আপনার সাফল্যও তেমনই অপেক্ষায় আছে।
২. পাথরের ওপর জলের ফোঁটা যখন বছরের পর বছর পড়ে, তখন পাথরও নতি স্বীকার করে। মানুষের ধৈর্যও ঠিক তেমনই—এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিকেও নরম করে দেয়।
৩. জীবনের ঝোড়ো হাওয়ায় যখন সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, তখন ধৈর্যের নোঙরটি শক্ত করে ধরুন। মনে রাখবেন, শান্ত সমুদ্র কখনো দক্ষ নাবিক তৈরি করতে পারে না।
৪. ধৈর্যের নীলিমা হলো সেই প্রশান্তি, যা মানুষকে অভিযোগহীন হতে শেখায়। কষ্টের দিনে যে নিরবতা বজায় রাখে, সুখের দিনে তার হাসি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়।
৫. একটি বীজকে বৃক্ষ হওয়ার জন্য মাটির নিচে দীর্ঘ সময় অন্ধকারে অপেক্ষা করতে হয়। আপনার বর্তমান সংগ্রাম আসলে আপনার ভবিষ্যতের সুউচ্চ শিখরে পৌঁছানোর প্রস্তুতি।
৬. সময় বড় নিষ্ঠুর মনে হতে পারে, কিন্তু সময় কখনো শ্রেষ্ঠ কারিগরের মতো ধৈর্যশীল মানুষকে নিখুঁত করে গড়ে তোলে। ধৈর্যের ফল মিষ্টি নয়, বরং তা হয় জীবনজয়ী।
৭. মানুষের দেওয়া আঘাতগুলো হাসিমুখে সহ্য করা দুর্বলতা নয়, এটি হলো ধৈর্যের এক সর্বোচ্চ আভিজাত্য। এই নীলিমা আপনার আত্মাকে আকাশসম বিশাল করে তোলে।
৮. ধৈর্য হলো আত্মার বর্ম। এটি আপনাকে ক্রোধ আর ঘৃণার তীরের হাত থেকে রক্ষা করে এবং অন্তরে এক অলৌকিক শান্তি এনে দেয়।
৯. নদীর মোহনায় পৌঁছাতে যতটা বাঁক নিতে হয়, জীবনের লক্ষে পৌঁছাতে ততটা সবর করতে হয়। এই সবরই হলো আপনার ব্যক্তিত্বের অলঙ্কার।
১০. নীল আকাশ যেমন বিশাল শূন্যতা নিয়েও সুন্দর, ধৈর্যশীল মানুষও তেমন অনেক না পাওয়ার বেদনা নিয়েও অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও মোহনীয়।
১১. প্রার্থনা আর ধৈর্যের মিশেলে যে শক্তি তৈরি হয়, তা পাহাড়কেও সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ধৈর্য হলো বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
১২. আপনি যখন ধৈর্যের নীলিমায় হারিয়ে যান, তখন বাইরের কোলাহল আপনার মনে কোনো দাগ কাটতে পারে না। আপনি তখন নিজের ভেতরেই এক শান্ত পৃথিবীর দেখা পান।
১৩. তাড়াহুড়ো করে আপনি হয়তো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, কিন্তু যাত্রার সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনাকে ধৈর্যের ধীরস্থির পায়ে হাঁটতে হবে।
১৪. জীবনের প্রতিটি ‘না’ আসলে আপনাকে আরও বড় কোনো ‘হ্যাঁ’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু সময়ের সঠিক বিন্যাস বোঝার মতো ধৈর্যটুকু থাকা চাই।
১৫. ধৈর্য হলো আগুনের মতো—যা আপনার ভেতরের অশুচিকে পুড়িয়ে আপনাকে খাঁটি সোনায় পরিণত করে। কষ্টের শেষে এই নীলিমাই আপনার চিরস্থায়ী সুখ।
১৬. যে মানুষটি ধৈর্য ধরতে জানে, পুরো পৃথিবী তার জন্য পথ ছেড়ে দেয়। প্রকৃতি আমাদের শেখায় যে, বসন্ত আসার জন্য শীতকে নীরবে সহ্য করতেই হয়।
১৭. অন্যের ভুলকে ক্ষমা করার জন্য যে ধৈর্যের প্রয়োজন, তা সবার থাকে না। যার হৃদয়ে ধৈর্যের নীলিমা আছে, সেই কেবল প্রকৃত ক্ষমা করতে জানে।
১৮. নিজের ক্রোধকে গিলে ফেলার নামই ধৈর্য। এই নীরবতা কোনো পরাজয় নয়, বরং এটি হলো নিজের ওপর নিজের শ্রেষ্ঠ নিয়ন্ত্রণের বিজয়।
১৯. ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলের জন্য শান্ত মনে অপেক্ষা করাই হলো প্রকৃত ধৈর্য।

২০. দিনশেষে আকাশ যেমন রক্তিম আভা ছেড়ে নীল শান্ত রূপ নেয়, মানুষের জীবনও তেমন ধৈর্যের পথ ধরে পরম প্রশান্তির এক নীলিমায় গিয়ে মেশে।
নম্রতা ও অহংকারহীনতা
