জান্নাত বা বেহেশত নিয়ে উক্তি

জান্নাত বা বেহেশত নিয়ে উক্তি সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত হাদিস কিছু কথা ও লেখা । প্রিয় বন্ধুরা, আজকে আমরা জান্নাত সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের উক্তি নিয়ে হাজির হয়েছি। আল্লাহর তৈরি জান্নাত প্রত্যক মুমিনেরই চরম চাওয়া থাকে। জান্নাত এমন জিনিসে পরিপূর্ণ যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি এবং কারো মন কখনও অনুভব করে নি। যেটা কিনা দুনিয়ার লোভ-লালসা ও মোহ থেকে বের হয়ে আসলেই পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা আমাদের গাফিলতির কারণে বেহেশত থেকে অনেক দূরে আছি। তবে, আশা করছি আজকের জান্নাত নিয়ে উক্তি গুলো আপনাকে জান্নাত লাভে বেশ অনুপ্রাণিত করবে।

জান্নাত বা বেহেশত নিয়ে উক্তি :

জান্নাতে আল্লাহকে দেখা। এটাই সাফল্যের চরম সংজ্ঞা। -আসাদ মিয়া

জান্নাত তওবাকারী পাপীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। -সংগৃহীত

জীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু জান্নাত চিরকালের। -সংগৃহীত

এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজুন যে আপনাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। -সংগৃহীত

রমজান শুরু হলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। -আল বুখারীঃ ১৮৯৮

জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুর কাছে নিজের বিবেক বিক্রি করো না। -সংগৃহীতজান্নাত বা বেহেশত নিয়ে উক্তি হাদিস আয়াত

যার শেষ কথা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -আবু দাঊদ

জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুর পেছনে তাড়া করার জন্য জীবন খুব ছোট। -বুনা মোহাম্মদ

স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে সে স্ত্রী মারা যাবার পরে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -ইবনে মাজাহ

যারা জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী তারা অনন্তকাল সেখানে থাকবে। -সূরা মুমিনুনঃ১১

সত্যিকারের ভালবাসা হলো একে অপরকে জান্নাত লাভে সাহায্য করা। -সংগৃহীত

আরো আছেঃ আখিরাত বা পরকাল নিয়ে উক্তি

দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফেরদের জন্য জান্নাত। -হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

জান্নাতে না পৌঁছা পর্যন্ত নিজেকে নিয়ে অহংকার করো না। -সংগৃহীত

আপনার বাবা মা বেচে থাকলে তাদের সেবা করে জান্নাত অর্জন করে নিন। -নোমান আলী খান

জান্নাত এমন একটা জায়গা যেখানে দুঃখ-কষ্ট বলতে কিছু নেই যা চিরস্থায়ী সুখের জায়গা। -সংগৃহীত

একজন মুমিন বান্দার জন্য জান্নাত ব্যতীত আমার আর কোন প্রতিদান নেই। -আল-বুখারী

যার অন্তরে সরিষার দানার পরিমাণও অহংকার আছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে না। -তিরমিজীঃ১৯৯৮

যে ব্যক্তি দুটি শীতল সালাত (আসর ও ফজর) পড়বে সে জান্নাতে যাবে। -সহীহ আল-বুখারী

যখন আপনার মা আপনাকে ডাকে তখন কল্পনা করুন জান্নাত আপনাকে ডাকছে। -সংগৃহীত

যে ব্যক্তি জ্ঞানের সন্ধানে বের হয় তার জন্য আল্লাহ জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। -আবু হুরায়রা (রাঃ)

যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাত চায়, জান্নাত বলেঃ হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। -তিরমিযীঃ২৫৭২

যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে ১২ রাকাত নামাজ পড়বে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। -সুনানে নাসায়ী

যারা অভাবগ্রস্তদের যত্ন নেয় তাদের নবী (সাঃ) এতটাই পছন্দ করেন যে তিনি জান্নাতে তাদের সঙ্গী হবেন। -সংগৃহীত

