অপেক্ষা নিয়ে কবিতা

অপেক্ষা নিয়ে কবিতা গুলো দিলাম আপনাদের জন্য । কবিতা গুলো লিখেছেন কাজী মোঃ জয়নাল আবেদীন । এখানে দুটি কবিতা দেখতে পাবেন । দুটি কবিতাই খুব সুন্দর । আমার কাছে পরে ভালো লেগেছে । তাই আশা করি আপনাদের কাছেও ভালো লাগবে । তো চলুন তাহলে পড়ে নেয়া যাক ।অপেক্ষা নিয়ে কবিতা

অপেক্ষা নিয়ে কবিতা ১ঃ

এই নিশিতে হৃদকমলে যে ঝরে শোকের পাতা
এই অপেক্ষার প্রহরে যন্ত্রণার নহরে যে বিষে বাড়ে হৃদয়ের ব্যাথা।
অপেক্ষা প্রহর জমাট বাধা হৃদয়ে
বিষাদের পোকারা হৃদয়ের বাম অলিন্দ নিলয়ে
রোজ টুকরে টুকরে খায় আমার অনুভূতিগুলোকে।
নিষ্প্রতিভ মরীচিকাময় প্রেমাষ্পদের প্রান্তরে
সহস্রাংশ লোকের ভীড়ে,
প্রিয়’র শোকে চোখ জ্বলে খুব যতনে।
কেন যে হৃদয় হলো মরুময়, তপ্ত দাবানলে পুড়েছি দিবানিশি
মেঘেদের কোলাহলে নিজেরে সঁপেছি তোমার নামে।
এই শূন্যপথে দিগন্ত মাড়িয়ে চলার সঙ্গী পাইনি আজও
গোধূলির আলোয় রংচটা কোন চেহেরায় পাইনি আজও উষ্ণতা।
নিয়ন বাতির ঝলাসানিতে নেত্রখানি কাউকে আর খুঁজে না,
রাত-বিরেতে প্রেম-প্রণয়ের গল্পটা আর চলে না।
কতো আষাড়ের ব্যাঙের গোঙানি থেমে
শ্রাবণের ধারায় ফুটিল বর্ষার প্রেমিক কদম,
শরতে সাদা মেঘের উঁকিঝুঁকিতে কদমগুচ্ছও গেল হারিয়ে,
তবুও কেন আজও রাখলে মোরে তোমার অপেক্ষাতে।
প্রণয়েও সুর বাজে, হৃদয়ও হার না মানে
তবু কেন বিষাদ ছেড়ে বিরহ বাড়ে,
কত রেল জংশনে
বিরহ ব্যাথায় ভুগে বসেছি তোমার অপেক্ষাতে,
নয়নযুগল হয়েছে ব্যর্থ, তুমি আর আসলে না অবশেষে।
প্রচণ্ড শীতের শেষে, চৈত্রের খরতাপ কাটিয়ে
কৃষ্ণচূড়া হাসে মৃদুমন্দে দোলে
অতঃপর কোকিলের ডাক শুনে, রক্তকরবীর ঘ্রাণে
লাগিলো যে যে ঘোর, সে ঘোর কাটিল আনমনে।

Read More  বাংলা কবিতা-থাকো নমনীয়-অভিজিৎ

কবিতা ২ঃ

অভিমানে বুক জ্বলে গিয়ে
এখনো কি চোখ ভাসে নিরবে?
কতখানি বিষাদ জমলে বুকে আগলে রাখা
হাত ছেড়ে যায় অন্য কোনখানে?
জ্যোৎস্না ভরা রাতে হাড়কাঁপানো শীতে
শিশিরের মুক্তোঝরানো শুভ্রতার পরশে যেসব তারকারাজিরা ছুটতো নীল আসমানে,
সেসব গেল কই? হারালো কই?
বলেছে কি তারা ফিরবে আবার কবে?
এই যে আমাদের দেখা হয় না
হয় না কথা কারও সনে,
রাত নামলেই বাড়ে ব্যথা
লোকে ভাবে আমরা আছি প্রহসনে।

উড়িয়েছি নীল খামে হৃদয়ের কতো শোকগাথা
বাজিয়েছি কতো বীণা বিষাদের,
পেয়েছো সেই সব দিনের চিঠি?
দেখেছো কি খুলি, কত অনুভূতি
জমা বুকে প্রেয়সীর লাগি।
কি যে যাতনে করিত ক্রন্দন
এক চাতক পাখি
বিরহের ঘাটে ভীরে,
ধরিত গান বেহুলা সুরে,
করিত গান আমমনে।
ভর দুপুরে তপ্ত রোদে ক্লান্ত পথিক দৌড়ায়
কার খুঁজে?
আমি-তুমি বন্দী নাবিক
স্মৃতির কারাগারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x