বিজ্ঞান মেলা রচনা

বিজ্ঞান মেলা রচনা

ভূমিকাঃ “মেলা” শব্দের অর্থ হচ্ছে মিলন। মানুষের সাথে মানুষের, লােকশিল্পের সাথে জীবনের এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে হৃদয়ের যে মিলন তারই নাম মেলা। মেলা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। ধর্মীয় উৎসবের মেলা, বৈশালী মেলা, পৌষ মেলা, বই মেলা, বিজ্ঞান মেলা ইত্যাদি। মেলার মাধ্যমে যে কোন একটা বিষয় খুব দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।বিজ্ঞান মেলা হলো এমন একটি মেলা যেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি পন্য প্রদর্শন করা হয়।এবং এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে নতুন নতুন বিজ্ঞানের আবিষ্কার দেখার জন্য।

বিজ্ঞান মেলা কি : যে মেলায় বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের বিষয়গুলাে উপস্থাপন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের তৈরি প্রযুক্তির প্রদর্শনী করা হয় তাকে বিজ্ঞান মেলা বলে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন সৃষ্টিশীল কর্মগুলাে বিজ্ঞান মেলায় স্থান পায়। বিজ্ঞানের এই সৃষ্টিগুলাের সাথে মানুষের পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যই বিজ্ঞান মেলা করা হয়।এর ফলে একদিকে যেমন মানুষের বিজ্ঞান সমন্ধে ধারনা জন্মায় তেমনি তারা এর প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হয়।

বিজ্ঞান মেলার উদ্দেশ্য : আধুনিক কালে বিজ্ঞান একটি বিস্ময়। এই বিস্ময়কে জানার আগ্রহ মানুষের অনেক দিনের।বিজ্ঞানের সব আবিষ্কার আমাদের জীবনকে করে তুলেছে আরো আরামপ্রদ এবং সুখী।বিজ্ঞান মেলার ফলে মানুষের এর প্রতি যেমন আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।তেমনি মানুষের মাঝে বিজ্ঞানের জ্ঞান কে বিকশিত করা এর একটি অন্যতম প্রধান উদ্যেশ্য।এছাড়া মানুষের জীবনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পৃক্ততা কতখানি তা প্রকাশ করাই বিজ্ঞান মেলার উদ্দেশ্য।

Read More >>  সময়ের মূল্য রচনা

বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব : বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব আমাদের প্রাত্যহিক জিবনে অনেক।কারন বিজ্ঞানের সবগুলাে আবিষ্কারই মানব কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়।বিজ্ঞান আমাদের জিবনকে করে তুলেছে আরো সাচ্ছন্দ্য ময় এবং আমাদের প্রতিদিনের কাজকে করে তুলেছে সহজ। বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে মানুষ বিজ্ঞানের কল্যাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।এবং এর ফলে বিজ্ঞানের আবিষ্কার আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা জানতে পারা সম্ভব এই বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে। উন্নত বিশ্বের লােক সর্বদা এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলাে বিজ্ঞানের।এর দ্বারা মানুষ খুব স্বল্প সময়ে অধিক কার্য সম্পাদন করতে সক্ষম। যার ফলে তারা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান মেলায় এই সব তথ্য প্রকাশের মাধ্যম আছে।যার মাধ্যমে মানুষ এসক বিপ্লব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পায়।এবং এর ফলে জনগণ বিজ্ঞান সচেতন হতে পারে এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাদের আস্থা বাড়াতে পারে।এবং তাদের প্রত্যহিক জীবনের সকল কাজে বিজ্ঞানের ছোয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে পারে এবং তাদের সকল কাজকে বিজ্ঞান আরো কতটা সহজ করে দিতে পারে তা তারা জানতে পারে।আর এ কারনেই বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে থাকে।

Read More >>  ডিজিটাল বাংলাদেশ রচনা

বিজ্ঞান মেলার প্রয়ােজনীয়তা : বিজ্ঞান মেলা সাধারণত স্কুল-কলেজে করা হয়ে থাকে। স্কুল-কলেজ গামি ছাত্র ছাত্রীর মানসিকতায় বিজ্ঞানের এই সব কর্মকান্ড রেখাপাত করে, ফলে তাদের মন হয় উর্বর এবং উৎপাদনমুখী। তবে বিজ্ঞান মেলা শুধু স্কুল-কলেজে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না এর প্রসার ঘটাতে হবে এবং এর মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।সারা দেশ ব্যাপি বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করে দেশের সর্ব স্তরের মানুষকে বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারনা প্রদান করা উচিত।সভ্যতার পাশাপাশি বিজ্ঞানের অবদান সম্পর্কে ধারণা প্রকাশ করতে বিজ্ঞান কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে দেশের মানুষকে জানতে আগ্রহী করে তোলে।

বিজ্ঞান মেলার ভূমিকা : একসময় মানুষ কাঁচা মাংস খেত।বাস করলে বনে জঙ্গলে পাহাড়ের গুহায়। রোগে আক্রান্ত হলে ছিল না কোন ঔষধ। ঝড় বৃষ্টিতে মাথা গোজার মত ঠাঁই ছিল না।মানুষ অকালে মৃত্যু বরন করতো। সেদিন মানুষ তার মৌলিক চাহিদা সম্পর্কে সচেতন ছিল না। কিন্তু ক্রমবিকাশের মাধ্যমে মানুষ সভ্য হতে শিখেছে। মানুষ সমাজ বদ্ধ হয়ে বসবাস করতে শিখেছে, শিখেছে হিংস্র পশুর হাত থেকে আত্ম রক্ষা। রোগ নিরাময়ের জন্য তৈরি করেছে ঔষধ।আবিষ্কার করেছে উড়ােজাহাজ, বিদ্যুৎ, টি.ভি. গাড়ি, মোবাইল ফোন । তাছাড়া বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগান্তকারী আবিষ্কার কম্পিউটার। এসব সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানের মাধ্যমে। এই ধারণাগুলাের পরিস্ফুটন ঘটাতে হবে বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে।

Read More >>  ছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য রচনা

উপসংহার : জাতিকে উন্নতির সুউচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে বিজ্ঞানের বিকল্প নেই। এই বিজ্ঞানের প্রসারের মাধ্যমেই জাতির উন্নয়ন সম্ভব। তাই বিজ্ঞান মেলার আয়ােজন করে সবাইকে সচেতন করতে হবে। উৎসাহিত করতে হবে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করতে।এবং আমাদের প্রতিটি মানুষকে হতে হবে বিজ্ঞান মনস্ক।বিজ্ঞানের আদর্শে সমাজ ও দেশ গড়তে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.