প্রকৃতপক্ষে, সত্যবাদিতা ধার্মিকতার দিকে নিয়ে যায় এবং ন্যায়পরায়ণতা জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। -সহীহ আল-বুখারী

কোরআন ও হাদীসের বাণীঃ

যে ব্যক্তি তার অন্তর থেকে মুয়াজ্জিনের পরে আযানের শব্দ পুনরাবৃত্তি করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সুনানে নাসায়ী

জান্নাতে এমন কিছু থাকবে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কখনও উপলব্ধি করতে পারেনি। -বোখারী

যে মহিলা একেবারে কোনো কারণ ছাড়ায় তার স্বামীর কাছে তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে। -ইবনে মাজাহঃ২০৫৫

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, জান্নাতের বাগান তথা জান্নাতুল ফেরদাউস তাদের মেহমানদারি করবে। -সূরা কাহফঃ১০৭

যে ব্যক্তি “সুবহানাল্লাহ আল-আযিম ওয়া বিহামদিহি” বলবে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হবে। -জামে আত-তিরমিযী

যে আল্লাহর নিরানব্বইটি নামের অর্থের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সে অনুযায়ী আমল করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহীহ আল-বুখারী

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ স্থান নির্মাণ করবেন। -সহীহ আল-বুখারী

জান্নত হলো চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের অনন্তকালের একটি বাগান যার দরজা সবসময় মুত্তাকীদের জন্য খোলা থাকবে। -সূরা সাদঃ৪৯-৫০

কোনো ভাল কাজকে কখনই ছোট করবেন না, কারণ আপনি জানেন না কোন হাসানাহ আপনার জান্নাতের টিকিট হবে। -মুহাম্মদ নুসাইর

অহংকার এবং গর্ববোধ ছিল শয়তানকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করার কারণ। সুতরাং জান্নাতে প্রবেশ না করার কারণ এগুলো হতে দিও না। -বিলাল ফিলিপস

যে ব্যক্তি প্রত্যেক সকালে এবং বিকালে জামাতে নামাজের জন্য মসজিদে যায় আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি সম্মানজনক স্থান প্রস্তুত করবেন। -সহীহ আল-বুখারী

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনে এবং নামায কায়েম করে এবং রমযান মাসে রোযা রাখে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। -সহীহ আল-বুখারী

নিজের স্ত্রীকে একদম নিখুঁত হওয়ার আশা করবেন না। তিনি দুনিয়ার সংস্করণ। তাদের উত্তম বা পারফেক্ট সংস্করণ জান্নাতে সংরক্ষণ করা আছে। -ইয়াসমিন মোগাহেদ

যে ব্যক্তি বলে; আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, ইসলামকে আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাঃ) -কে আমার নবী হিসেবে নিয়ে সন্তুষ্ট, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। -সুনানে আবু দাউদ

আমরা দুনিয়ার ভোগ বিলাসের জন্য দোয়া করি। যখন রহমতের দরজা খোলা হয় না তখন আমরা কান্নায় ভেঙে পড়ি। আমরা বুঝি না আমাদের জন্য আল্লাহ জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছেন। -ইয়াসমিন মোগাহেদ

প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং শুধুমাত্র কেয়ামতের দিনই তোমাদের পারিশ্রমিক সম্পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে। আর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে প্রকৃতপক্ষে সফলকাম। -সূরা ইমরানঃ১৮৫

জান্নাত আমাদের আসল বাড়ি, এই দুনিয়া নয়। মুমিনদের জন্য এই দুনিয়া পরীক্ষার মতো। যারা সৎ কাজ তথা ভালো কাজ করবে বিনিময়ে তারা জান্নাত পাবে। সুতরাং দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে জান্নাত লাভে সচেষ্ট হবেন। আর জান্নাত নিয়ে বাণীগুলো আপনাদের ভালো লাগলে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x