১. নম্রতা কোনো দুর্বলতা নয়, এটি হলো এক গভীর আত্মিক শক্তি। যত বেশি উঁচুতে উঠবেন, তত বেশি মাটির দিকে নুয়ে থাকতে শিখুন; কারণ শিকড় মাটিতে থাকলেই বৃক্ষ ঝড়ের মুখেও টিকে থাকে।
২. পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিসগুলো খুব সাধারণ হয়। হিরে চিৎকার করে না, বরং নিশ্চুপ থাকে; তেমনি প্রকৃত মানুষ তার অহংকার নয়, বরং তার আচরণ দিয়েই পরিচিত হয়।
৩. অহংকার হলো সেই পর্দা যা মানুষকে নিজের দোষ দেখতে দেয় না। আর নম্রতা হলো সেই আলো যা নিজের ভুলগুলোকে চিনে নিয়ে পরিশুদ্ধ হতে সাহায্য করে।
৪. আকাশ যতই বিশাল হোক, তার ছায়া কিন্তু পথের ধুলোতেই পড়ে। আপনার জ্ঞান যতই বিশাল হোক না কেন, তার সার্থকতা থাকবে যদি আপনি সাধারণ মানুষের কাছে নুয়ে থাকতে পারেন।
৫. নদীর জল যত নিচে থাকে, তত বেশি সে সাগরকে কাছে পায়। অহংকার মানুষে মানুষে দেওয়াল তৈরি করে, কিন্তু নম্রতা সেই দেওয়াল ভেঙে মনের মিলনে সেতু তৈরি করে।
৬. সম্মান ভিক্ষা করে পাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয়। আপনার বিনীত আচরণ কথার চেয়েও জোরে বলে, যা মানুষের হৃদয়ে আপনার জন্য সম্মানের আসন তৈরি করে দেয়।
৭. পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিজয় হলো নিজের অহংকারকে পরাজিত করা। যে মানুষ নিজেকে খুব বড় মনে করে না, পৃথিবী তাকেই সবচেয়ে বড় বলে স্বীকৃতি দেয়।
৮. নম্রতা হলো মনের একটা পরিষ্কার আয়না, যেখানে কোনো জটিল ধার নেই, আছে শুধু স্নিগ্ধতা। এই স্নিগ্ধতাই মানুষকে অন্যের কাছে আপন করে তোলে।
৯. ফুল যখনই ফুটে ওঠে, সে তার মাথা একটু নুয়ে রাখে। প্রতিটি সফলতা যেন আপনাকে আরও বেশি বিনয়ী করে তোলে, যেন আপনার ভেতরে অহংকারের আগুন জ্বলতে না পারে।
১০. যাদের ভেতরে কিছু নেই, তারাই বেশি শব্দ করে। প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ যেমন নিস্তব্ধ হয়, তেমনি বিনীত মানুষ তার কাজের মাধ্যমেই বিশ্ব জয় করে।
১১. অহংকার হলো এক ধরনের মানসিক কষ্ট, যা মানুষকে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর বিনয় হলো সেই মলম যা আপনাকে মানুষের হৃদয়ের কাছে নিয়ে যায়।
১২. পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণাও আমাদের চেয়ে পুরনো। তাই কিসের এত অহংকার? মাটির মানুষ হয়ে মাটির কাছাকাছি থাকার মাঝেই প্রকৃত মানবিকতা লুকিয়ে আছে।
১৩. নম্রতা হলো সেই ভাষা যা বধিরও শুনতে পায় এবং অন্ধও দেখতে পায়। এটি এক ধরনের অবিরাম জাদু, যা শত্রুকেও বন্ধুতে রূপান্তরিত করে।
১৪. সফলতা আপনার পকেটে থাকুক, মাথায় নয়। মাথায় সফলতা চাপা মানে অহংকারের জন্ম দেওয়া, যা আপনার পথ চলাকে একদিন থামিয়ে দেবে।
১৫. ক্ষমা করার জন্য অসীম বিনয়ের প্রয়োজন। যে মানুষ অহংকারহীন, সে-ই কেবল অন্যের ভুলকে নিজ গুণে ক্ষমা করে আন্তরিক শান্তি খুঁজে পায়।
১৬. অন্যের ভালো দিকগুলো দেখতে হলে নিজের অহংকারের চশমা খুলে ফেলতে হয়। নম্রতা আপনাকে সেই দৃষ্টি দেয় যেখানে প্রতিটি মানুষকেই সম্মানের যোগ্য মনে হয়।
১৭. সাগরের জলের মতো শান্তি থাকুক আপনার ভেতরে। উপরে যতই ঝড় হোক, গভীরে থাকুক নিশ্চুপ বিনয়। এই বিনয়ই আপনার প্রকৃত ঘর।
১৮. অহংকার মানুষকে উপর থেকে নিচে নামিয়ে দেয়, আর বিনয় মানুষকে নিচের থেকে উপরের শিখরে নিয়ে যায়। পথ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব কেবল আপনার।

১৯. মানুষের কাছে নুয়ে থাকা মানে হার মেনে নেওয়া নয়। এটি হলো এক ধরনের উদারতা, যা কেবল মহৎ হৃদয়ের মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
২০. দিনশেষে আমাদের সবার ঠিকানা মাটির নিচে। তাই জিন্দা থাকতে অহংকারহীন ভাবে বাঁচাই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সার্থকতা।